স্টিফেন হকিং এর জীবনী Stephen Hawking Biography স্টিফেন হকিং এর উক্তি

তিনি একজন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ, মহাবিশ্ববিদ, লেখক, বিজ্ঞান জনপ্রিয়কারী, কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক মহাকাশবিদ্যা বিভাগের পরিচালক, এবং প্রফেসর। পড়াশোনা করেছে, কিন্তু তার নাম জানে না, এমন মানুষ মনে হয় গোটা দুনিয়াতে একজনও পাওয়া যাবে না। বিংশ এবং একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা মেধাবী এই মানুষটার নাম স্টিফেন উইলিয়াম হকিং। জীবনের বেশির ভাগ সময় মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হয়ে হুইলচেয়ারে কাটিয়েছেন, তীব্র নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়েছেন। তারপরেও তার অর্জনের খাতা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি মহিমান্বিত। আসুন, আজ আমরা এই অসামান্য মেধাবী লোকটার জীবনের গল্প শুনি।

তিনি একজন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ, মহাবিশ্ববিদ, লেখক, বিজ্ঞান জনপ্রিয়কারী, কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক মহাকাশবিদ্যা বিভাগের পরিচালক, এবং প্রফেসর। কৃষ্ণগহ্বর, মহাজাগতিক নানা তত্ত্ব, বহির্বিশ্বের প্রাণ সহ নানা ক্ষেত্রকে নিজের বিজ্ঞান বোধ দিয়ে আলোকিত করেছেন পদার্থবিদ্যায় এযুগের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। বিংশ এবং একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা মেধাবী শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী নাম স্টিফেন উইলিয়াম হকিং।

জীবনে তিন চতুর্থাংশ সময় তিনি অসুস্থ হয়ে কাটিয়েছেন। তা সত্ত্বেও তাঁর বিজ্ঞান চেতনা সারা বিশ্বকে আলোকিত করেছে। নির্বাক হকিং পদার্থবিদ্যার নানা জটিল বিষয় সকলভাবে সাধারণ মানুষকে বলার চেষ্টা করেছেন। পাঁচ দশকের বেশি পক্ষাঘাতগ্রস্ত থাকার পরে ৭৬ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন স্টিফেন হকিং। আসুন, আজ আমরা এই অসামান্য মেধাবী লোকটার জীবনের গল্প শুনি।
Read More: সক্রেটিস জীবনী, সক্রেটিস – প্রোফাইল এবং সংক্ষিপ্ত জীবনী – 2021
বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে জন্ম
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেই ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি অক্সফোর্ডে জন্ম স্টিফেন হকিংয়ের। হকিংয়ের পিতা ফ্রাঙ্ক হকিং-ও গবেষক ছিলেন। মা ইসাবেল হকিং রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। উত্তর লন্ডনের বাসিন্দা হলেও সেইসময়ে সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁরা অক্সফোর্ডে চলে যান। হকিংয়ের জন্মের পর ফের লন্ডনে ফেরত আসেন।
ছোটবেলা প্রথম জীবনে হকিং সেন্ট অ্যালবার স্কুলে পড়েন। ছোট থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি হকিংয়ের দারুণ আগ্রহ ছিল। ফ্রাঙ্ক হকিং চেয়েছিলেন ছেলে ডাক্তার হোক। তবে বাবার কথা না শুনে গণিত পড়তে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান হকিং। তবে আলাদা করে গণিতের কোর্স সেসময়ে না থাকায় তিনি পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।

অসুখে আক্রান্ত

বয়স কুড়ি হবার পরই পিএইচডি করার সময় হকিং নিজের অসুখের কথা জানতে পারেন। কেমব্রিজে সেইসময় পড়ছিলেন তিনি। মাঝেমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়তেন সেইসময়ে। বহু পরীক্ষার পর জানা গেল তিনি মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। স্নায়ুর এই রোগ হকিংয়ে ধীরে ধীরে অবশ করে চলেছে। সেইসময়ে বলা হয়েছিল, এই রোগ হলে রোগী খুব বেশি হলে ২-৩ বছর বা সর্বাধিক পাঁচ বছর বাঁচে। অথচ সেই ধাক্কা সামলে তার পরের পাঁচ দশক হকিং লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন।
জীবনের বেশির ভাগ সময় মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হয়ে হুইলচেয়ারে কাটিয়েছেন, তীব্র নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়েছেন। তারপরেও তার অর্জনের খাতা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি মহিমান্বিত।
মৃত্যুর মুখথেকে ফিরে আসা
১৯৮৫ সালে ফের একবার মৃত্যুর মুখ থেকে হকিং ফিরে আসেন। তখন অন্য রোগ হকিংয়ের জীবন কাড়তে চলেছিল। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। একসময়ে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কোমায় চলে গিয়েছিলেন হকিং। সেখান থেকে ফের লড়াই করে ফিরে আসেন তিনি।
বিয়ে ও বিচ্ছেদ
১৯৬৫ সালে জেন ওয়াইল্ডের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন হকিং। ততদিনে রোগে আক্রান্ত হকিং লাঠি হাতে নিয়ে ফেলেছেন। চিকিৎসকেরা দাবি করেন পাত্রের আয়ু আর বড়জোর দুই বছর। তারপরও জেন হকিংকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। সেই ভালোবাসাই তাঁকে জীবনে ঘুরে দাঁড়াতে ও বেঁচে থাকতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল বলে জানিয়েছেন হকিং। যদিও ১৯৯৫ সালে জেনের সঙ্গে বিচ্ছেদ করে ম্যাসন নামে এক নার্সকে বিয়ে করেন হকিং। তবে ২০০৬ সালে ম্যাসনের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় ও ফের জেন ও পরিবারের সঙ্গে হকিংয়ের ঘনিষ্টতা বেড়ে ওঠে।

হকিংয়ের গবেষণা

পদার্থবিজ্ঞানী হকিং প্রথম ব্ল্যাক হোল-এর অনিশ্চয়তার তত্ত্বে আলোকপাত করেন। প্রমাণ করেন ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর থেকে বিকিরিত হচ্ছে কণা প্রবাহ। এই বিকিরণের নাম পরে হকিংয়ের নামে রাখা হয়। কসমোলজি ও কোয়ান্টাম মধ্যাকর্ষ হকিংয়ের প্রধান গবেষণার ক্ষেত্র ছিল। আপেক্ষিকতার তত্ত্ব থেকে নতুন মডেল তৈরি করেন হকিং। সেই মডেলকে সামনে রেখে নিজের বক্তব্য প্রমাণ করেন তিনি।
স্টিফেন হকিং এর ধর্মবিশ্বাস
“যদি কোনোদিন আমরা একটা পূর্ণাঙ্গ তত্ত্ব আবিষ্কার করতে পারি, সেটা হবে মানুষের যুক্তিক্ষমতার সর্বোচ্চ বিজয়- আর সেদিন আমরা ঈশ্বরের মন বুঝতে পারবো”।যদিও একই বইতে তিনি লিখে দিয়েছিলেন, “মহাবিশ্বের উৎপত্তি বর্ণনা করার জন্য ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রয়োজন নেই”। ২০১৪ সালে এটাকে আরো খোলাসা করে বলেছেন, “ঈশ্বরের মন বুঝতে পারা বলতে আমি বুঝিয়েছি, যদি কোনো ঈশ্বর থেকে থাকে–যা আসলে নেই–তাহলে সেই ঈশ্বরের যা যা জানার কথা, আমরা তাই জানবো। আমি নাস্তিক”।
হকিংয়ের সাফল্য

হকিংয়ের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হল পদার্থবিদ্যাকে সরলভাবে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা। আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা এবং বোর-হাইজেনবার্গের কোয়ান্টাম তত্ত্বকে মিলিয়ে দেওয়াও হকিংয়ের বড় সাফল্য। মহাবিশ্বের কোনও স্থানই শূন্য নয়। সবসময় কণা-প্রতিকার সৃষ্টি হচ্ছে। আবার তারা পরমুহূর্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নিজের তত্ত্বের মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন হকিং

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বীয় কসমোলজি কেন্দ্রে হকিংয়ের একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়। প্রয়াত শিল্পী আয়ান ওয়াল্টার এটি তৈরি করেন।[৭৮] ২০০৮ সালের মে মাসে হকিংয়ের আর একটি আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হয় দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে অবস্থিত আফ্রিকান ইনস্টিটিউট অব ম্যাথমেটিক্যাল সায়েন্সের সামনে। মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর তাদের রাজধানী সান সালভাদরে বিজ্ঞান জাদুঘরটির নাম হকিংয়ের নামে রেখেছে।[৭৯]
এছাড়া তিনি তার কর্মক্ষেত্রে অবদানের জন্য নিম্নোক্ত পদক ও পুরস্কার অর্জন করেছেন।
অ্যাডামস পুরস্কার (১৯৬৬)
এডিংটন পদক (১৯৭৫)
ম্যাক্সওয়েল পদক ও পুরস্কার (১৯৭৬)
গাণিতিক পদার্থবিদ্যায় ড্যানি হাইনম্যান পুরস্কার (১৯৭৬)
হিউ পদক (১৯৭৬)
আলবার্ট আইনস্টাইন পদক (১৯৭৮)
রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির স্বর্ণ পদক (১৯৮৫)
ডিরাক পুরস্কার (১৯৮৭)
উলফ পুরস্কার (১৯৮৮)
প্রিন্স অব অ্যাস্টুরিয়াস পুরস্কার (১৯৮৯)
অ্যান্ড্রু গেম্যান্ট পুরস্কার (১৯৯৮)
নেলর পুরস্কার ও লেকচারশিপ (১৯৯৯)
লিলিয়েনফেল্ড পুরস্কার (১৯৯৯)
রয়্যাল সোসাইটি অব আর্টসের আলবার্ট পদক (১৯৯৯)
কপলি পদক (২০০৬)
প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম (২০০৯)
ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্স পুরস্কার (২০১২)
বিবিভিএ ফাউন্ডেশন ফ্রন্টিয়ারস অব নলেজ পুরস্কার (২০১৫)}}

বিশ্ব বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং আর আমাদের মাঝে নেই। আজ ১৪ মার্চ ৭৬ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন।

২১ বছর বয়স থেকেই তিনি দুরারোগ্য মটর নিউরন রোগে ভুগছিলেন। শারীরিকভাবে প্রায় পুরোপুরি অচল হওয়া সত্ত্বেও বহু বছর ধরে তিনি তার গবেষণা কার্যক্রম সাফল্যের সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

হকিং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুকাসিয়ান অধ্যাপক হিসেবে ২০০৯ সালে অবসর নেন। হকিং প্রথম জীবনে সাধারণ আপেক্ষিকতায় সিংগুলারিটি সংক্রান্ত তত্ত্ব দেন।

মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য ‘বিগ ব্যাং থিওরি’র প্রবক্তা স্টিফেন হকিং। হকিং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুকাসিয়ান অধ্যাপক পদ থেকে ২০০৯ সালে অবসর নেন। তিনি ক্যামব্রিজের গনভিলি ও কেয়াস কলেজের ফেলো হিসেবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। রয়্যাল সোসাইটি অব আর্টসের সম্মানীয় ফেলো এবং পন্টিফিকাল একাডেমি অব সায়েন্সের আজীবন সদস্য তিনি।

