ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য যা কিছু জানা প্রয়োজন | বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজ ভর্তি হতে চাইলে যা পড়তে হবে

ক্যাডেট কলেজ সামরিক বাহিনী পরিচালিত বিশেষ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ক্যাডেটসমূহ বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে উন্নত শিক্ষামান, আবাসিক পরিবেশ স্বাস্থ্য-পরিপাটিতে পরিচালিত হয় ক্যাডেট কলেজ। মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক সমন্বিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৭ম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ এখানে। উচ্চ শিক্ষায় প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত মাসসম্মত শিক্ষা নিশ্চিন্তের সাথে সাথে চমৎকার পরিবেশে শিক্ষাগ্রহণের সুব্যবস্থা ক্যাডেটে কলেজের প্রধান আকর্ষণ। এসব দিক বিবেচনায় বাংলাদেশের অভিভাবকদের অতি আকাঙ্ক্ষিত চাহিদা ক্যাডেট কলেজে সন্তান ভর্তি করানো। এ ব্যবস্থা বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। আর তাই সারাদেশের অভিভাবকদের চাহিদা মাত্র ৯টি ছেলে ৩টি মেয়েদের ক্যাডেটে কলেজে প্রতি। ভর্তির জন্য তাই কঠিনতম প্রতিযোগিতা।

বাংলাদেশে (তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে) প্রথম ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম জেলার ফৌজদারহাটে ১৯৫৮ সালে। প্রথমে এ কলেজের নাম রাখা হয় ইস্ট পাকিস্তান ক্যাডেট কলেজ। পরবর্তীকালে কলেজের নাম হয় ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। নিউজিল্যান্ড সেনা কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট কর্নেল স্যার উইলিয়াম মরিস ব্রাউন ইংল্যান্ডে বসবাস করছিলেন এবং সেখানকার পাবলিক স্কুলের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তৎকালিন রাষ্ট্রীয় অনুরোধে স্যার ব্রাউন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন এবং ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি এই কলেজে দীর্ঘ ৭ বছর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক সরকারের উদ্যোগে ঢাকায় রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল নামে একটি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়। এটি প্রতিষ্ঠায় অনেকাংশে ক্যাডেট কলেজের অনুকরণ করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালে কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, পাবনা ও রংপুর জেলায় রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলটি কেবল মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়। ক্যাডেট কলেজ ও রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল দুটি একই ধারার আবিসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হরেও এদের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। ক্যাডেট কলেজ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পিত থাকে সরাসরি সেনা বাহিনী সদর দপ্তরের উপর। কিন্তু দেশের অন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর।

১৯৭৮ সাল থেকে পূর্বে প্রতিষ্ঠিত রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলগুলোকে ক্যাডেট কলেজে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে উক্ত বছরেই সিলেট ও রংপুরের রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল দুটিকে ক্যাডেট কলেজে রূপান্তর করা হয়। ১৯৮১ সালে বরিশাল ও পাবনা ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা, ১৯৮২ সালে ময়মনসিংহ রেসিডেন্সিয়ার মডেল স্কুলটিকে গার্লস ক্যাডেট কলেজ, ১৯৮৩ সালে কুমিল্লা রেসিডেন্সিয়ালটিকে ক্যাডেট কলেজে রূপান্তরিত হয়। এভাবে বাংলাদেশে সর্বমোট ক্যাডেট কলেজের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ টিতে। ২০০৬ সালে সরকারের বিশেষ উদ্যোগে আরও দুইটি ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। দুইটি কলেজই মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। এর একটি ফেনী জেলায় এবং অন্যটি জয়পুরহাট জেলায়। বর্তমানে ৯ টি ছেলেদের, ৩ টি মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত ক্যাডেট কলেজ।

ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য যা কিছু জানা প্রয়োজন

সাধারণত প্রতি বছর নভেম্বরে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষার অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণের কাজ শুরু হয়। তা চলে ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় জানুয়ারিতে। ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা কী, কীভাবে আবেদন করা যায়, আবেদন ফি কত, আবেদনের সময় কী কী কাগজপত্র লাগবে তা জানতে হবে সবার আগে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তির চেয়ে ক্যাডেট কলেজগুলোতে নিয়ম-কানুনগুলো একটু ভিন্ন। সেসব নিয়মনীতি কর্তৃপক্ষ অবলোকন করে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে।

বর্তমানে দেশে ১২টি ক্যাডেট কলেজে ৬০০ ক্যাডেট ভর্তি করা হয় প্রতি বছর। ৬০০ সিটের জন্য দ্বিগুণ প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য রাখা হয়। ভর্তির পর ৭ম এবং ৮ম শ্রেণিকে ফাউন্ডেশন লেভেল ধরা হয়। এই ফাউন্ডেশন লেভেলে কলেজের সমস্ত কর্মকাণ্ড যেগুলো তাদের কাছে নতুন সেগুলোর পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় এবং ইংরেজির ভিত শক্ত করা হয়।

আবেদনের যোগ্যতা :
ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুকদের অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। এ ছাড়া তাদের ৬ষ্ঠ শ্রেণী বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ১৪ বছর এবং ছেলেমেয়ে উভয়েরই উচ্চতা থাকতে হবে নূ্ন্যতম ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি। ইতিমধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেনি এমন শিক্ষার্থীরা আবেদনের অযোগ্য। এ ছাড়া বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা যেমন গ্রস নক নী, ফ্ল্যাট ফুট, বর্ণান্ধ ও অতিরিক্ত ওজন এবং বিভিন্ন রোগ যেমন এজমা, মৃগী, হৃদরোগ, বাত, যক্ষ্মা, পুরনো আমাশয়, হেপাটাইটিস, রাতকানা, ডায়াবেটিসসহ আরও কয়েকটি রোগে আক্রান্ত কেউ আবেদনের অযোগ্য বিবেচিত হয়।

আবেদনের নিয়ম

ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ জন্য শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ব্যবহার করতে হবে www.cadetcollege.army.mil.bd এই ওয়েবসাইটি। আবেদনের সময় প্রার্থীদের অনাধিক ১৮০x২১০ এবং ২০০ কিলোবাইটের পাসপোর্ট সাইজের ছবি ব্যবহার করতে হবে। ছবি অবশ্যই ১৫ দিনের বেশি পুরনো হওয়া যাবে না।

আবেদন ফি ও জমাদান পদ্ধতি

প্রার্থীরা পরীক্ষার আবেদন ফি Trust Bank Mobile Money, Q Cash অথবা টেলিটক প্রিপেইড সিমসংবলিত যেকোনো মোবাইল থেকে এসএমএস- এই তিনটির যেকোনো একটি মাধ্যম ব্যবহার করে জমা দিতে পারবে। তবে মাধ্যমভেদে পরীক্ষার ফি’র পার্থক্য রয়েছে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জমাদান পদ্ধতি

– প্রার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বা প্রাথমিক ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সত্যায়িত সনদপত্র;
– ৫ম শ্রেণিতে ইংরেজি মাধ্যমে অধ্যয়নকৃত শিক্ষার্থীদের তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক উত্তীর্ণের প্রত্যয়নপত্র;
– প্রার্থীর জন্মনিবন্ধন বা জন্ম সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি;
– প্রার্থীর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক ষষ্ঠ বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণের সাল উল্লেখপূর্বক সনদপত্র;
– ফলাফল প্রকাশিত না হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক প্রার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে এই মর্মে প্রদত্ত সনদ;
– প্রার্থীর বাবা-মা বা অভিভাবকের মাসিক আয়ের স্বপক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র;
– প্রার্থীর অভিভাবক বা বাবা-মা উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি (পরিচয়পত্র না থাকলে যথাযথ কারণ প্রদর্শনপূর্বক প্রত্যয়নপত্র) এবং অনলাইন আবদেনপত্রে আপলোড করা প্রার্থীর ছবির অনুরূপ পাসপোর্ট এবং স্ট্যাম্প সাইজের রঙিন ছবি।

সফলভাবে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণের পর উক্ত কাগজপত্রাদি ১৫x১০ ইঞ্চি খামের উপরে প্রার্থীর ইনডেক্স নম্বর ও পরীক্ষা কেন্দ্রের নাম উল্লেখপূর্বক নির্ধারিত তারিখের মধ্যে প্রার্থীর প্রবেশপত্রে উল্লিখিত পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাডেট কলেজের ঠিকানায় রেজিস্টার্ড ডাক বা বাহকের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, কোটা সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অবশ্যই ক্যাডেট কলেজগুলোর ‘ই-বুথ আউটলেট’র মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। সেক্ষেত্রে কোটাধারীদের তাদের সংশ্লিষ্ট কোটার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজসহ অন্যান্য কাগজপত্র ও ছবির সফট কপি সঙ্গে আনতে হবে। উল্লেখ্য, প্রার্থী ও অভিভাবকদের সুবিধার্থে অনলাইনে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি জমাদানের জন্য প্রতিটি ক্যাডেট কলেজে এবং ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে একটি করে ‘ই-বুথ আউটলেট’ স্থাপন করা হয়েছে। এ সব ই-বুথে উপস্থিত হয়ে অনলাইনে আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন ফি জমা দেওয়া যাবে।

পরীক্ষার মাধ্যম

বাংলা ও ইংরেজি, এ দুটি মাধ্যমে পরীক্ষা দেওয়া যায়। তবে প্রার্থীকে যেকোনো একটি মাধ্যম বেছে নিতে হবে।

পরীক্ষা পদ্ধতি

মোট ৩০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে প্রাথমিক ধাপ ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা। ভাইভা ও স্যুটবিলিটি টেস্টের জন্য ১০০ নম্বর।

লিখিত পরীক্ষার মানবণ্টন

বাংলায়- ৪০, ইংরেজিতে-৬৫, গণিতে- ৫৫ এবং বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি ও সাধারণ জ্ঞানে- ৪০ নম্বর, মোট ২০০ নম্বর।
ভাইভা- ৫০ নম্বর ও স্যুটবিলিটি টেস্টের জন্য রয়েছে ৫০ নম্বর।
এ ছাড়া রয়েছে স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা। উল্লিখিত সব ধাপের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়ে মৌখিক ও স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা এবং এবং স্যুটাবিলিটি টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষার প্রস্তুতি

ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষা অন্যান্য পাবলিক পরীক্ষা থেকে ভিন্ন ধরনের। তাই এ পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে দরকার দীর্ঘ প্রস্তুতি, কঠোর অধ্যবসায় ও সঠিক গাইডলাইন। নিয়মিত পড়াশোনা এতে বড় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উল্লেখ্য, ক্যাডেট ভর্তি পরীক্ষাসংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে www.cadetcollege.army.mil.bd ওয়েবসাইটটি ভিজিট কর। সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানে অগ্রাধিকার : ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা শেষে ক্যাডেটদের সশস্ত্র বাহিনীর কমিশন্ড অফিসার পদে নির্বাচনী পরীক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ক্যাডেটদের শুধু ISSB পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েই সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদান করা যায় এবং তা বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশের ক্যডেটে কলেজসমূহের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

১. ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ
প্রতিষ্ঠা : এপ্রিল ২৮, ১৯৫৮
ফৌজদারহাট, সীতাকুণ্ড উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলা

২. ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ
প্রতিষ্ঠা : ১৯৬৩
ঝিনাইদহ শহর থেকে ২ কিমি উত্তরে ঝিনাউদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের পাশে

৩. মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ
প্রতিষ্ঠা : জানুয়ারি ৯, ১৯৬৫
টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলা; ঢাকা-টাঙ্গাইল ট্রাঙ্ক রোডের পাশে

৪. রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ
প্রতিষ্ঠা : ফেব্রুয়ারি ১১, ১৯৬৬
সারদা, চারঘাট উপজেলা।

৫. সিলেট ক্যাডেট কলেজ
প্রতিষ্ঠা : ১৯৭৮

৬. রংপুর ক্যাডেট কলেজ
প্রতিষ্ঠা : জুলাই ১, ১৯৭৯
রংপুর, আশরতপুর, রংপুর সদর উপজেলা

৭. বরিশাল ক্যাডেট কলেজ
প্রতিষ্ঠা : ১৯৮১

৮. পাবনা ক্যাডেট কলেজ
প্রতিষ্ঠা : আগষ্ট ৭, ১৯৮১
জালালপুর, পাবনা সদর উপজেলা

৯. ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ
প্রতিষ্ঠা : ১৯৮২

১০. কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ
প্রতিষ্ঠা : ১৯৮৩

১১. ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ
প্রতিষ্ঠা : ২০০৬

১২. জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ

প্রতিষ্ঠা : ২০০৬

ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হতে চাইলে যা পড়তে হবে

ক্যাডেট কলেজ ভর্তি, ক্যাডেট কলেজ ভর্তি 2021, ক্যাডেট কলেজ ভর্তি গাইড pdf, ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষার গাইড pdf, ক্যাডেট কলেজ ভর্তি প্রশ্ন, ক্যাডেট কলেজ ভর্তি প্রস্তুতি ২০২০, ক্যাডেট কলেজ ভর্তি ফরম ২০২০, ক্যাডেট কলেজ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি 2021, ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ২০২১, ক্যাডেট কলেজ ভর্তি গাইড pdf download, ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস ২০২১, ক্যাডেট কলেজ সাধারণ জ্ঞান


বাংলাদেশের ১২ টি ক্যাডেট কলেজ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মানসম্মত শিক্ষার্জনের জন্য প্রতিবছরই দেশের লাখো মেধাবীরা ক্যাডেট কলেজে ভর্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে থাকে। সারাদেশে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় ক্যাডেট কলেজগুলোই সবার পছন্দের তালিকায় প্রথমে থাকে।

কারণ, চমৎকার শিক্ষা পদ্ধতি, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম, বাধ্যতামূলক শারীরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছে এসব প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি এখানকার শিক্ষার্থীদের কোন অতিরিক্ত কোচিং করতে হয় না কিংবা প্রাইভেট পড়তে হয় না।

গত বছর ক্যাডেট কলেজ ভর্তিযুদ্ধে ৬ শত আসনের বিপরীতে ২২ হাজার শিক্ষার্থী লড়াই করে। যা তার পূর্বের বছরের চেয়ে প্রায় দুই হাজার বেশি। প্রতিটি আসনের বিপরীতে প্রায় ৩৭ জন অংশ নেয়। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে তুমুল জনপ্রিয় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিযোগিতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। আর তাই ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হয়ে পড়ালেখার সুযোগ পেতে হলে ভালো ও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির বিকল্প নেই।

কোর্সটিকায় আজ আমরা ক্যাডেট কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা প্রস্তুনি নিয়ে আলোচনা করবো। পাশাপাশি কোন কোন বিষয়গুলো ভালো করে অধ্যয়ন করতে হবে, তা উল্লেখ করবো। আমরা আশা করি, আমাদের দেয়া এই সাজেশান্সগুলো ভালোভাবে অনুসরণ করলে তোমার ভর্তি পরীক্ষায় তা অবশ্যই ফলপ্রসূ হবে।

পরীক্ষার মানবণ্টন

ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় মূলত ৭ টি বিষয়ের ওপর প্রশ্ন করা হয়। এগুলো যথাক্রমে বাংলা, ইংরেজী, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং সাধারণ জ্ঞান। বাংলার জন্য ৬০ নম্বর বরাদ্দ। ইংরেজী ও গণিতের জন্য ১০০ করে মোট ২০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং সাধারণ জ্ঞান মিলিয়ে মোট ৪০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। সুতরাং সবগুলো বিষয় মিলিয়ে সর্বমোট ৩০০ মার্কেের একটি পরীক্ষা হতে চলেছে।

বাংলা প্রস্তুতি: ৬০ নম্বর

বাংলায় গদ্য ও পদ্য প্রস্তুতি নেয়ার জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ২০২০ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা বই পড়তে হবে। ব্যকরণের জন্যও নিতে হবে বিস্তর প্রস্তুতি। এক্ষেত্রে মূল পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বাজারে প্রচলিত অন্যান্য ব্যকরণ বইগুলো পড়া যেতে পারে।

ব্যকরণে যা পড়বে – ১. ভাষা ও বাংলা ভাষা, ধ্বনিতত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব, বাগর্থ। ২. শব্দ ও পদ পরিচয়: শব্দ, পদ, পদের শ্রেণিবিভাগ, পদ পরিবর্তন, বিপরীত শব্দ, দ্বিরুক্ত শব্দ ও সংখ্যাবাচক শব্দ। ৩. লিঙ্গ। ৪. বচন। ৫. ক্রিয়ার কাল: শ্রেণিবিভাগ ও প্রয়োগ। ৬. কারক। ৭. বাগধারা। ৮. এক কথায় প্রকাশ। ৯. বিরাম চিহ্ন।

নির্মিতি ও রচনারীতি:
১। ভাব-সম্প্রসারণ।
২। অনুচ্ছেদ লিখন/যুক্তিভিত্তিক অনুচ্ছেদ (১০-১৫ বাক্য)
৩। অনুধাবন।
৪। সারাংশ ও সারমর্ম।

ইংরেজী প্রস্তুতি: ১০০ নম্বর

English For Today For class-VI, Prescribed by the National Curriculum & Textbook Board for academic year 2020. ইংরেজী প্রস্তুতিতে প্রস্তুতির জন্য ষষ্ঠ শ্রেণীর ২০২০ শিক্ষাবর্ষের বোর্ড প্রণীত বইটি পড়তে হবে। গ্রামার সেকশনের জন্য নিচে উল্লেখিত বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে।

Grammar – 1. Sentence. 2. Parts of Speech. 3. Gender. 4. Number. 5. Punctuation and use of capital letters. 6. Tense. 7. Subject and Predicate . 8. Agreement of Subject and Verb. 9. Transformation of sentences. 10. Correct form of verbs 11. Contractions. 12. Re-arrange jumbled words to make sentences . 13. Spelling. 14. Phrases and Idioms.

Writing Section:
1. Paragraph writing.
2. Story writing from given outline.
3. Comprehension.
4. Argumentative Essay.

গণিত প্রস্তুতি: ১০০ নম্বর

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ২০২০ শিক্ষাবর্ষের ৬ষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্য পুস্তক পড়তে হবে। গণিতে প্রস্তুতির বিষয়গুলো হচ্ছে:

১। স্বাভাবিক সংখ্যা ও ভগ্নাংশ।
২। অনুপাত ও শতকরা।
৩। পুর্ণসংখ্যা।
৪। বীজগণিতীয় রাশি।
৫। সরল সমীকরণ।
৬। জ্যামিতির মৌলিক ধারণা।
৭। ব্যবহারিক জ্যামিতি।
৮। তথ্য ও উপাত্ত।
৯। বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক অংক।

অন্যান্য প্রস্তুতি: ৪০ নম্বর

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ২০২০ শিক্ষাবর্ষের ৬ষ্ঠ শ্রেণির নিচে উল্লেখিত পাঠ্য পুস্তক পড়তে হবে।

১। সাধারণ বিজ্ঞান
২। বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়
৩। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সাধারণ জ্ঞানের জন্য বাংলাদেশ বিষয়াবলীর যেকোন বই পড়া যেতে পারে।

প্রতি বছর দেশের ১২টি কলেজে ৬০০ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়ে থাকে। ভর্তির ক্ষেত্রে মেধাই মূল বিবেচ্য বিষয়। কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে কেউ কোটা সুবিধা পায় না। প্রতিটি বিষয়ে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে তুমিও হতে পারো দেশসেরা ক্যাডেটদের মধ্যে অন্যতম একজন। আর এজন্য অবশ্যই ভালো প্রস্তুতির বিকল্প নেই।

ক্যাডেট বাছাই প্রক্রিয়া

প্রথমে লিখিত পরীক্ষারা মাধ্যমে মেধা তালিকা দেখে মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রার্থী বাছাই করা হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষে নির্বাচিত ক্যাডেটদের আইএসএসবিতে নিয়ে যাওয়া হয় মানসিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। এরপর তারা ক্যাডেট কলেজগুলোয় ভর্তির সুযোগ পায়।

যেহেতু ক্যাডেট কলেজে ভর্তির হওয়ার জন্য প্রতিবছর প্রচুর প্রতিযোগিতা হয়, তাই ভর্তির ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর মেধাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। যদিও কোটা পদ্ধতি অনুরণ করা হয়, কিন্তু লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে কেউ কোটা সুবিধা পায় না।

খরচ

অভিভাবকদের আয়ের ওপর ভিত্তি করে ক্যাডেট শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও থাকা-খাওয়ার খরচ নির্ধারণ করা হয়। সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিন্ম ১৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিন্ম ১৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসিক ফি দিতে হয় ক্যাডেট কলেজে।

কেন পড়বে ক্যাডেট কলেজে?

ক্যাডেট কলেজের প্রতিটি শিক্ষার্থী অত্যন্ত শৃংখলা ও অধ্যবসায়ের মধ্যে ক্লাস কার্যক্রম, ব্যক্তিগত অধ্যয়ন, খেলাধুলা, পিটি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে বড় হয়। প্রায় প্রতিটি কলেজের ভেতরেই শিক্ষার্থীদের জন্য আছে সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা। সকাল সাড়ে ৬ টা থেকে রাত ১০ টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকে ক্যাডেটরা।

সপ্তাহে ৪ দিন পিটি (শারীরিক ব্যয়াম প্রশিক্ষণ) ও ২ দিন ড্রিল করার মধ্যদিয়ে শুরু হয় দিনের। সকাল সাড়ে ৭ টায় নাস্তা খেয়ে ৮ টার মধ্যে ক্লাসে যেতে হয় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে। সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত ক্লাসে আলোচনা চলে কারও কোনো পড়া বুঝতে সমস্যা আছে কিনা। সাড়ে ৮ টা থেকে ক্লাস শুরু হয়ে মিল্ক ব্রেকসহ (দুধসহ হাল্কা নাস্তা) চলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। ১ টা ৪০ মিনিটে ডাইনিং হলে দুপুরের খাবার খেতে হয়। সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত নিজের আবাসিক হাউসে ফিরে বিশ্রাম নেয় ছাত্ররা। সাড়ে ৩ টার পর কলেজ মাঠে বাস্কেটবল, ভলিবল, সাঁতার, স্কোয়াশ, ফুটবল যে কোনো একটি খেলা বাধ্যতামূলক।

সন্ধ্যার নাস্তা খেয়ে মুসলমান ক্যাডেটরা মাগরিবের নামাজ পড়তে কলেজের মসজিদে যায়। অন্য ধর্মের ছাত্ররা নিজ নিজ হাউসের প্রার্থনা রুমে প্রার্থনা করে। ক্যাডেট কলেজে সান্ধ্যপ্রার্থনাকে ‘ডিসিপ্লিনের অংশ’ হিসেবে ধরা হয়।

এরপর সাড়ে ৬ টায় শুরু প্রতিদিনের ব্যক্তিগত অধ্যয়ন। রাত ৮ টায় আবার ডাইনিং হলে সবাই একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে পড়ার টেবিলে ফিরে যায়। চলে রাত ১০ টা পর্যন্ত। ১০ টায় যার যার হাউসে ফিরে যায় সবাই। এই সময়টাতে প্রয়োজনে হল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ক্যাডেটরা মোবাইল ফোনে বাসায় কথা বলতে পারে। রাত ১০ টা ৪০ মিনিটে একসঙ্গে নিভে যায় সব হাউসের বাতি। তার আগে বন্ধুদের সঙ্গে গল্পগুজব বা পরদিন পরিধানের জন্য জামা-কাপড়-জুতো ঠিকঠাক করার সুযোগ দেয়া হয়।

►► আরো দেখো:

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যেখানে সকাল থেকে রাত অবধি ক্লাস-কোচিং আর ব্যক্তিগত অধ্যয়নে ব্যস্ত থাকতে হয়, সেখানে কোচিং ছাড়াই মাত্র ৮ ঘণ্টার লেখাপড়ায় ক্যাডেটরা পরীক্ষায় এত ভালো ফল করছে। একটি সাধারণ স্কুল-কলেজে ক্লাসরুমে অনেক ছাত্রছাত্রী থাকে। কিন্তু ক্যাডেট কলেজের প্রতিটি ক্লাসে সর্বোচ্চ ৩০ জন থাকে। ফলে শিক্ষক সবাইকে নিবিড়ভাবে পড়ানোর সুযোগ পান। কোনো ছাত্রের কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হলে ক্লাসের বাইরেও আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে।

ক্লাসের পর যাতে কোনো শিক্ষার্থীকে আর পড়তে না হয় সেটা মাথায় রেখে শিক্ষক এখানে পাঠদান করান। আর বাইরে বেশিরভাগ শিক্ষক পড়ান শিক্ষার্থীকে যাতে তার কাছে কোচিংয়ে যেতে হয় তা মাথায় রেখে।

ক্যাডেট কলেজ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি 2022 Cadet Admission Syllabus 2022 pdf Download

০২২ শিক্ষাবর্ষে ৭ম শ্রেণিতে ক্যাডেট কলেজ সমূহে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

ক্যাডেট কলেজসমূহ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ্যাডজুটেন্ট জেনারেল শাখার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত স্বায়ত্তশাসিত আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ লেখাপড়ার পাশাপাশি গরুত্বের সাথে সহশিক্ষা কার্যক্রম (Co-curricular Activities) এবং অতিরিক্ত শিক্ষা কার্যক্রম( Extra-curricular Activities ) পরিচালনা করে ক্যাডেটদের সুনাগরিক এবং চৌকস ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তােলে।

সুদক্ষ অধ্যক্ষগণের নেতৃত্বে সামরিক অফিসারের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক সামরিক alforso (Elementary Military Training) 47 9695 af forspoot ( Leadership Training ) antolis aftastattfat nog oglan সদস্যগণের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুনগত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ক্যাডেটদের এমনভাবে গড়ে তােলা হয়, যাতে ভবিষ্যতে তারা সশস্ত্রবাহিনীসহ সমাজের সকল ক্ষেত্রে দেশে ও বিদেশে যােগ্য নেতৃত্ব প্রদান করতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে ছেলেদের ০৯ টি এবং মেয়েদের ০৩ টি সহ সর্বমােট ১২ টি ক্যাডেট কলেজ রয়েছে। সকল ক্যাডেট কলেজে ২০২২ সালে ৭ম শ্রেণিতে ক্যাডেট হিসেবে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তির জন্য প্রয়ােজনীয় যােগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের নিকট থেকে অনলাইনে আবেদনপত্র আহবান করা হয়েছে।

আরো পড়ুনঃশোক দিবসের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই ভাই নিহত

ক্যাডেট কলেজ আবেদন সময়সূচী ফি ও জমাদান পদ্ধতি :

ক্যাডেট কলেজ আবেদন করার সময়সূচি ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখ সকাল ০৮০০ ঘটিকা থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২২ তারিখ বিকাল ১৭০০ ঘটিকার মধ্যে www.cadetcollege.army.mil.bd অথবা https://lcadetcollegeadmission.army.mil.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সময় প্রার্থীদের অনাধিক ১৮০x২১০এবং ২০০ কিলোবাইটের পাসপোর্ট সাইজের ছবি ব্যবহার করতে হবে। ছবি অবশ্যই ১৫ দিনের বেশি পুরনো হওয়া যাবে না।

প্রার্থীরা পরীক্ষার আবেদন ফি Trust Bank Mobile Money, Q Cash অথবা টেলিটক প্রিপেইড সিমসংবলিত যেকোনো মোবাইল থেকে এসএমএস- এই তিনটির যেকোনো একটি মাধ্যমে জমা দিতে পারবে।

ক্যাডেট কলেজ বিস্তারিত
আবেদনের তারিখ : ৩-১২-২০২১ থেকে
১৫-১-২০২২
অনলাইনে আবেদনের লিংক : https://www.cadetcollege.army.mil.bd অথবা
https://cadetcollegeadmission.army.mil.bd
লিখিত পরীক্ষার তারিখ : ২৮-১-২০২২ সকাল ৯টা থেকে
বেলা ১২টা পর্যন্ত
আবেদন ফি : ১৬০০ টাকা
শিক্ষার্থীর বয়স : সর্বোচ্চ ১৩ বছর ৬ মাস (১ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে)
শিক্ষাগত যোগ্যতা : ৬ষ্ঠ শ্রেণি পাস

অনলাইনে আবেদন করার জন্য ভিজিট করুন: https://www.cadetcollege.army.mil.bd অথবা https://cadetcollegeadmission.army.mil.bd ওয়েবসাইটে।

আরো দেখুনঃ বিশ্বের প্রথম ‘কৃত্রিম ভ্রূণ’ তৈরি করলেন ইসরাইলি বিজ্ঞানীরা

Cadet College ভর্তি পরীক্ষার জন্য ন্যূনতম শারীরিক যোগ্যতা ও অযোগ্যতা

Cadet College Admission Notice 2022 প্রার্থীর জাতীয়তা অবশ্যই বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রার্থীদের অবশ্যই ক্লাস সিক্স বা সমমানের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বয়স : ১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে বয়স ১৩ বছর ০৬ মাস হতে হবে।

  • উচ্চতা : সর্বনিম্ন ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি (ছেলে-মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রে)।
  • ফিটনেস : প্রার্থীদের অবশ্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট থাকতে হবে।
  • পূর্ববর্তী ক্যাডেট কলেজের ভর্তি হলে। লিখিত, মৌখিক এবং স্বাস্থ্য-পরীক্ষা অযোগ্য হওয়া
  • গ্রস নাক হাঁটু, ফ্ল্যাট ফুট, রঙিন ব্লাইন্ড এবং ওজন ।হাঁপানি, মৃগী, হৃদরোগ, বাত, বাতজনিত |
  • জ্বর, যক্ষ্মা, ক্রনিক আমাশয়, হেপাটাইটিস, ডুডোনাল আলসার নাইট অন্ধত্ব, যে কোনও ধরণের ডায়াবেটিস, হিমোফিলিয়া, শ্রোণী অ্যাসিড ইত্যাদি প্রভাবিত প্রার্থীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা উর্তিন্ন না হলে।

আরো পড়ুনঃ ৬৯ সন্তানের জননী ৪০ বছরই ছিলেন গর্ভবতী

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জমাদান পদ্ধতি :

ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরিক্ষা যেসকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগবে এবং জমাদান পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত দেখতে পারবেন। Cadet College Admission এক্সাম 2022 কাগজপত্র বিস্তারিত দেখুন

  • প্রার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বা প্রাথমিক ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সত্যায়িত সনদপত্র
  • ৫ম শ্রেণিতে ইংরেজি মাধ্যমে অধ্যয়নকৃত শিক্ষার্থীদের তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক উত্তীর্ণের প্রত্যয়নপত্র
  • প্রার্থীর জন্মনিবন্ধন বা জন্ম সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি
  • প্রার্থীর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক ষষ্ঠ বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণের সাল উল্লেখপূর্বক সনদপত্র
  • ফলাফল প্রকাশিত না হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক প্রার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে এই মর্মে প্রদত্ত সনদ
  • প্রার্থীর বাবা-মা বা অভিভাবকের মাসিক আয়ের স্বপক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র
  • প্রার্থীর অভিভাবক বা বাবা-মা উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি (পরিচয়পত্র না থাকলে যথাযথ কারণ প্রদর্শনপূর্বক প্রত্যয়নপত্র) এবং অনলাইন আবদেনপত্রে আপলোড করা প্রার্থীর ছবির অনুরূপ পাসপোর্ট এবং স্ট্যাম্প সাইজের রঙিন ছবি
  • সফলভাবে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণের পর উক্ত কাগজপত্রাদি ১৫x১০ ইঞ্চি খামের উপরে প্রার্থীর ইনডেক্স নম্বর ও পরীক্ষা কেন্দ্রের নাম উল্লেখপূর্বক ৩ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখের মধ্যে প্রার্থীর প্রবেশপত্রে উল্লিখিত পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাডেট কলেজের ঠিকানায় রেজিস্টার্ড ডাক বা বাহকের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে।
  • উল্লেখ্য, কোটা সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অবশ্যই ক্যাডেট কলেজগুলোর ‘ই-বুথ আউটলেট’র মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
  • সেক্ষেত্রে কোটাধারীদের তাদের সংশ্লিষ্ট কোটার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজসহ অন্যান্য কাগজপত্র ও ছবির সফট কপি সঙ্গে আনতে হবে।
  • উল্লেখ্য, প্রার্থী ও অভিভাবকদের সুবিধার্থে অনলাইনে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি জমাদানের জন্য প্রতিটি ক্যাডেট কলেজে এবং ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে একটি করে ‘ই-বুথ আউটলেট’ স্থাপন করা হয়েছে।
  • এ সব ই-বুথে উপস্থিত হয়ে অনলাইনে আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন ফি জমা দেওয়া যাবে।

ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি ও তারিখ

Cadet College Admission exam ভর্তি পরীক্ষা হবে ৩ ধাপে – লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষা হবে ৪টি বিষয়ের উপর মোট ৩০০ নম্বরে। ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক ধাপ হচ্ছে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়ে মৌখিক ও স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা এবং এবং স্যুটাবিলিটি টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষা হবে ২৮ জানুয়ারি ২০২২ (শুক্রবার) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত। লিখিত পরীক্ষার মোট ৩০০ নম্বর ক্যাডেট কলেজে ভর্তির লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময় মৌখিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ক্যাডেট ভর্তি পরীক্ষাসংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে www.cadetcollege.army.mil.bd অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে পারেন।সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানে অগ্রাধিকার : ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা শেষে ক্যাডেটদের সশস্ত্র বাহিনীর কমিশন্ড অফিসার পদে নির্বাচনী পরীক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে ক্যাডেটদের শুধু ISSB পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েই সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদান করা যায় এবং তা বাধ্যতামূলক।

ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন ( লিখিত )

ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন লিখিত মোট ৩০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে

  1. গণিতে ১০০ নম্বর
  2. বাংলায় ৬০ নম্বর
  3. ইংরেজিতে ১০০ নম্বর
  4. ও সাধারণ জ্ঞানে ৪০ নম্বর

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই পরবর্তী ধাপের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজের তালিকা

বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ১২টি ক্যাডেট কলেজ রয়েছে। Cadet College তালিকা বিস্তারিত দেখতে পারবেন। সেগুলোর মধ্যে প্রথম ৯টি ছেলেদের, পরের ৩টি মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত। কোন ক্যাডেট কলেজ কবে প্রতিষ্ঠা হয়েছে নিচে মোট বাংলাদেশের ক্যাডেট তালিকা দেওয়া হয়েছে।

  1. সিলেট ক্যাডেট কলেজ
  2. ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ
  3.  মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ
  4. জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ
  5.  কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ
  6. ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ
  7. ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ
  8. পাবনা ক্যাডেট কলেজ
  9. রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ
  10. বরিশাল ক্যাডেট কলেজ
  11. রংপুর ক্যাডেট কলেজ
  12. ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ
বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজের তালিকা

এছাড়া, সম্প্রতি ‘ক্যাডেট’ মর্যাদায় উন্নীত হওয়া মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল খুলনা, যা সেনাবাহিনীর মাধ্যমে পরিচালিত স্বায়ত্তশাসিত ক্যাডেট কলেজ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: