হ্যালোইন কী, কেন পালিত হয় এ উৎসব?Halloween 2022 – ইতিহাস ও তাৎপর্য

প্রতি বছরের ৩১ অক্টোবর পালিত হয় ঐতিহ্যবাহী হ্যালোইন উৎসব। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বর্তমানে পালিত হয় দিবসটি। তবে পশ্চিমা বিশ্বে জাঁকজমকতার সঙ্গে পালন করা হয় হ্যালোইন। তবে অনেকেরই হয়তো ধারণা নেই আসলে কী এই হ্যালোইন!

জানলে অবাক হবেন, এই ভুতুড়ে উৎসবের ইতিহাস ২০০০ বছরেরও বেশি পুরোনো। অনেকেই ভাবেন, এ দিনটি হয়তো ভূতের মতো সাজতেই পালন করা হয়। আসলে মৃত আত্মাদের স্মরণে পালন করা হয় দিনটি। হ্যালোইন ডে’র ইতিহাস জানলে আপনি চমকে উঠবেন!

হ্যালোইন শব্দের উৎপত্তি ১৭৪৫ সালের দিকে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে এর উৎপত্তি। হ্যালোইন’ বা ‘হ্যালোউইন’ শব্দটি এসেছে স্কটিশ ভাষার শব্দ ‘অল হ্যালোজ’ ইভ থেকে। হ্যালোইন শব্দের অর্থ ‘শোধিত সন্ধ্যা বা পবিত্র সন্ধ্যা’।

সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়ে ‘হ্যালোজ’ ইভ’ শব্দটি এক সময় ‘হ্যালোইন’এ রূপান্তরিত হয়। হ্যালোইন উৎসবের মূল থিম হলো, ‘হাস্যরস ও উপহাসের মাধ্যমে মৃত্যুর ক্ষমতার মুখমুখি হওয়া’।

 

প্রায় ২০০০ বছর আগে বর্তমান আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও উত্তর ফ্রান্সে বসবাস করতো কেল্টিক জাতি। নভেম্বরের প্রথম দিনটি তারা নববর্ষ বা ‘সাহ-উইন’ হিসেবে পালন করতো। গ্রীষ্মের শেষ ও অন্ধকার বা শীতের শুরু বলে মনে করতো তারা।

অবাক করা বিষয় হলো, কেল্টিক জাতির ধারণা ছিলো অক্টোবরের শেষ দিনের রাত সবচেয়ে খারাপ। যে রাতে সব প্রেতাত্মা ও অতৃপ্ত আত্মারা মানুষের ক্ষতি করতে পারে। আর তাই কেল্টিক জাতির সদস্যরা এই রাতে বিভিন্ন ধরনের ভূতের মুখোশ ও কাপড় পরতো।

তারা নির্ঘুম রাত কাটাতে আগুন জ্বালিয়ে মুখোশ পরে বৃত্তাকারে একসঙ্গে ঘুরতেন ও মন্ত্র যপতেন। আর সময়ের পরিক্রমায় কেল্টিক জাতির ‘সাহ-উইন’ উৎসবই বর্তমানে ‘হ্যালোইন’ উৎসব হিসেবে পালিত হচ্ছে। হ্যালোইনের রাত নিয়ে অনেক ধরনের মিথ আছে।

 

তেমনই এক প্রচলিত মিথ হলো, এই রাতে দেবতা সামান সব মৃত আত্মাদের পৃথিবীতে আহ্বান জানান। উড়ন্ত ঝাড়ুতে করে হ্যালোইন ডাইনি উড়ে বেড়ায় আকাশ জুড়ে। কখনো বা তিনি কড়া নাড়েন বিভিন্ন বাড়ির দরজায়।

কবে থেকে শুরু হয়েছে হ্যালোইন?

জানা যায়, মধ্যযুগ থেকেই হ্যালোইন উৎসব পালিত হয়ে আসছে। আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ডের উচ্চ ভূমি ও ফ্রান্সের উওর অংশ জুড়ে তখন কেল্টিক সভ্যতার বিস্তার ছিলো। প্রাচীন কেল্টদের পালিত ‘সাহ উইন’ উৎসব থেকেই মূলত হ্যালোইনের সূত্রপাত।

১৮০০ দশকের শেষের দিকে আমেরিকায় হ্যালোইন ছুটির দিনে পরিণত হয়। শতাব্দীর শুরুতেই শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক সবাই ঘটা করে হ্যালোইন উদযাপন শুরু করে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, মৌসুমী খাবার ও উৎসবমুখর পোশাক পরা হতো।

কানে আঘাত থেকে পর্দা ফাটলে..

বর্তমানেও হ্যালোইন পালন করা নিয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় মাতামাতির শেষ নেই। রাতটি উদযাপন করতে সেখানে প্রস্তুতি চলে মাসজুড়েই। এ ছাড়াও কানাডা, আয়ারল্যান্ড, পুয়ের্তো রিকোসহ এশিয়ার জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডেও হ্যালোইন পালিত হয়। এমনকি বাংলাদেশেও পালিত হয় হ্যালোইন উৎসব।

এই উৎসবে হ্যালোইন পোশাক পরে পার্টিতে অংশ নেওয়া থেকে শুরু করে কুমড়ো খোদাই করা, মুখোশ পরা, ভয় দেখানো, ভুতুড়ে গল্প বলা, ভৌতিক সিনেমা দেখা ও ভুতুড়ে সাজসজ্জায় সবাই ব্যস্ত থাকে।

হ্যালোউইন উৎসবে ঝরল ১২০ প্রাণ

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে হ্যালোউইন উদযাপনের সময় ভিড়ের মধ্যে ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা শতাধিক। দেশটির জরুরি বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ এই তথ্য জানায়। ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা এখনো স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ।

লিঙ্গ কীভাবে মোটা করবেন লিঙ্গ-মোটা- Dr. Sheuly Chowhan

ইয়ানসান জেলার ফায়ার সার্ভিস প্রধান জানান, ভিড়ের মধ্যে অনেকে পড়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে জরুরি বিভাগ থেকে জানানো হয়, দুর্ঘটনাস্থলে অনেকের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট তথা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়েছে। অন্তত ৮১ জনের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। করোনার পর প্রথম মাস্কবিহীন হ্যালোউইন উৎসবে জড়ো হয়েছিল প্রায় এক লাখ মানুষ।

বিবিসির প্রতিবেদক হোসু লি জানান, ‘দুর্ঘটনাস্থলে অনেক অ্যাম্বুল্যান্স এসে পৌঁছেছে। মানুষের স্তূপ থেকে কর্মীরা একে একে মরদেহ উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, মরদেহ নিয়ে যাওয়ার অনেক ব্যাগ রাস্তায় রাখা হয়েছে। জরুরি বিভাগের কর্মীরা সিপিআর (হৃদরোগে আক্রান্তদের বাঁচাতে ব্যবহার করা হয়) করছেন। উদ্ধারকারীরা অন্যদের নিচে আটকে পড়া লোকদের টেনে বের করার চেষ্টা করছেন। ‘

হোসু লি আরো জানান, অনেক তরুণ-তরুণী গতকাল এখানে জড়ো হয়। অনেক লোক পার্টি ও ক্লাবে এসেছিল। তারা হ্যালোউইন উদযাপনের বিভিন্ন পোশাক পরেছিল। ভিড়ের মধ্যে অনেক মানুষকে বিচলিত ও বিশৃঙ্খল অবস্থায় দেখা গেছে। এ দুর্ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।

স্থানীয় এক সাংবাদিক জানান, ইয়ংসান জেলার প্রতিটি মোবাইল ফোনে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে সবাইকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়।

সূত্র : সিএনএন ও বিবিসি

Leave a Reply Cancel reply