যার ঝুলিতে ১০ বিশ্বরেকর্ড কনক কর্মকার।

যার গল্প বলছি, তার পুরো নাম কনক কর্মকার। লেখাপড়া করছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে, ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। মাত্র বিশ বছর বয়সেই নিজের নাম লিখিয়েছেন গিনেজ বিশ্ব রেকর্ডে।

এক-দু’বার নয়, মাত্র এক বছরেই দশ-দশটি বিশ্বরেকর্ড গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন লাল-সবুজের বাংলাদেশের এই তরুণ। সেই হিসাবে কনক বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ গিনেস রেকর্ডধারী ব্যক্তি।

যার ঝুলিতে ১০ বিশ্বরেকর্ড কনক কর্মকার।

কনক কর্মকারের পারদর্শীতা২০১৭ সালের কথা। একদিন ইউটিউবে কনক দেখতে পান একজন ব্যক্তি হাত, পা ও মাথা দিয়ে ফুটবলকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যালেন্স করছেন। কনকেরও ইচ্ছে জাগে তেমনটি করার। কিছুদিনের মধ্যেই জানতে পারলেন ফুটবল নিয়ে এমন কসরতের নামই ফুটবল ফ্রিস্টাইল। এরপর থেকে ইউটিউবে দেখা শুরু করলেন ফুটবল ফ্রিস্টাইল ও ব্যালেন্স সংক্রান্ত নানা ভিডিও। নিজ উদ্যোগেই রপ্ত করলেন ব্যালেন্সিং কলা-কৌশল। ধীরে ধীরে অনুশীলনের মাধ্যমে একপর্যায়ে শিখে গেলেন পূর্ণাঙ্গ ফুটবল ব্যালেন্সিং কৌশল। এরপর ফুটবলকে ছাড়িয়ে গিটার, মগসহ বিভিন্ন বস্তু নিয়েও ব্যালেন্স করা শুরু করেন।

ছোটবেলা থেকেই কনক ব্যতিক্রমী কিছু করতে চেয়েছেন এবং সেসব কাজ দিয়ে বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন বিশ্ব দরবারে। সেই সুযোগ এলো ২০১৯ সালে। পূর্বে অর্জন করা ব্যালেন্সিং সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এক হাজার ১৫০টি কাগজের কাপ (গ্লাস) ৬৬ সেকেন্ড রেখে প্রথমবার গিনেস বুকে নিজের নাম লেখান। দ্বিতীয় রেকর্ডটি করেন গিটার দিয়ে।

  1. ‘Longest time balancing a guitar on forehead’ শিরোনামের এই রেকর্ডে ২৫ মিনিট কপালে গিটার ব্যালেন্স করে যুক্তরাষ্ট্রের একজনের রেকর্ড ভাঙতে সক্ষম হন কনক। এরপরই তৃতীয় রেকর্ডটি করেন বাস্কেট বল দিয়ে। ‘Most basketball neck catches in one minute’ শিরোনামের এই রেকর্ডও ছিনিয়ে আনেন একজন আমেরিকানের কাছ থেকেই। যেখানে এক মিনিটে ২৭ বারের রেকর্ড ভেঙে কনক করেন ৩৬ বার। তার সর্বশেষ করা গিনেজ রেকর্ডটি হলো হাঁটুতে ফুটবল এক মিনিটে সর্বোচ্চ বার স্পর্শ করার। দৈনিক ইত্তেফাককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কনক বলেন, ‘ভবিষ্যতে ব্যালেন্সিং ও ফুটবল দিয়ে আমি আরও অনেকগুলো রেকর্ড করতে চাই।’

 

কনকের জন্ম কুমিল্লার লাকসামে হলেও বেড়ে উঠেছেন নোয়াখালীর চৌমুহনীতে। আগামী ৫ বছরে আরও ১০০টি রেকর্ডের অধিকারী হবেন—এমনটাই স্বপ্ন দেখেন কনক।

 

Leave a Reply

Translate »