১৯৮৮ সালে ‘এ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’বইয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত হয়ে ওঠেন হকিং। বইটিতে তিনি মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য নিয়ে তত্ত্ব দেন। আন্তর্জাতিকভাবে বেস্ট সেলার হিসেবে বইটির এক কোটি কপি বিক্রি হয়। মহাবিশ্ব নিয়ে প্রকাশিত তাঁর সর্বশেষ বই ‘দ্য গ্র্যান্ড ডিজাইন।’

স্টিফেন হকিং জীবিত থাকাকালীন বেশ উক্তি আমাদের মাঝে রেখে গেছেন। যা ইতিহাসের পাতায় সোনার হরফে লেখা থাকবে। অমর হয়ে থাকবে চিরকাল।

বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং (৭৬) পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন। মাত্র ২১ বছর বয়স থেকেই দুরারোগ্য মটর নিউরন রোগে ভুগছিলেন এ বিজ্ঞানী। কিন্তু শারীরিক অক্ষমতা তার কর্মে বাধা হয়ে থাকেনি। সেই অবস্থার মধ্যেও হকিং মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য ‘বিগ ব্যাং থিউরি’ দেন। আইনস্টাইনের পর তাকেই বিখ্যাত পদার্থবিদ হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি মারা গেছেন সত্যি, কিন্তু তার কথা এবং কর্ম সারা জীবন মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবে।

হকিং এর শিক্ষা দীক্ষা (Stephen Hawking Education)

হকিং এবং তার বাবা ও মা উভয়েই ছিল শিক্ষার প্রতি অনুরাগী। স্টিফেনের জন্ম এমন একটি পরিবারে হয়েছিল যেখানে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল।

বাবা পেশাতে ডাক্তার হওয়ার সুবাদে পড়াশোনা নিয়ে থাকতেন। কিন্তু মা ইসাবেলা দেবী। রাজনীতি এবং গৃহ কর্মের পাশাপাশি,বই পড়তে ভালোবাসতেন।

হকিং এর স্কুল শিক্ষা শুরু হয় লন্ডনের বাইরং হাউজ স্কুলে। পরে হকিং এর বাবা চাকুরীতে বদলি নিয়ে ১৯৫০ সালে, সেন্ট আলবেন্সে চলে আসেন।

সেন্ট আলবেন্স এসে, হকিং কে তার বাবা। সেন্ট আলবান্স হাই স্কুল ফর গার্লস। মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করে দেন।

এই নিয়ে আপনাদের মনে হয় তো প্রশ্ন জাগতেই পারে। তাহলে স্টিফেন হকিং কোথায় পড়াশোনা করেছিলেন। স্টিফেন কীভাবে মেয়েদের স্কুলে পড়ার সুযোগ পেল।

তখনকার দিনে মেয়েদের স্কুলে ছেলেরা, দশ বছর অবধি পড়ার সুযোগ পেত। ১৯৫০-১৯৫৩ সাল পর্যন্ত স্টিফেন হকিং মেয়েদের স্কুলে পড়াশোনা করেন।

৩ বছর পড়াশোনার পর স্টিফেন কে তার বাবা। ছেলেদের স্কুলে ভর্তি করে দেয়। স্টিফেন হকিং জীবনী অধ্যয়ন করলে দেখা যায়।

স্টিফেন তার স্কুল জীবনে খুব একটা মেধাবী ছাত্র ছিলেন না। তার রেজাল্ট স্কুলে,মোটামোটি ভালো হত। একেবারে অসাধারণ কিছু ছিলনা।

তাছাড়া স্টিফেনের পরিবারে সেরকম আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিলোনা। স্টিফেন কে তার পড়াশোনার জন্য বৃত্তির উপর নির্ভর করে পড়াশোনা করতে হত।

তার বাবার ইচ্ছে ছিল,তার ছেলে শহরের বিখ্যাত স্কুল। ওয়েস্টমিনিস্টার স্কুলে পড়াশুনা করুক।কিন্তু ঐ স্কুলের ফিস দেওয়ার ক্ষমতা তার বাবার ছিলনা।

ওয়েস্টমিনস্টার স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য যেদিন হকিং এর বৃত্তি পরীক্ষা ছিল। সেদিন হকিং অসুস্থ হয়ে পড়েন। এবং বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়া থেকে বঞ্চিত হন।

এরফলে স্টিফনের আর ওয়েস্টমিনস্টার স্কুলে ভর্তি হয়ে ওঠা সম্ভব হয়না। তাই তিনি সেন্ট আলবান্স স্কুলে থেকে যান।

এই স্কুলে পড়াশোনার জন্য তার বন্ধুদের সানিধ্য লাভ করেন। স্টিফেনের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। তিনি সর্বদা তার বন্ধুদের সঙ্গে বোর্ড গেম খেলতেন।

ডাস্টবিন থেকে কম্পিউটার এবং টেলিফোনের বিভিন্ন পরিত্যগ করা পার্টস উঠিয়ে।হকিং নিজে একটি সেল্ফ অপরেটেড কম্পিউটার তৈরী করে ফেলেন।

হকিং,গণিত এবং জ্যোতিবিজ্ঞানের বিভিন্ন ফর্মুলা খুব সহজেই বুঝে যেতেন। যার জন্য তাকে স্কুলে সবাই  আইনস্টাইন বলে ডাকত।

হকিং এর কলেজ শিক্ষা (Stephen Hawkng collage life)

স্টিফেন এর বাবার ইচ্ছে ছিল। ছেলে তার মত ডাক্তারি পেশা অনুসরণ করুক। তাই তিনি চাইছিলেন তিনি যে কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছেন।

স্টিফেন সেই অক্সফোর্ড কলেজ থেকে,মেডিকেল নিয়ে পড়াশোনা করুক।কিন্তু স্টিফেনের স্কুল জীবন থেকে,গণিত ও স্পেস সাইন্স নিয়ে আগ্রহ ছিল।

হকিং তার পিতার অনিচ্ছা সত্ত্বেও।গণিত নিয়ে,অক্সফোর্ডে ভর্তি হবেন বলে ঠিক করলেন।কিন্তু সে সময় অক্সফোর্ডে আলাদা করে গণিতের কোনো শাখা ছিলনা।

হকিং তখন পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন নিয়ে,অক্সফোর্ডে পড়ার জন্য মনস্থির করেন। তার শিক্ষক তাকে এক বছর অপেক্ষা করার জন্য বলেন।

কিন্তু স্টিফেন এক বছর অপেক্ষা করেন না। তিনি সেই বছর ১৯৫৯ সালে কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য বৃত্তি পরীক্ষা দেন।

স্টিফেন,পরীক্ষায় পাস্ করেন। এবং বৃত্তি নিয়ে হকিং অক্সফোর্ড এ স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু শুরুর দুই বছর,হকিং এর কাছে কলেজ লাইফ হয়ে উঠেছিল বোরিং একটি বিষয়।

তার কাছে কলেজের পড়াশোনা এবং পাঠ্যক্রম ছিল,নিত্যান্ত ছেলে খেলার মত একটা সাধারণ বিষয়। তিনি কঠিন কঠিন ফিজিক্সের সমাধান,নিমেষে করে দিতেন।

তার কাছে সমস্যা,কোনো সমস্যা ছিল না। এইভাবে হকিং তার পড়াশোনা থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে থাকে। গ্যাজুয়েশনের তৃতীয় বর্ষে।

স্টিফেন হকিং এর ফলাফল নিয়ে, সংশয় দেখা দেয়। স্টিফেনকে, অধ্যাপকরা ফাস্ট ক্লাস না সেকেন্ড ক্লাস দেবে।

শুধু প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ঠিক করে উঠতে পারছিলেন না।তাই অধ্যাপকরা স্টিফেনের মেধা নির্ধারণ করার জন্য। একটি মৌখিক পরিক্ষার আয়োজন করে।

আর এই পরীক্ষার স্টিফেন সৎব্যবহার করেন। অধ্যাপকরা গ্যাজুয়েশনের পর। হকিং এর ভবিষৎ পরিকল্পনা জানতে চাই।

হকিং খুব চালাকির সাথে জবাব দেয়।“যদি আপনারা আমাকে ফাস্ট ক্লাস দেন। তাহলে কেমব্রিজে গিয়ে বিশ্ব তত্ব নিয়ে পড়াশোনা করব।

আর সেকেন্ড ক্লাস দেন তাহলে এই অক্সফোর্ডে থেকে যাব। তবে ফাস্ট ক্লাস দিলেই মনে হয় বিদায়টা ভাল হবে।”এই চটজলদি জবাব শুনে অধ্যাপকরা বুঝে যায় ছেলেটি বুদ্ধিমান।

স্টিফেন অধ্যাপকদের  শ্রদ্ধা জিতে নেন। স্টিফেন হকিং কে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে।পদার্থ বিজ্ঞানে ফাস্ট ক্লাস ডিগ্রি দেওয়া হয়।

আরো পড়ুন:

স্টিফেন হকিং (Stephen Hawking) PHD

খুব অল্প বয়সে স্টিফেন হকিং গ্রাজুয়েশন পাস করেন। তারপর তিনি ইরান বেড়াতে যান। সেখান থেকে ঘুরে এসে স্টিফেন কেমব্রিজে PHD পড়া শুরু করেন।

কেমব্রিজে পড়াশোনা করার সময় স্টিফেন চেয়েছিলেন,জ্যোতিবিদ ফ্রেড হোয়েল তার মেন্টর হোক।কিন্তু ফ্রেড হোয়েল,ব্যস্ত থাকার জন্য হকিং এর মেন্টর হতে পাননি।

তখন হকিং,মহাবিশ্ব তত্বের জনক ডেনিস সিয়ামা কে, তার মেন্টর হিসাবে পান। ডেনিস সিয়ামার্ সাথে কাজ করার সময় হকিং বুঝতে পারেন। তার গণিতের জ্ঞান তার কাছে সীমিত।

কারণ অক্সফোর্ডে আলাদা করে গণিতের কোনো শাখা ছিলনা। তাই গণিত চর্চাও,সেখানে তেমন উচ্চ পর্যায়ের ছিলনা।

তবুও হকিং নিজের ইচ্ছে শক্তি দ্বারা।ডেনিসের কাছ থেকে মহাবিশ্বতত্বের বিষয় গুলি সাগ্রহে শিখতে লাগলেন।মনোযোগী ছাত্র হকিংকে,ডেনিস হাতেকলমে কাজ শেখাতে লাগলেন।

আরো পড়ুন: 

স্টিফেন হকিং কোন রোগের স্বীকার হয়েছিলেন

স্টিফেন এর PHD-র, পড়াশোনা ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু এর মধ্যে মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়ত স্টিফেন।স্টিফেন প্রায় মাথা ঘুরে পড়ে যেত। কিন্তু ব্যাপারটাকে স্টিফেন অতটা গুরুত্ব দিতনা।

এইসময় হকিংএর জীবনে প্রেম আসে। হকিং এর বোনের, একজন বান্ধবীর। তার পরিবারে যাতায়াত ছিল। সেই বান্ধবীর নাম হল জেইন ওয়াইল্ড।

জেইন ছিলেন,একজন ফরাসি ভাষাতত্বের ছাত্রী। কিন্তু নিয়মিত যাতায়াত এবং দেখা সাক্ষ্যাতের ফলে, সেটা হকিং এর সঙ্গে প্রেমে রূপান্তরিত হয়।

এই জেইন ওয়াইল্ড, হকিংকে জীবনের সাথে লড়াই করার প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। হকিং এক দুরারোগ্য ব্যাধির স্বীকার হয়েছিলেন।

স্টিফেন হকিং যখন তার রোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। তখন তিনি সম্পূর্ণ মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি নিজেকে একটি ঘরের মধ্যে বন্দি করে নেন।

এইসময় তিনি,কারো সাথে কথা বলা পর্যন্ত পছন্দ করতেন না।তিনি যে ব্যাধির স্বীকার হয়েছিলেন,তার নাম মোটর নিউরোন রোগ (Amyotrophic lateral sclerosis)

এই রোগে রুগী,তার শরীরের পেশী পর্যন্ত,নাড়াতে পারেনা।শারীরিক ভাবে অথর্ব হয়ে যায়।খাবার গেলা এবং নিঃস্বাস নেওয়া, তার কাছে জটিল হয়ে উঠে।

Read More: বার্ট্রান্ড রাসেল এর জীবনী – Bertrand Russell Biography in Bengali

আরও পড়ুন:Biography of harichand guruchad thakur

 

এই রোগের স্বীকার রুগী,বেশি দিন বাঁচেনা। ৪/৫ বছরের মধ্যে রুগী মারা যায়। স্টিফেন হকিং ২১ বছর বয়সে ১৯৬৩ সালে, এই দুরারোগ্য ব্যাধির স্বীকার হয়।

স্টিফেন মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে। তখন তাকে ডাক্তার, তার মেন্টর ডেনিশ,তাকে উৎসাহিত করে।সবথেকে বেশি প্রেরণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তার প্রেমিকা জেইন।

একবার হকিং চিকৎসাকালে দেখতে পায়।পাশের বেডে থাকা শিশুটি ক্যান্সারে আক্রান্ত। আর তার থেকে অনেক বেশি ব্যাথা ঐ শিশুটি সহ্য করছে।

এরপর হকিং তার মনোবল ফিরে পায়। প্রেমিকা জেইন,তখন হকিং এর পাশে সবসময় থাকার জন্য। হকিং এর সঙ্গে বাগদান করে।

স্টিফেন হকিং স্বীকার করেছেন। প্রেমিকা জেইন এর সঙ্গে তার বাগদান এবং ১৯৬৫ সালে বিবাহ, তার জীবনে বেঁচে থাকার রসদ জুগিয়েছিল।

স্টিফেন হকিং এর আবিষ্কার

হকিং,পদার্থ বিজ্ঞানে তার অসাম্যতার ছাপ রেখে গেছেন।এতো প্রতিকূলতার মাঝে যে সমস্ত তত্বগুলি স্টিফেন হকিং আবিষ্কার করে গেছেন সেগুলি নিতান্ত কম নয়।

১৯৮৩ সালে,তিনি জিম হার্টেল এর সঙ্গে,যৌথ ভাবে মহাবিশ্বের আকৃতি নিয়ে,নতুন তত্ব সামনে নিয়ে আসেন। এছাড়াও তিনি এবং পেনরোজ সমবেত ভাবে।

১৯৭০ সালে প্রমান করে দেখালেন,আমাদের এই বিশাল ব্রহ্মান্ড,যার কোনো অন্ত নেই। এই বিশাল ব্রহ্মান্ড কোনো এক অনন্ততা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে।

ঐ বছর তিনি কৃষ্ণ গহ্বর (Black Hole) নিয়ে কাজ করা শুরু করেন। তিনি ব্যাখ্যা করে দেখালেন। কৃষ্ণ গহ্বরে প্রবেশ করলে,আর বেরিয়ে আসা যায় না।

আর ওই গহ্বরে প্রবেশ করলে। সেখানে সময়ের গতি কমে যায়। ১৯৭৪ সালে, তিনি কৃষ্ণ গহ্বর নিয়ে আরো, নতুন তথ্য,প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন কৃষ্ণ গহ্বরে প্রতিনিয়ত বিকিরণ হয়। আর এই বিকীরণ ততদিন চলবে,যতদিন পর্যন্ত,ঐ বিকিরণের এনার্জীর সোর্স শেষ হয়ে না যায়।

হকিংসের কৃষ্ণ গহ্বর(Black Hole) নিয়ে এই ব্যাখ্যা কে হকিং বিকিরণ (Hawking Radiation) বলা হয়ে থাকে।

এছাড়া হকিং এর আবিষ্কার গুলি হল- পেনরোজ হকিং তত্ব,বেকেনস্টাইন হকিং সূত্র,থর্ন-হকিং-প্রেস্কিল বাজি ইত্যাদি।

নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে স্টিফেন হকিং এর বাকশক্তি চলে যাওয়া

১৯৮৫ সালে,সুইজারল্যান্ড এর জেনেভাতে, হকিং CREN সম্মেলনে অংশ গ্রহণ করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা যায়।

হকিং সেখানে গিয়ে নিউমোনিয়ার স্বীকার হয়। হকিং কে তখন হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল।

তিনি স্বাস নিতে পযন্ত পারছিলেন না। তখন ডাক্তার তার লাইফ সাপোর্ট হটিয়ে নেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু তার স্ত্রী এতে সম্মতি দেয় না।

এরপর স্টিফেন কে,তার স্ত্রী জেইন। কেমব্রিজে নিয়ে আসে। সেখানে ডাক্তার স্টিফেনের স্বাস নালীটাকে কেটে বাদ দিয়ে দিয়ে, টিউব বসিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর থেকে স্টিফেন,পুরোপুরি ভাবে তার বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে। আর আগে থেকে স্টিফেন মোটর নিউরোন রোগে আক্রান্ত হয়ে চলা ফেরা হারিয়েছিলেন।

তাকে সমস্ত কাজ কর্মের জন্য। পর নির্ভরশীল হয়েই বেঁচে থাকতে হত।তিনি নিজে থেকে চলা ফেরা,খাওয়া দাওয়া কিছুই করতে পারতেন না।

এরপর কিছুদিন হকিং,তার বাক আদানপ্রদানের মাধ্যম হিসাবে,বানান কার্ডকে ব্যবহার করতেন। তার ভঙ্গি বোঝার জন্য এক একটা অক্ষরের ফলককে,তার সামনে তুলে ধরা হত।

তিনি যেটা বোঝাতে চাইছেন সেই ফলকটা সামনে এলে।তিনি ভ্রূ কোঁচকাতেন। আর এই ভাবেই হকিং তার ভাব বিনিময় করতেন।

এরপর হকিং এর অনুগামীরা।ক্যালিফোর্নিয়ার এক ওয়ার্ড প্লাস, নামের এক কোম্পানির সাথে,যোগাযোগ করেন। এই কোম্পানি ALS রুগীদের জন্য এক বিশেষ ধরণের কম্পিউটার সফটওয়ার পোগ্রাম লঞ্চ করেন।

এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে, রুগী তার হাতের কাছে থাকা ক্লিকার টিপে। কম্পিউটার মনিটরে, শব্দ তৈরী করতে পারতো।

এই সফটওয়ার পোগ্রামকে, ভয়েস সিন্থেসাইজার এর সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়। স্পিচ প্লাস নামের একটি কোম্পানি দ্বারা। যার দৌলতে স্টিফেন তখন মিনিটে ১৫ টা মত শব্দ বলতে পারতেন।

কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (A BRIEF HISTORY OF TIME)


১৯৮২ সাল হকিং এর পরিবারে আর্থিক স্বছন্দ ফিরে আসছিল। হকিং তার বাক শক্তি হারানোর এক বছর আগে থেকে, সর্বসাধারণের বোধগম্য একটি বই লিখবেন বলে ঠিক করেছিলেন।

সেই বইটি মূলত তিনি,কসমোলজি এবং মহাকাসতত্বের  উপর লিখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বইটির ভাষা জটিল হওয়ায় প্রকাশকের সমর্থন লাভ করছিল না।

প্রকাশক চাইছিলেন,স্টিফেনের বিজ্ঞানের ভাষা,আর একটু সহজতর,সবার বোধগম্য হোক। যা পড়ে ছোট বড় সকলেই বুঝতে পারবে।

এইভাবে বারবার স্টিফেন কে প্রকাশক ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। স্টিফেন এতে বিরক্ত হয়ে পড়ছিলেন। কারণ তখন তিনি তার বাকশক্তি হারিয়ে ফেলছিলেন।

শুধুমাত্র সিন্থেসাইজার এর সাহায্য নিয়ে।মিনিটে ১৫/২০ টা শব্দ দিয়ে,বইয়ের ভাষা সংশোধন করে সহজতর করে তোলা, তার কাছে দুঃসাধ্য হয়ে উঠছিল।

শেষমেস বইটির ভাষা সংশোধন করে ১৯৮৮ সালে কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (A BRIEF HISTORY OF TIME) ১ম সংস্করণ প্রকাশ হয়।

বইটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে হট কেকের মত বিক্রি হয়ে যায়। এরপর হকিং কে আর বিষম আর্থিক পরিস্থিতির জন্য চিন্তা করতে হয়নি। প্রায় ১কোটির কাছাকাছি কপি বইটি বিক্রি হয়।

হকিং এর বিবাহ বিচ্ছেদ ও বিয়ে


A BRIEF HISTORY OF TIME প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। স্টিফেন হকিং কিসের জন্য বিখ্যাত ছিল বা বিখ্যাত হয়েছিল সেই, প্রশ্নের আর অবশিষ্ট থাকে না।

হকিং তার কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বইটিতে।হকিং বিকিরণ,কৃষ্ণ গহ্বর,স্টিফেন হকিং বিগ বাং থিওরি,নিয়ে ব্যাখ্যা করেছিলেন। এর আগে,সহজভাবে ফিজিক্সের ব্যাখ্যা কেও করেনি।

সত্যকথা বলতে গেলে স্টিফেন তখন রাতারাতি নায়ক হয়ে গেছিল। তাদের জীবনের টাকা পয়সার চাহিদা মিটলেও। সংসার জীবনে ফাটল দেখা দেয়।

১৯৯০ সালে হকিং তার পরিচারিকার সাথে থাকতে শুরু করেন। এবং তাকে বিয়ে করেন। ১৯৯৫ সালে শেষ পর্যন্ত জেইন এর সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

কিন্তু পরিচারিকার সাথে স্টিফেনের সম্পর্ক বেশিদিন টেকে না। তারা আবার ২০০৬ সালে আলাদা হয়ে যায়।

এরপর আবার স্টিফেন,পুনরায় তার পূর্ব পত্নী জেইন, এর কাছে ফিরে আসে। তাদের দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

২০০৭ সালে হকিং এর স্ত্রী। জেইন হকিং এবং তার সম্পর্ক নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেন। বই টি হল Travelling to Infinity:My life with Stephen.

থিওরি অফ এভরিথিং (Theory of Everything)


 

২০০৭ সালে,হকিং এর স্ত্রী জেইন,এর লেখা বইটির ভিত্তিতে। Stephen Hawking এবং তার স্ত্রীর সাথে,কাটানো সময়ের ভিত্তিতে,হলিউডে একটি সিনেমা নির্মিত হয়।

এই সিনেমায় হকিং এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেডমেইন। এবং স্ত্রী জেইন এর চরিত্রে অভিনয় করেন ফেলিসিটি জোন্স ।

 

আর এই সিনেমাটি হল,থিওরি অফ এভরিথিং (Theory of Everything),হকিং চরিত্রে অভিনয় করার জন্য রেডমেইন কে অস্কার পুরুস্কার দেওয়া হয়।

Stephen Hawking এর স্বাস্থ্যের অবন্নতি

২০০৮ সাল থেকে,স্টিফেনের স্বাস্থ্য ক্রমশ ভাঙতে শুরু করে।হাতের তালুতে থাকা,ক্লিকার টা প্রেস করে শব্দ চয়ন করার ক্ষমতা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেন।

তখন তার গালে,গ্রাজুয়েট এসিসটেন্ট চশমার উপর ইনফ্রারেড লাগিয়ে,গালের পেশী সংকোচনের দ্বারা। বাক বিনিময়ের ব্যবস্থা করা হয়।

কিন্তু ধীরে ধীরে বয়সের সাথে সাথে ,স্টিফেনের গালের পেশী দুর্বল হতে থাকল। তখন আর মিনিটে ১৫ টা শব্দ চয়ন করতে পারতেন না। তিনি শুধু মিনিটে ২টি শব্দ চয়ন করতে পারতেন।

এরপর তিনি ইন্টেল কে চিঠি করেন। ইন্টেলের কম্পিউটার হিউম্যান ইন্টার অ্যাকশন ডিজাইনার ছিলেন, পিট্ ডেনম্যান।

ডেনম্যান নিজেও হুইল চেয়ার ব্যবহার করতেন। কারণ তার নিজের ঘাড় ভেঙে গেছিল।তাই তিনি সোজা হয়ে চলার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন।

তিনি নিজেও হুইল চেয়ারের সাহায্য নিতেন। আর ডেনম্যান ছিলেন স্টিফেন এর একজন অন্ধভক্ত। ডেনম্যানের মা,তাকে স্টিফেনের লেখা বইটি উপহার দিয়েছিলেন।

কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বইটি,হাতে দিয়ে বলেছিলেন।হুইল চেয়ারে বসে থাকা ব্যক্তি, চাইলে নিজের ইচ্ছে শক্তি দ্বারা দুনিয়া বদলে দিতে পারেন।

ডেনম্যান তখন তার আইডল হকিং এর জন্য এমন একটি ব্যবস্থা করে দিলেন। যাতে কোনো শব্দ টাইপ না করেই।শুধু মাত্র কম্পিটার স্ক্রিনে দেখে শব্দ চয়ন করতে পারে।

শুধু মাত্র তার গালের পেশীর কম্পন দিয়ে। শব্দ চয়ন করতে পারেন, সেরকম ব্যবস্থা ডেনম্যান, স্টিফেন হকিং কে করে দেয়।

স্টিফেন হকিং এর বই

২০০৭ সালে স্টিফেন তার মেয়ে লুসি হকিং কে সঙ্গে করে বাচ্ছাদের জন্য বহু পুস্তক রচনা করেন। স্টিফেন হকিং এর লেখা বই গুলি হল।

  • George secret key of the Universe বইটিতে।হকিং জর্জ নামের এক বালকের মধ্যে দিয়ে স্পেস যাত্রার কাহিনী কে তুলে ধরেছেন।
  • বইটির মধ্যে দিয়ে হকিং বিগ বাং থিওরি, হকিং বিকিরণ,কৃষ্ণ গহ্বর নিয়ে ছোটদের পাঠ্য উপযোগী করে লিখেছিলেন।

 

মৃত্যু / স্টিফেন হকিং কখন মারা গেল

হকিং তার কেমব্রিজের নিজ বাসভবনে ২০১৮ সালের ১৪ ই মার্চ শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্য কালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

স্টিফেনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় ২০১৮ সালের ৩১ সে মার্চ। তার শেষকৃত্যে অনুষ্ঠিত হয় ক্রেম্ব্রিজের ম্যারিস গির্জায়।

তার শেষকৃত্যে হাজির হয়েছিলেন থিওরি অফ এভরিথিং (Theory of Everything)এর নায়ক এডি রেডমেইন এবং নায়িকা ফিলিসিটি জোন্স।

আপনারা জানলে অবাক হবেন হকিং খ্রিস্টান ধর্মের অনুগামী হলেও তার মৃত দেহ কে দাহ্য করা হয়। তারপর মৃত দেহের ছাইভস্ম।

আইজাক নিউটনের সমাধির পাশে। ডারউইনের সমাধি সংলগ্ন এলাকায় তার ভস্ম সমাধিস্থ করা হয়।

পরিশিষ্ট

 

পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে। স্টিফেন হকিং এর মূল্য কত খানি,তা আমাদের এই সামান্যতম মেধা দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করলে তাকে ছোট করা হবে।

স্টিফেন হকিং জীবনী পরে আমরা তার কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারি। পরিস্থিতি যেমনি হোক। হার মেনে নিয়ে নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করা বোকামি করা ছাড়া আর কিছুই না।

আপনাদের জানিয়ে রাখা ভাল। স্টিফেন হকিং জীবনী ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করলে,দেখতে পাওয়া যায়।হকিং এর জন্ম এবং মৃত্যু দিবসে।

,দুই মহান বিজ্ঞানী।গ্যালিলিও এবং আইনস্টাইনের জন্ম এবং মৃত্য দিবস সামনে আসে। হকিং জন্মগ্রহণ করেন গ্যালিলিওর মৃত্যু বার্ষিকীতে। আর মারা যান আইনস্টাইনের জন্ম দিবসে।

স্টিফেন হকিং কোন দেশের বিজ্ঞানী  ছিলেন।সেটা বড় কথা নয়। স্টিফেন হকিংকে।শুধু তার নিজ দেশ ইংল্যান্ড এবং কর্মভূমি যুক্তরাষ্ট্র হারায়নি।

হারিয়েছে বিশ্বের আপামর বিজ্ঞানের সাধক। সাধনভূমি থেকে। একনিষ্ঠ কর্মবান সাধক কে। হে সাধক স্টিফেন হকিং তোমারে জানায় শতকোটি প্রণাম।

ব্রিটিশ এই বিজ্ঞানীর বিখ্যাত ১০ উক্তি তুলে ধরেছে –

হকিং শুধু পদার্থ বিজ্ঞানের জন্যে বিখ্যাত নয়। তার করা উক্তি গুলি নিত্যান্ত ফেলে দেওয়ার মত নয়। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক স্টিফেন হকিং এর উক্তি গুলোকে।

১. কেউ যদি বলে আপনি ভুল করেছেন তাঁকে বলবেন, ভুল করা দরকারি। ভুল না করলে আমি বা আপনি কেউই বেঁচে থাকব না।

২. জীবন এমন এক শক্তি যা আপনাকে পরিবর্তনকে স্বীকার করতে শেখায়।

৩. যে সমস্ত মানুষরা ভবিতব্যে বিশ্বাস করেন তাঁরাই রাস্তা পার করার সময় বারবার দুদিকে তাকান।

৪. আমি এখনো বড় হইনি। আমি এখনো প্রশ্ন করতেই থাকি।

৫. যাঁরা বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বড়াই করেন, তাঁরা আসলে হেরে গেছেন।

৬. আপনার শারীরিক বাধা কখনো ভালো কাজে বাধা হতে পারে না। শারীরিক সীমাবদ্ধতার জন্য কখনো অনুতাপ করবেন না। কাজ করার উদ্যমে বৈকল্য থাকা সব থেকে খারাপ।

৭. গত ৪৯ বছর ধরে আমার মৃত্যু নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। তাই আমি আর মরতে ভয় পাই না। তবে মৃত্যুর আগে আমাকে অনেক কাজ করতে হবে।

৮. মাটির দিকে তাকিও না, আকাশের দিকে তাকাও। কাজ করতে থাকো। কারণ কাজই জীবনকে প্রাসঙ্গিক করে তোলে। আর যদি কপাল করে জীবনে ভালোবাসা পাও, কখনো তাকে ছুঁড়ে ফেল না।

৯. মানুষ কথা বলেই সব থেকে বেশি সাফল্য লাভ করে। মানুষের ব্যর্থতার কারণও এই আলাপচারিতা। তাই কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়া উচিত।

১০. রাগ মানুষের সব থেকে বড় শত্রু। সভ্যতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে এই ক্রোধ।

Read More:বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনী

আরও পড়ুন:ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব—কীর্তিমান বাঙালি

 

Stephen Hawking Biography, Famous Quotes ও উক্তি সমূহ লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো। এই ধরনের লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি ফলো ।

ডেইলি নিউজ টাইমস বিডি ডটকম (Dailynewstimesbd.com)এর ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব ও ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন করুন।

তথ্যসূত্র: Wikipedia

ছবিঃ ইন্টারনেট

 

স্টিফেন হকিং এর উক্তি, স্টিফেন হকিং এর বই pdf download স্টিফেন হকিং এর সর্বশেষ বই, স্টিফেন হকিং কোন দেশের নাগরিক ছিলেন, সময়ের ইতিহাস স্টিফেন হকিং,Famous Quotes by ploto,screacts, arisotal, rasel seskpear Stephen Hawking, স্টিফেন হকিংয়ের কিছু বিখ্যাত উক্তি, Stephen Hawking Famous Quotes, উক্তি  স্টিফেন হকিংয়ের উক্তি,  Hawking Bani,Famous Quotes by Stephen Hawking – best quotes by scientists Stephen Hawking Biography || স্টিফেন হকিং এর জীবনী ইচ্ছাশক্তি দিয়ে পৃথিবী জয় সম্ভব !! Stephen Hawking Biography !! A Brief History Of Time Stephen Hawking Biography जीवनी জীবনী স্টিফেন হকিং জীবনী || Stephen Hawking Biography || Motivational,স্টিফেন হকিং আর নেই , Stephen Hawking is no #9TRENDING Physicist Stephen Hawking has died, স্টিফেন হকিং আর নেই Stephen Hawking Bangla biography | Inspirational bangla biography,Motivational Bangla Biography Stephen Hawking biography, Bangla Biography, স্টিফেন হকিং এর জীবনী, স্টিফেন উইলিয়াম হকিং, সর্বকালের অন্যতম সেরা সাফল্যের উদাহরণ, bangla motivation video, স্টিফেন হকিং, Stephen Hawking, Bangla biography, bangla latest news, bangladesh latest news, bangla tv online, live tv news, bangla live tv news, bangla tv news, today bangla news, bangladesh tv news, live bangla tv newsStephen, Hawking, Biography, Inspirational, Motivational, Stephen Hawking documentary, Subject,famous quotes,science,rules of living,quotes,Stephen Hawking life,Stephen Hawking biography,college,london,stephen hawking,physics,black hole,black holes,space,time,quantum physics,theoretical physics,mr scientific,stephen hawking,stephen hawking death,stephen hawking died,stephen hawking dead,stephen,hawking,how stephen hawking died,stephen hawking is dead,hawking died,স্টিফেন হকিং,স্টিফেন হকিং আর নেই,না ফেরার দেশে স্টিফেন হকিং,stephen hawking,stephen hawking no more,বিজ্ঞানীদের খবর,বিজ্ঞানের খবর,Stephen Hawking স্টিফেন হকিং কোন রোগে আক্রান্ত ছিলেন, স্টিফেন হকিং এর জীবনী pdf, স্টিফেন হকিং এর উক্তি, স্টিফেন হকিং এর বই, pdf download What happened to stephen hawking, Stephen Hawking disease,stephen hawking quotes about humanity, stephen hawking quotes about time, stephen hawking quotes about disability, stephen hawking last quote stephen hawking math quotes stephen hawking top, 10 quotes stephen hawking quotes, knowledge stephen hawking, black hole quote

Leave a Reply

Translate »
%d bloggers like this: