HomeEducationডোনাল্ড ট্রাম্পের জীবনী Donald Trump biography in bangla

ডোনাল্ড ট্রাম্পের জীবনী Donald Trump biography in bangla

ডোনাল্ড ট্রাম্প, সিনিয়র(জন্মঃ জুন ১৪, ১৯৪৬)

প্রারম্ভিক জীবনী

 এই গ্রহের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্টের প্রেসিডেন্ট, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম রাষ্ট্রপতি। তিনি এছাড়াও একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্ব,লেখক হিসেবে আলোচিত, দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশ্যানের পরিচালক এবং ট্রাম্প এন্টারটেইনম্যান্ট রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা jar  পুরো নাম ডোনাল্ড জন ট্রাম্প সিনিয়র ।

ডোনাল্ড জন ট্রাম্প

জুন ১৪, ১৯৪৬ সালে নিউ ইয়র্ক শহরের কুইন্সে জন্মগ্রহণ করে। তাঁর মা ম্যারী অ্যানী একজন গৃহিণী ও লোকহিতৈষী এবং তাঁর বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন একজন রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ী। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে ট্রাম্প চতুর্থ।

ট্রাম্পের এক ভাই, রবার্ট এবং দুই বোন: ম্যারীঅ্যানী এবং এলিজাবেথ রয়েছে। ট্রাম্পের বোন ম্যারীঅ্যানি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডেরাল আদালতের একজন বিচারপতি। ট্রাম্পের আরেক ভাই ফ্রেড জুনিয়রের মৃত্যু হয়েছিল) অতিরিক্ত মদ্যপানের দরুণ।

ট্রাম্পের পৈতৃক পিতামহরা জার্মানীর অভিবাসি ছিলেন।

ট্রাম্প পরিবারের দো-তলা বিশিষ্ট মক ট্যুডোর রিভাইভাল আদলে একটি বাড়ি ছিল যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউ-ফরেস্ট স্কুলেঅধ্যয়নের সময় বসবাস করতেন। কিউ-ফরেস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাবা ফ্রেড ট্রাম্প সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক পরিষদের সদস্য ছিলেন।

১৯৮৩ সালের এক সাক্ষাৎকারে তাঁর বাবা ফ্রেড ট্রাম্প বলেছিলেন যে “ট্রাম্প ছেলেবেলায় ছিলেন খুবই দুরন্ত প্রকৃতির” যার দরুন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিউ ইয়র্ক মিলিটারি একাডেমীতে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে তৎপর হতে হয়েছিল।

ট্রাম্প তাঁর অষ্টম শ্রেণী এবং হাইস্কুল জীবন নিউ ইয়র্ক মিলিটারি একাডেমীতেই শেষ করেন। ২০১৫ সালে ট্রাম্প এক বায়োগ্রাফারকে বলেছিলেন যে, নিউ ইয়র্ক মিলিটারি একাডেমী তাঁকে অন্যান্য ছেলেদের চেয়েও বেশি সামরিক প্রশিক্ষণ শিখিয়েছিল।

ট্রাম্প দুই বছর অব্দি ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছিলেন।  রিয়েল এস্টেট ব্যবসাকে নিজের কর্মজীবন হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার পিতার যথেষ্ট অনুপ্রেরণা ছিল।

ট্রাম্প পেন্সিল্‌ভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় অধীন হোয়ারটন স্কুলে অধ্যয়নের সময় তার পিতার ‘এলিজাবেথ ট্রাম্প এন্ড সান’ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি তার পিতার প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেন। ১৯৭১ সালে ট্রাম্প তার পিতার প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ”দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশ্যান” রাখেন। ট্রাম্প বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল স্টেট ব্যবসা এবং মিডিয়া তারকাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব।

২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ৩০৬টি ইলেক্টরাল ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

ব্যক্তিগত জীবন

ট্রাম্প জীবনে তিনবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তার ব্যক্তিগতজীবন ব্যাপকভাবে মিডিয়া কাভারেজ অর্জন করেছিল।

ট্রাম্প মডেল ইভানা জেলনিকোভাকে এপ্রিল ৭, ১৯৭৭ সালে নিউ ইয়র্ক শহরের মার্বেল কলেজিয়েট চার্চে বিয়ে করেন।তাদের তিন সন্তান: ডোনাল্ড ট্রাম্প, জুনিয়র  এবং এরিক ট্রাম্প এবং কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্প  রয়েছে।

স্ত্রী ইভানা ট্রাম্প ১৯৮৯ সালে স্পাই ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে “দ্য ট্রাম্প” হিসেবে সম্বোধন করার পর থেকেই ট্রাম্পের এই নামটি ব্যাপকভাবে মিডিয়া জগতে আলোড়ন ফেলে।১৯৯০ এর প্রথম দিকে ইভানার সাথে ট্রাম্পের বৈবাহিক সম্পর্ক সামান্য উত্থান-পতন দেখা দেয় কেননা সেই সময় ট্রাম্প অভিনেত্রী মার্লা ম্যাপলসের সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পরেছিল।শেষে ১৯৯১ সালে ইভানা আর ট্রাম্পের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে।

Donald Trump biography
Donald Trump biography

ট্রাম্প আর অভিনেত্রী মার্লা ম্যাপলস্‌ অক্টোবর ১৩, ১৯৯৩ সালে একটি কন্যা শিশুর জন্ম দেয়।এর দুই মাস পরে ডিসেম্বর ২০, ১৯৯৩ সালে তারা দুইজন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু ১৯৯৭ সালের মে মাসে তারা আলাদা হয়ে যায় এবং ১৯৯৯ সালের জুন মাসে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে।

ট্রাম্প ১৯৯০ এর মাঝামাঝি সময়ে মডেল কারা ইয়ঙ্গের সাথেও প্রণয়ে জড়িয়ে পরেন।

এছাড়া রাজকুমারী ডায়ানার প্রতিও ট্রাম্পের অনুরক্তি ছিল। ট্রাম্প ১৯৯৭ সালে তার বই “দ্য আর্ট অব কামব্যাক”-এ লিখেছিলেন, “আমার শুধু একটি অনুতাপই রয়েছে যে আমি কখনও ডায়ানা স্পেন্সারকে প্রণয় প্রার্থনা করার সুযোগ পায় নি”। তিনি আরও বলেন, “তাঁর (ডায়ানা) সাথে আমার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎ হয়েছিল… তিনি একজন প্রকৃত রাজকুমারী- একজন স্বপ্ন বালিকা (ড্রিম ল্যাডি)”

ট্রাম্প ১৯৯৮ সালে স্লোভেনিয়ান-বংশোদ্ভুত মডেল মেলানিয়া নসের সাথে প্রণয় সম্পর্কে জড়িয়ে পরেনএবং ২০০৫ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

২০০৬ সালে মিলেনিয়া এবং ট্রাম্প, ব্যারন উইলিয়াম ট্রাম্প নামের একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়।ট্রাম্পের সাতজন নাতি-নাতনি রয়েছে।

ধর্মীয় দর্শন

ট্রাম্প হলেন একজন প্রেসবিট্যারিয়ান।২০১১ সালের এপ্রিল মাসে ৭০০ ক্লাবকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি একজন প্রোটেস্ট্যান্ট,  এবং অনেক বছর ধরে গির্জার সাথে আমার একটি ভাল সম্পর্ক রয়েছে। আমি মনে করি ধর্ম একটি বিস্ময়কর জিনিস। আমি মনে করি আমার ধর্ম অপরূপ”।নির্বাচনী প্রচারকার্যের ডোনাল্ড তার শ্রোতাবৃন্দদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন তার বই “দ্য আর্ট অব দ্য ডিল” হলো তার দ্বিতীয় পছন্দের গ্রন্থ এবং তিনি আরো বলেন, “তোমরা কী জানো আমার প্রথম পছন্দের বই কোনটি? বাইবেল! কোন কিছুই বাইবেলের সমতুল্য নই”

ইহুদি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের সাথেও ট্রাম্পের সু-সম্পর্ক রয়েছে।২০১৫ সালে একটি ইহুদি দৈনিক পত্রিকা অ্যালজেমেইনার জার্নালের এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে “অ্যালজেমেইনার লিবার্টি অ্যাওয়ার্ড” পুরষ্কার গ্রহণকালে ট্রাম্প বলেন, “শুধু ইহুদি নাতি-নাতনিই নয়, আমার ইহুদি কন্যাও রয়েছে (ইভাঙ্কা তাঁর স্বামী জ্যারেড কুশনারের সাথে বিয়ের পূর্বে ইহুদি ধর্মে দিক্ষিত হয়েছিল) এবং আমি খুবই গর্বিত এটি নিয়ে… তাঁর (ইভাঙ্কার) ইহুদি হওয়ার কথা ছিল না কিন্তু তবুও আমি খুশি যে সে ইহুদি হয়েছে”।

ট্রাম্প স্ব-বিরোধী পন্থায় বিভিন্ন সময়ে তাঁর রাজনৈতিক বিষয়ক পাণ্ডিত্য এবং অবস্থান বর্ণনা করেছেন। পলিটিকো ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখা করেছেন “সারগ্রাহী, তাৎক্ষণিক উদ্ভাবনকারী এবং প্রায়শ স্ব-বিরোধী” হিসেবে। ট্রাম্প পূর্বে তাঁর রাজনৈতিক দলকে তালিকাভুক্ত ও সম্মিলিত করেছেন রিপাবলিকান পার্টি, ইনডিপেন্ডেস পার্টি এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির সাথে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প!

 পুরো নাম ডোনাল্ড জন ট্রাম্প। সম্ভবত বর্তমানের সবচেয়ে আলোচিত নাম এটি। এবারের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে বড় দুই দলের একটি রিপাবলিকান দলের মনোনীত প্রার্থী থেকে এখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তিনি। তবে এর বাইরেও তার পরিচিতি আছে বিশাল ব্যবসায়ী হিসেবে। এবারের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দিতা করে আমেরিকার ৪৫তম প্রসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলেন এই আলোচিত ব্যবসায়ীই। আমাদের আজকের আয়োজন সাজানো হয়েছে এই বিশাল ব্যবসায়ী এবং বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু বিস্ময়কর অজানা তথ্য নিয়ে।

১৩ বছর বয়সে মিলিটারি স্কুলে ট্রাম্প ছোট বেলা থেকেই কিছুটা উদ্ধত ছিলেন। তার বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর তখন তাকে তার কিউ-ফরেস্ট স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়। কিউ-ফরেস্ট একটি প্রাইভেট স্কুল ছিল। ট্রাম্পের বাবা সেখানকার ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। তারপরও ট্রাম্পকে সেখান থেকে বের করে দেয়া হয়। এ থেকে আমরা সেসময়ে তার উদ্ধতপনা সম্বন্ধে কিছুটা বুঝতে পারি। এর ফলে তার বাব-মা তাকে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই নিউ ইয়র্ক মিলিটারি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিতে বাধ্য হন। তারা মনে করেছিলেন যে, ট্রাম্পের আরো বেশি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন যাপন করা উচিত। নিউইয়র্ক মিলিটারি স্কুলে ট্রাম্প ক্যাপ্টেন পদবী অর্জন করেছিলেন। ট্রাম্পকে ইংল্যান্ডে ঢুকতে না দেয়ার বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিতর্ক

Donald Trump biography
Donald Trump biography

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইংল্যান্ডে ঢুকতে দেয়া যায় কিনা এ বিষয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টে একটি বিতর্কের আয়োজন করা হয়েছিল। ব্রিটেনের ২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ ট্রাম্পকে দেশে ঢুকতে না দেয়ার পক্ষে একটি পিটিশানে স্বাক্ষর করে। এর ফলে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এ বিষয়ক বিতর্কটি আয়োজিত হয়েছিল।

দেউলিয়া থেকে বিলিওনিয়ার

 

ডোনাল্ড ট্রাম্প সমন্ধে এই বিষয়টি অনেকেই জানেন না। ১৯৯০ সালের দিকে ট্রাম্প প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়েছিলেন। সেসময় তার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ ছিল। এছাড়াও ৯০০ মিলিয়ন ডলারের ব্যক্তিগত ঋণও ছিল। তিনি তার ট্রাম্প শাটল প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত “ট্রাম্প টাওয়ার আর আটলান্টিক সিটির ৩ টি ক্যাসিনো রক্ষা করতে সমর্থ হন। বর্তমানে তিনি ট্রাম্প অর্গানাইজেশানের সিইও। বর্তমানে তার অধীনে ১০০ টিরও বেশি কম্পানি রয়েছে। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২.৬ বিলিয়ন ডলার।

 

 দ্যা অ্যাপ্রেন্টিস নামক রিয়েলিটি শোর উপস্থাপক

ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০০৪ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দ্যা অ্যাপ্রেন্টিস নামের একটি টিভি রিয়েলিটি শো এর হোস্ট বা, উপস্থাপক ছিলেন। তিনি এই রিয়েলিটি শোটির সহ প্রযোজকও ছিলেন। এ অনুষ্ঠান থেকে ট্রাম্পের এপিসোড প্রতি আয় ছিল ৩,৭৫,০০০ ডলার। এই রিয়েলিটি শোটি টিভি ইতিহাসের অত্যন্ত সফল একটি রিয়েলিটি শো। ৩ বার বিয়ে চিত্রঃ ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার বর্তমান স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প (Source: lifedaily.com) চিত্রঃ ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার বর্তমান স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প (Source: lifedaily.com) হ্যাঁ, ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পর্যন্ত ৩ বার বিয়ে করেছেন। তার প্রথম স্ত্রী ইভানা ট্রাম্প, দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা মাপলেস এবং বর্তমান স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প। ট্রাম্পের প্রথম স্ত্রী শুধু একজন মডেলই নয়, চেক অলিম্পিক স্কি দলেরও সদস্য ছিলেন। ইভানা ট্রাম্প এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৯৯০ সালের দিকে ডিভোর্স হয়ে যায়। ট্রাম্পের সাবেক এই স্ত্রী ১৯৮৯ সালে তাদের মাঝে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে “রেপ হিসেবে অভিহিত করেন। এছাড়াও তার সাবেক স্ত্রীকে তিনি বেশ গুরুতর আঘাতও করেছিলেন। একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে রাগের মাথায় তার স্ত্রীর মাথার চুলও ছিঁড়ে নিয়েছিলেন ট্রাম্প।

সবচেয়ে বাজে সহ অভিনেতার পুরস্কার

ট্রাম্প ১৯৯০ সালে “ঘোস্ট কান্ট ডু ইট নামের একটি মুভিতে সহ অভিনেতা হিসেবে অভিনয় করেন। এ সিনেমায় বেশ বাজে অভিনয়ের জন্য অস্কারের বিপরীত একটি অ্যাওয়ার্ড রাজ্জি (গোল্ডেন রাস্পবেরি অ্যাওয়ার্ড) অ্যাওয়ার্ড জিতে নেন (সবচেয়ে বাজে সহ অভিনেতা ক্যাটাগরিতে)। এ অ্যাওয়ার্ডটি অস্কার দেয়ার ঠিক এক দিন আগে দেয়া হয়ে থাকে। ট্রাম্প অ্যালকোহল খান না ট্রাম্প অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকেন। তার ভাই একজন অ্যালকোহলিক ছিলেন এবং তার এই অভ্যাসের জন্য ১৯৮২ সালে তিনি মারা যান।

 

ব্যাটম্যান এবং ট্রাম্প টাওয়ার

ট্রাম্পের বসবাসের জন্য তৈরি বিল্ডিং ট্রাম্প টাওয়ার ক্রিস্টোফার নোলানের দ্বারা নির্মিত ব্যাটম্যান সিরিজের ৩য় সিনেমায় ব্যবহৃত হয়েছে। “দ্যা ডার্ক নাইট রাইসেস সিনেমায় এই বিল্ডিংটি কাল্পনিক ওয়েইন ইন্টারপ্রাইজ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ট্রাম্প টাওয়ারই হল বসবাসের জন্য তৈরি করা পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা বিল্ডিং। ১৯২৯ সালে তৈরি করা আর্ট ডেকো বিল্ডিংটি ভেঙ্গে ট্রাম্প এ বিল্ডিংটি তৈরি করেছিলেন। আর্ট ডেকো বিল্ডিংটি আর্কিটেকচারগত দিক থেকে এবং ঐতিহাসিক দিক থেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই সেটি ভেঙ্গে সেখানে ট্রাম্প টাওয়ার তৈরির ঘটনা বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

ট্রাম্প টাওয়ার (Source: ibitimes.com) ট্রাম্প টাওয়ার;

এ বিল্ডিং তৈরি করতে যেয়ে ট্রাম্প ২০০ পলিশ শ্রমিক নিয়োগ করেছিলেন। তাদের দিয়ে অমানুষিক পরিশ্রম করানো হত। দিনে প্রায় ১২ ঘন্টা করে কাজ করিয়ে নেয়া হত। তাদের প্রতি ঘন্টা কাজের মজুরি ছিল মাত্র ৪ থেকে ৫ ডলার। যদিও ট্রাম্প বিষয়গুলো জানতেন না বলে দাবী করে থাকেন। ট্রাম্পের বোন ট্রাম্পের বোন ম্যারিয়ানে ট্রাম্প বারি একজন আমেরিকার সিনিয়র সার্কিট জাজ। এই পদটি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কর্তৃক প্রদান করা হয়ে থাকে। ম্যরিয়ানে ১৯৯৯ সালে এই পদের জন্য মনোনীত হন। কিন্তু তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দি হিলারি ক্লিনটনের স্বামী বিল ক্লিনটন। ট্রাম্পের বোন রিপাবলিকান হওয়ার পরও ডেমোক্রেট বিল ক্লিনটন তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসান। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার বোন (Source: ibitimes.com) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার বোন;

ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তিতে দাবী করেন যে তার বোনকে এ পদে বসানো হয়েছিল কারণ তিনি বিল ক্লিনটনের প্রেসিডেন্সি পদে লড়াইয়ের সময় তাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছিলেন। এ সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “যখন আপনি তাদের দেবেন, তখন তারা সকল ধরনের কাজই করবে যা আপনি তাদের বলবেন। এর আগেও প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য লড়েছিলেন ট্রাম্প

এর আগেও ২০০০ সালে ট্রাম্প রিফর্ম পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য লড়াই করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ভোট শুরুর একদম আগে আগে তিনি তা থেকে সড়ে আসেন। তারপরও বেশ কিছু জায়গায় রিফর্ম পার্টির ভোটে ট্রাম্প জয় লাভ করেছিলেন।

 

নিজের ব্যবসার জন্য বাইরের শ্রম

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়ই তার বক্তব্যে আমেরিকাকে আবার গ্রেট বা, মহান বানানোর কথা বলে থাকেন। তিনি বাইরের শ্রম ব্যবহারের বিপক্ষেও বলে থাকেন। চায়না এবং মেক্সিকোকে আমেরিকার অর্থনীতি ধ্বংসের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। কিন্তু আসলে তিনি নিজেও নিজের ব্যবসার কাজে প্রায় সব কাজ বিদেশের শ্রম দ্বারা করে থাকেন। যে দেশের শ্রমিকরা সবচেয়ে কম খরচে তার কাজ করে দেয় সেই দেশেই তিনি তার কাজ আউটসোর্সিং হিসেবে পাঠান। ট্রাম্পের কাপড় ব্যবসা মূলত টিকেই আছে চায়না আর বাংলাদেশের উপড় ভর করে। ট্রাম্পের গহনার ব্যবসাও চায়নার উপড় নির্ভরশীল। এমনকি নিজের নির্বাচনী প্রচারের বিভিন্ন সামগ্রীও তিনি কম খরচে চায়না থেকে বানিয়ে এনেছিলেন। এবং সেগুলো পরিধান করেই তিনি মানুষের সামনে চায়নার শ্রম ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিয়মিত বক্তব্য দিয়েছেন। ইমিগ্র্যান্ট বিদেশি ইমিগ্র্যান্টের ব্যাপারে ট্রাম্প প্রায়সই বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রেখেছেন। অভিবাসীদের বিষয়ে তার শক্ত অবস্থান এবং পরবর্তিতে বাইরের লোকদের আমেরিকায় না আসতে দেয়ার ব্যাপারে তার বক্তব্যগুলো সারা বছর ধরেই আলোচিত ছিল। কিন্তু মজার ব্যাপার হল ট্রাম্পের নিজের মা ম্যারি আন্নে ম্যাকলিওড ছিলেন একজন স্কটিশ ইমিগ্র্যান্ট। এছাড়াও তার দাদা-দাদী জার্মানী থেকে এসেছিলেন। যদিও বহু বছর ধরে ট্রাম্প বিশ্বাস করতেন তার দাদা-দাদীরা সুইডিশ ছিলেন। এর পেছনের কারণ হল তার বাবা নিজেদের পরিবারকে জার্মানীর বদলে সুইডেন থেকে এসেছে বলেই পরিচয় দিতেন। ট্রাম্পের বাবা ১৯৬০ সালে এ বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, তার চেনা পরিচিত অনেকেই ইহুদী ছিল। আর তাদের কাছে জার্মান পরিচয় দেয়াটা আসলে খুব ভাল কিছু ছিল না।

কে এই ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে প্রায়ই আলোচিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইদানীং বিতর্কের রাজা বলে খেতাব পেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার জন্ম নিউ ইয়র্কে ১৯৪৬ সালে। বাবা ছিলেন রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ী। তিনি নিজেও এই খাতে সফল। কিন্তু তার রয়েছে হরেক রকম পরিচয়। ব্যবসায়ী ছাড়াও তিনি মিস ইউনিভার্সের স্পন্সর ছিলেন দীর্ঘদিন। তাতে তার নামযশ অর্থ বিত্ত হয়েছে অনেক। এপ্রেনটিস্ট নামের একটি রিয়ালিটি টিভি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন। রেসলিং ম্যাচ উপস্থাপনা করেছেন। বেশ কবার নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন।

তার বেশ সমর্থকও জুটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন। মামলা ঠুকেছেন এবং মামলা খেয়েছেন। এখন তার রয়েছে ৫৮ তলা একটি ভবন, স্পোর্টস ক্লাব, শেয়ার বাজারে পুঁজি। সবমিলিয়ে শত কোটি ডলার সমপরিমাণ সম্পদের মালিক। রাজনীতিতে তার কোন অভিজ্ঞতাই নেই। কিন্তু তবুও যুক্তরাষ্ট্রের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলা হয় নিজের সম্পর্কে প্রচার তিনি খুব ভালভাবে করেন। তাই পাচ্ছেন সেলেব্রিটির মতো মনোযোগ। তবে সেই মনোযোগের সবটাই সুখের নয়।

সে দেশে মুসলিম দের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা উচিত এমন বক্তব্য দিয়ে হাততালি যেমন পেয়েছেন আবার ব্যাপক সমালোচিতও হয়েছেন। সম্প্রতি সোমালিয়ার জিহাদি গোষ্ঠী আল-শাবাব তাদের একটি প্রচারণামুলক তথ্যচিত্রে ট্রাম্পের এই বক্তব্য জুড়ে দেয়। এর পরও পিছু হটেন নি তিনি।

 ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুতল ভবন ট্রাম্প টাওয়ার। বরং উল্টো বলেছেন, দেশের জনগণ তার এই সাহসিকতার জন্য প্রশংসা করছে কারণ, তার ভাষায়, সমস্যাটিকে অনেকেই এড়িয়ে গেছেন। প্রতিবন্ধী এক সাংবাদিককে ব্যঙ্গ করে সমালোচিত হয়েছেন। রিপাবলিকান দলের এক নারী রাজনীতিবিদকে কুৎসিত বলেছেন আবার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের সাথে ঝগড়া করেছেন। প্রায় নিয়মিতই এরকম নানান বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আলোচিত এবং সমালোচিত এমনকি অনেকের হাসির খোরাকও হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কমেডিয়ানরা নিয়মিত তাকে নিয়ে ঠাট্টা করে। এর আগে বেশ কবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু কখনোই শেষ পর্যন্ত দাঁড়ানো হয়নি। তবে এবার বেশ শক্তভাবে এগুচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন ক্ষমতা আর প্রচারে ব্যাপক আগ্রহী ট্রাম্প অনেকটাই আত্মপ্রেমী। সেখান থেকেই হয়ত তার প্রেসিডেন্ট হবার স্বপ্ন।

 যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি বই পড়েন না। একটা আস্ত বই কোনোদিন পড়েননি তিনি। তাঁর সময় হয়নি। টাকাকড়ির বাইরেও যে একটা পৃথিবী আছে ‘আমি’, ‘আমি’র বাইরেও যে একটা ‘আমরা’ আছে, ‘মূল্য’র বাইরেও যে ‘মূল্যবোধ’ থাকতে পারে– অজানা তাঁর। এক নার্সিসিস্টকে প্রতিদিন টিভিতে দেখতে হচ্ছে বিশ্ববাসীকে!

Read More: নকুল আমার নাম

একজন লোক যিনি কিনা বিশ্ব শাসন করবেন বলে জেদ ধরেছেন, একটা বাক্য পর্যন্ত শুদ্ধ বলতে পারেন না। কথাবার্তা অগোছালো আর মিথ্যায় ভরা। বর্ণবাদী, নারীবিদ্বেষী, উগ্র, জোচ্চোর। করফাঁকি দেওয়াকে বলেন ‘স্মার্টনেস’ এবং বললেন তা প্রকাশ্যেই। লভ্যাংশ তো দুই আঙুলে গোনা যায়। ‘বুদ্ধি’ আটকে আছে তাই তাঁর দুই আঙুলের ফাঁকে। পরিধি বাড়েনি। লোকটির বাসায় এ জন্য কোনো বই নেই।

ছেলেবেলাায় কেউ তাঁকে গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়ায়নি। বই পড়ে শোনায়নি কেউ। ভাবনার পৃথিবী বড় হবে কীভাবে? এই লোক জানেন না পৃথিবীর ইতিহাস। কখনও পড়েননি ফিলসফি। সফল মানুষদের জীবনী ঘেঁটে দেখেননি কোনোদিন। কিংবা পড়েননি এমন কোনো গল্প বা উপন্যাস যেখানে মানুষের নিঃস্বার্থ হওয়ার কাহিনি আছে, আছে টাকার বাইরেও জীবনের অন্য কোনো লাভের মহিমাবর্ণন।

ভাবতে পারি না ৮ নভেম্বর সকালে ঘুম থেকে জেগে শুনব ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কতটা ভালো কতটা খারাপ– এই বিতর্কের অনেক বাইরে ট্রাম্প। ট্রাম্প ইটসেলফ এক দুঃস্বপ্ন! রিপাবলিকানরা এবং অন্যান্য সুবিধাসন্ধানী গোষ্ঠী এই মাথামোটাকে সামনে নিয়ে এসেছে তাঁকে দিয়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে। ঠিক যেমন হিটলারকে দেওয়া হয়েছিল চ্যান্সেলরশিপ। পৃথিবী এখনও ভুগছে!

ডোনাল্ড ট্রাম্প বই পড়েন না– এই তথ্য আরও বিভীষিকাময়। গ্রন্থই মানব আকৃতির প্রাণিকে ‘মানব’ বানায়। মানুষের নিশ্চল বোধে সুড়সুড়ি দিয়ে জাগাতে পারে মানবিকতা। ট্রাম্পের অসারবোধে চলুন সুড়সুড়ি দিই। তাঁকে বই কিনে পাঠাই। বই কিনে তাঁর দেউলিয়া হওয়ার দরকার নেই; বরং চলুন, পৃথিবীকে দেউলিয়াত্বের অমানিশা থেকে বাঁচাতে তাঁকেই আমরা বই উপহার দিই।

ট্রাম্প সাহেবের পাঠের জন্য ঘেঁটেঘুটে তাই একটা ‘লিস্ট’ করা হল। বইয়ের লিস্ট। তাঁকে পাঠানো যেতে পারে।

তালিকার প্রথম তিনটি বই শেক্সপিয়ারের লেখা। তিন ট্র্যাজেডি। হ্যামলেট , কিং লিয়র এবং ম্যাকবেথ । এই তিন ট্র্যাজেডি থেকে যা তিনি শিখতে পারবেন তা হল প্রতারণা, দুর্নীতি আর ঔদ্ধত্য আখেরে সুফল বয়ে আনে না।

তালিকার পরের বই জর্জ অরওয়েলের এলেগরিকাল উপন্যাস অ্যানিম্যাল ফার্ম । উপন্যাসে দেখানো হয়েছে শুকরদের হাতে ক্ষমতা গেলে কী কাণ্ড ঘটতে পারে!

হারম্যান মেলভিলের মবি ডিক হতে পারে ট্রাম্পের জন্য টার্নিং পয়েন্ট। যুক্তিহীন অবসেসন, মিথ্যাচার, ঘোর ও সংস্কার কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে মেলভিল দেখিয়েছেন তাঁর এই চমৎকার কাহিনিতে।

ক্যাচ টুয়েন্টি টু উপন্যাসটি ট্রাম্পের অবশ্যপাঠ্য। জোসেফ হেলারের এই দুনিয়া-কাঁপানো কাহিনির মর্ম যদি একবাক্যে লেখা যায়, তবে লেখা যেতে পারে– যুদ্ধ মানে অসুস্থতা। মানুষকে যুদ্ধ বা বিরোধে জড়িয়ে ফেলার যন্ত্রণাময় ও নির্মম ব্যুরোক্রেসি বর্ণিত হয়েছে এতে।

গল্প-উপন্যাসের পাশাপাশি কবিতাও পড়া যেতে পারে। ট্রাম্পের চোখ খুলে দিতে পারেন মেক্সিকান কবি অক্তাভিও পাজ। নোবেলজয়ী কবি বলেছেন দেখিয়েছেন প্রমাণ করেছেন– মেক্সিকানরা ধর্ষক নয়, সুযোগসন্ধানী নয়, মাদকব্যবসায়ী নয়; বরং তারা এক কৃষ্টির প্রণেতা, এক ঐতিহ্যের সূত্রধর।

ইতালিয়ান লেখক প্রিমো লেভির বই ইফ দিস ইজ অ্যা ম্যান দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পটভূমিকায় লেখা এক মর্মস্পর্শী গাঁথা। বইটি ট্রাম্পকে শেখাবে অর্থকড়ির চেয়েও মানবিক মূল্যবোধ অনেক দামি।

তালিকার বইগুলো যদি ট্রাম্পের জন্য হজমে কঠিন হয়, ক্ষতি নেই। যেহেতু তিনি কোনোদিন বই পড়েননি, শুরু করতে পারেন শিশুতোষ কিছু ক্ল্যাসিক দিয়ে। হ্যারি পটার সিরিজের সাতটি বই তিনি চেখে দেখতে পারেন। আস্ত্রিদ লিন্দগ্রেনের দ্য ব্রাদারস লায়নহার্ট এবং জে আর আর টলকিয়েনের ট্রিলজি দ্য লর্ড অব দ্য রিংস হতে পারে ট্রাম্পের জন্য হাতেখড়ি। যেসব শিশু-কিশোর এই বইগুলো পড়েছে তারা শিখেছে ভালো আর খারাপের দ্বন্দ্বে শেষাবধি ভালোরই জয় হয়।

এ বইগুলো পাঠানো যেতে পারে ট্রাম্পকে। কিংবা এই ধনকুবেরের জন্য আপনাদের পছন্দের বই কী কী? তালিকা করুন। পোস্ট করুন তাঁর ঠিকানায়। হাজার হাজার বই ভিড় করুক তাঁর দরজায়।

আইডিয়াটা যাঁর তিনি আমেরিকায় জন্ম নেওয়া ব্রিটিশ লেখিকা মেগ রোসফ। সম্প্রতি সুইডেন এসেছিলেন গোথেনবার্গ বইমেলায় অংশ নিতে। সেখানে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন এই আইডিয়া। বললেন, নির্বাচনের বেশি দেরি নেই। এত অল্প সময়ে ট্রাম্প কয়টাই-বা পড়তে পারবেন! কিন্তু এটা কোনো ব্যাপার না। সবাই যদি বই পাঠাতে শুরু করেন তবে ট্রাম্পের স্বপ্নের ‘সীমান্তপ্রাচীর’এর বদলে গড়ে উঠতে পারে ‘গ্রন্থপ্রাচীর’।

মেগ রোসফ আশা করছেন, এই প্রাচীর যেন ট্রাম্পের মাথায় ভেঙে পড়ে। এর নিচেই যেন গর্দভটির সমাধি ঘটে!

মেগ রোসফের ফ্যান্টাসির মতো বিয়োগান্ত নয় আমার ফ্যান্টাসি। আমিও চাই ট্রাম্পের চারপাশে গড়ে উঠুক গ্রন্থপ্রাচীর। বাড়তি যেটা চাই, বইগুলো যেন ‘জানালা’ হয়। তাতে উঁকি দিলে যেন দেখা যায় পৃথিবী।

বর্ণবাদী, নারীবিদ্বেষী, উগ্র, জোচ্চোর। করফাঁকি দেওয়াকে বলেন ‘স্মার্টনেস’ এবং বললেন তা প্রকাশ্যেই। লভ্যাংশ তো দুই আঙুলে গোনা যায়।

বিলিয়নেয়ার রিয়েল এস্টেট মোগুল এবং প্রাক্তন রিয়েলিটি টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের 45 তম রাষ্ট্রপতি।

 পাঁচ সন্তানের মধ্যে ডোনাল্ড ছিলেন চতুর্থ।

 মেরিয়ান ট্রাম্প ব্যারি তৃতীয় সার্কিটের জন্য মার্কিন আদালতের আপিলের সিনিয়র বিচারক ছিলেন, তবে তার ভাই রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরপরই নিষ্ক্রিয় অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন।

ফ্রেড ট্রাম্প জুনিয়র তার বাবার সাথে সংক্ষিপ্তভাবে কাজ করেছিলেন এবং তারপরে পাইলট হন। তিনি অ্যালকোহলের সাথে লড়াই করেছিলেন এবং ১৯৮১ সালে ৪৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান, ডোনাল্ডকে ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি কখনই অ্যালকোহল পান করেন না বা মাদক সেবন করেন না। ট্রাম্প বলেছিলেন, “তিনি আমার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন, কারণ আপনি কখনই জানেন না আপনি কোথায় শেষ হবেন।”

এলিজাবেথ ট্রাম্প গ্রু একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার যিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা জেমস গ্রুর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

রবার্ট ট্রাম্প ডোনাল্ডের ছোট ভাই যিনি তাঁর কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় পরিবার সংস্থার হয়ে কাজ করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক এবং ২০১৬ সালের আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদপ্রার্থী। তিনি দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশ্যানের পরিচালক এবং ট্রাম্প এন্টারটেইনম্যান্ট রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা।

ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক শহরের স্থানীয় বাসিন্দা ফ্রেড ট্রাম্পের ছেলে। রিয়েল এস্টেট ব্যবসাকে নিজের কর্মজীবন হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর পিতার যথেষ্ট অনুপ্রেরণা ছিল। ট্রাম্প পেন্সিল্‌ভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় অধীন হোয়ারটন স্কুলে অধ্যয়নের সময় তাঁর পিতার ‘এলিজাবেথ ট্রাম্প এন্ড সান’ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেন। ১৯৭১ সালে ট্রাম্প তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ”দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশ্যান” রাখেন। ট্রাম্প বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল স্টেট ব্যবসা এবং মিডিয়া তারকাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব।

ট্রাম্প জুন ১৬, ২০১৫ তারিখে রিপাবলিকান পার্টির অধীনে ২০১৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁর মনোনয়ন প্রার্থীতা ঘোষণা করেন। ট্রাম্প তাঁর পূর্বের প্রচারণা কর্মকান্ড দিয়ে মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ এবং জনসমর্থন অর্জনে সক্ষম হন। জুলাই ২০১৫ থেকে রিপাবলিকান পার্টির জনমত নির্বাচনের মনোনয়নের ক্ষেত্রে পছন্দের দিক থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রথম সারিতে অবস্থান করছেন।

 

ট্রাম্পের পৈতৃক পিতামহরা জার্মানীর অভিবাসি ছিলেন। তাঁর দাদু ফ্রেডেরিক ট্রাম্পের জার্মানীতে নিজের “ক্লোনডিক গোল্ড রাশ” নামের একটি রেস্তোরাঁ ছিল।তাঁর দাদু যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসি হয়ে আসেন ১৮৮৫ সালে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের আসল পদবি ছিল মূলত “ড্রাম্পফ্‌” কিন্তু ১৭ শতাব্দিতে এটি অপভ্রংশ হয়ে ট্রাম্প হয়ে যায়। ট্রাম্প লিখিত ১৯৮৭ সালের একটি বই, দ্য আর্ট অব দ্য ডিল গ্রন্থে ট্রাম্প ভুলবশত উল্লেখ করে ছিলেন যে তাঁর দাদু ফ্রেডেরিক ট্রাম্প একজন সুইডিশ বংশোদ্ভূত। মূলত এই দাবি ছিল তাঁর বাবা ফ্রেড ট্রাম্পের। কিন্তু ট্রাম্প পরবর্তীকালে স্বীকার করেছিলেন যে তাঁর পূর্ব-পুরুষরা আসলে জার্মান বংশোদ্ভুত এবং তারা ১৯৯৯ সালে নিউ ইয়র্ক শহরে জার্মান-আমেরিকান স্টুবেন প্যারেডে সেনাবাহিনীর গ্র্যান্ড মার্শাল হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

ট্রাম্প পরিবারের দো-তলা বিশিষ্ট মক ট্যুডোর রিভাইভাল আদলে একটি বাড়ি ছিল যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউ-ফরেস্ট স্কুলেঅধ্যয়নের সময় বসবাস করতেন। কিউ-ফরেস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাবা ফ্রেড ট্রাম্প সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক পরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৮৩ সালের এক সাক্ষাৎকারে তাঁর বাবা ফ্রেড ট্রাম্প বলেছিলেন যে “ট্রাম্প ছেলেবেলায় ছিলেন খুবই দুরন্ত প্রকৃতির” যার দরুন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিউ ইয়র্ক মিলিটারি একাডেমীতে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে তৎপর হতে হয়েছিল। ট্রাম্প তাঁর অষ্টম শ্রেণী এবং হাইস্কুল জীবন নিউ ইয়র্ক মিলিটারি একাডেমীতেই শেষ করেন। ২০১৫ সালে ট্রাম্প এক বায়োগ্রাফারকে বলেছিলেন যে, নিউ ইয়র্ক মিলিটারি একাডেমী তাঁকে অন্যান্য ছেলেদের চেয়েও বেশি সামরিক প্রশিক্ষণ শিখিয়েছিল।

ট্রাম্প দুই বছর অব্দি ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছিলেন। ট্রাম্প পেন্সিল্‌ভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় অধীন হোয়ার্টন স্কুল অব বিজনেসেও অধ্যয়ন করেছেন। হোয়ার্টনে অধ্যয়নের সময় ট্রাম্প তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠান “এলিজাবেথ ট্রাম্প অ্যান্ড সান” কোম্পানীতে কাজ করতেন। ট্রাম্প ১৯৬৮ সালে হোয়ার্টন বিজনেস স্কুল থেকে অর্থনীতির উপর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প, সিনিয়র (জন্ম: জুন ১৪, ১৯৪৬)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম রাষ্ট্রপতি।[৩] তিনি এছাড়াও একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্ব,লেখক হিসেবে আলোচিত।[৪][৫][৬][৭] তিনি দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশ্যানের পরিচালক এবং ট্রাম্প এন্টারটেইনম্যান্ট রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা। ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক শহরের স্থানীয় বাসিন্দা ফ্রেড ট্রাম্পের ছেলে। রিয়েল এস্টেট ব্যবসাকে নিজের কর্মজীবন হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার পিতার যথেষ্ট অনুপ্রেরণা ছিল। ট্রাম্প পেন্সিল্‌ভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় অধীন হোয়ারটন স্কুলে অধ্যয়নের সময় তার পিতার ‘এলিজাবেথ ট্রাম্প এন্ড সান’ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি তার পিতার প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেন। ১৯৭১ সালে ট্রাম্প তার পিতার প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ”দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশ্যান” রাখেন।

ট্রাম্প বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল স্টেট ব্যবসা এবং মিডিয়া তারকাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। ট্রাম্প জুন ১৬, ২০১৫ তারিখে রিপাবলিকান পার্টির অধীনে ২০১৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার মনোনয়ন প্রার্থীতা ঘোষণা করেন। ট্রাম্প তার পূর্বের প্রচারণা কর্মকান্ড দিয়ে মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ এবং জনসমর্থন অর্জনে সক্ষম হন। জুলাই ২০১৫ থেকে রিপাবলিকান পার্টির জনমত নির্বাচনের মনোনয়নের ক্ষেত্রে পছন্দের দিক থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রথম সারিতে অবস্থান করছেন। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ৩০৬টি ইলেক্টরাল ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

ট্রাম্প আর অভিনেত্রী মার্লা ম্যাপলস্‌ অক্টোবর ১৩, ১৯৯৩ সালে একটি কন্যা শিশুর জন্ম দেয়।[৭৯] এর দুই মাস পরে ডিসেম্বর ২০, ১৯৯৩ সালে তারা দুইজন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু ১৯৯৭ সালের মে মাসে তারা আলাদা হয়ে যায় এবং ১৯৯৯ সালের জুন মাসে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে।[৮০] ট্রাম্প ১৯৯০ এর মাঝামাঝি সময়ে মডেল কারা ইয়ঙ্গের সাথেও প্রণয়ে জড়িয়ে পরেন।[৮১] এছাড়া রাজকুমারী ডায়ানার প্রতিও ট্রাম্পের অনুরক্তি ছিল। ট্রাম্প ১৯৯৭ সালে তার বই “দ্য আর্ট অব কামব্যাক”-এ লিখেছিলেন, “আমার শুধু একটি অনুতাপই রয়েছে যে আমি কখনও ডায়ানা স্পেন্সারকে প্রণয় প্রার্থনা করার সুযোগ পায় নি”।

তিনি আরও বলেন, “তাঁর (ডায়ানা) সাথে আমার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎ হয়েছিল… তিনি একজন প্রকৃত রাজকুমারী- একজন স্বপ্ন বালিকা (ড্রিম ল্যাডি)”[৮২] ট্রাম্প ১৯৯৮ সালে স্লোভেনিয়ান-বংশোদ্ভুত মডেল মেলানিয়া নসের সাথে প্রণয় সম্পর্কে জড়িয়ে পরেন[৮৩] এবং ২০০৫ সালের জানুয়ারীর ২২ তারিখে ফ্লোরিডার পাম বিচ দ্বীপে বেথেসডা-বাই-দ্য-সি এপিসকোপাল চার্চে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।[৮৪] ২০০৬ সালে ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন[৮৩] এবং একই বছর ২০০৬ সালে মিলেনিয়া এবং ট্রাম্প, ব্যারন উইলিয়াম ট্রাম্প নামের একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়।[৮৫] ট্রাম্পের সাতজন নাতি-নাতনি রয়েছে। যার মধ্যে পাঁচ জন হলো তার পুত্র ডোনাল্ড জুনিয়রের (কাই ম্যাডিসন, ডোনাল্ড জন ৩য়, ট্রিস্টান মিলস, স্পেন্সার ফ্রেডেরিক এবং ক্লো সোফিয়া)[৮৬][৮৭][৮৮] এবং বাকি দু’জন হলো তার কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পের (অ্যারাবেলা রোজ এবং জোসেফ ফ্রেডেরিক)।[৮৯][৯০]

ধর্মীয় দর্শন

ট্রাম্প হলেন একজন প্রেসবিট্যারিয়ান।[৯১] ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে ৭০০ ক্লাবকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি একজন প্রোটেস্ট্যান্ট, একজন প্রেসবিট্যারিয়ান। এবং অনেক বছর ধরে গির্জার সাথে আমার একটি ভাল সম্পর্ক রয়েছে। আমি মনে করি ধর্ম একটি বিস্ময়কর জিনিস। আমি মনে করি আমার ধর্ম অপরূপ”।[৯২] নির্বাচনী প্রচারকার্যের ডোনাল্ড তার শ্রোতাবৃন্দদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন তার বই “দ্য আর্ট অব দ্য ডিল” হলো তার দ্বিতীয় পছন্দের গ্রন্থ এবং তিনি আরো বলেন, “তোমরা কী জানো আমার প্রথম পছন্দের বই কোনটি? বাইবেল! কোন কিছুই বাইবেলের সমতুল্য নই”।[৯৩] ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছিলেন যে, হলি কম্যুনিয়নে অংশগ্রহণ করার সময় তিনি ঈশ্বরের কাছে তার পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন নি। তিনি আরো বলেন, “আমি মনে করি.. আমি যদি কোন ভুল করি, আমি চেষ্টা করবো সেই ভুল শোধরানোর জন্য। আমার ভুল সংশোধনের জন্য আমি কখনও ঈশ্বরের শরণাপন্ন হই না”।

 

ট্রাম্পের সাথে টনি পারকিন্স এবং রালফ্‌ রিডের মত বহু ইভাঞ্জেলিক্যাল এবং খ্রীষ্টান নেতার সাথে ভাল সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৬ সালের মার্কির যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি পদে প্রচারের সময় তিনি গ্রীক অর্থোডোক্স পাদ্রী ইমান্যুয়েল লেমেলসনের কাছ থেকে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।[৯৫] কিন্তু পোপ ফ্রান্সিস দাবি করেছেন যে, অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্পের মতাদর্শ খ্রীষ্টীয় শিক্ষার পরিপন্থী:[৯৬] “একজন ব্যক্তি যে সম্পর্কের সেতু নির্মাণের পরিবর্তে শুধু বিভেদের দেওয়াল নির্মাণের কথা চিন্তা করে, সে কখনও সত্যিকারের খ্রীষ্টান হতে পারে না। এটি গসপেল পরিপন্থী”। তাকে নিয়ে পোপ ফ্রান্সিসের সমালোচনাকে ট্রাম্প “মর্যাদাহানিকর” হিসেবে উল্লেখ করে আরো বলেছেন যে, মেক্সিকান সরকার তাদের রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে পোপকে ব্যবহার করছেন।[৯৭] ট্রাম্প আরো বলেন, “কারণ তারা (মেক্সিকান সরকার) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ করে দেওয়ার পন্থা অবিরত রাখতে চায়”।

ট্রাম্প আরো বলেন যে, যদি কখনও আইসিস ভ্যাটিকান আক্রমণ করে তবে পোপ এই বলে তার অনুতাপ প্রকাশ করবেন যে যদি ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রার্থনা করতাম, তবে এই ধরনের ঘটনা কখনও হতো না।[৯৮] ইহুদি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের সাথেও ট্রাম্পের সু-সম্পর্ক রয়েছে।[৯৯] ২০১৫ সালে একটি ইহুদি দৈনিক পত্রিকা অ্যালজেমেইনার জার্নালের এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে “অ্যালজেমেইনার লিবার্টি অ্যাওয়ার্ড” পুরষ্কার গ্রহণকালে ট্রাম্প বলেন, “শুধু ইহুদি নাতি-নাতনিই নয়, আমার ইহুদি কন্যাও রয়েছে (ইভাঙ্কা তাঁর স্বামী জ্যারেড কুশনারের সাথে বিয়ের পূর্বে ইহুদি ধর্মে দিক্ষিত হয়েছিল) এবং আমি খুবই গর্বিত এটি নিয়ে… তাঁর (ইভাঙ্কার) ইহুদি হওয়ার কথা ছিল না কিন্তু তবুও আমি খুশি যে সে ইহুদি হয়েছে”।[১০০]

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের জীবন ইতিহাস জেনে নিন

ডোনাল্ড ট্রাম্প, সিনিয়র (জন্মঃ জুন ১৪, ১৯৪৬) যুক্তরাষ্ট্রের একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক এবং ২০১৬ সালের আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদপ্রার্থী। তিনি দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশ্যানের পরিচালক এবং ট্রাম্প এন্টারটেইনম্যান্ট রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা।

ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক শহরের স্থানীয় বাসিন্দা ফ্রেড ট্রাম্পের ছেলে। রিয়েল এস্টেট ব্যবসাকে নিজের কর্মজীবন হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর পিতার যথেষ্ট অনুপ্রেরণা ছিল। ট্রাম্প পেন্সিল্‌ভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় অধীন হোয়ারটন স্কুলে অধ্যয়নের সময় তাঁর পিতার ‘এলিজাবেথ ট্রাম্প এন্ড সান’ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেন। ১৯৭১ সালে ট্রাম্প তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ”দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশ্যান” রাখেন। ট্রাম্প বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল স্টেট ব্যবসা এবং মিডিয়া তারকাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব।

ট্রাম্প জুন ১৬, ২০১৫ তারিখে রিপাবলিকান পার্টির অধীনে ২০১৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁর মনোনয়ন প্রার্থীতা ঘোষণা করেন। ট্রাম্প তাঁর পূর্বের প্রচারণা কর্মকান্ড দিয়ে মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ এবং জনসমর্থন অর্জনে সক্ষম হন। জুলাই ২০১৫ থেকে রিপাবলিকান পার্টির জনমত নির্বাচনের মনোনয়নের ক্ষেত্রে পছন্দের দিক থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রথম সারিতে অবস্থান করছেন।

 

ট্রাম্প পরিবারের দো-তলা বিশিষ্ট মক ট্যুডোর রিভাইভাল আদলে একটি বাড়ি ছিল যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউ-ফরেস্ট স্কুলেঅধ্যয়নের সময় বসবাস করতেন। কিউ-ফরেস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাবা ফ্রেড ট্রাম্প সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক পরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৮৩ সালের এক সাক্ষাৎকারে তাঁর বাবা ফ্রেড ট্রাম্প বলেছিলেন যে “ট্রাম্প ছেলেবেলায় ছিলেন খুবই দুরন্ত প্রকৃতির” যার দরুন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিউ ইয়র্ক মিলিটারি একাডেমীতে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে তৎপর হতে হয়েছিল। ট্রাম্প তাঁর অষ্টম শ্রেণী এবং হাইস্কুল জীবন নিউ ইয়র্ক মিলিটারি একাডেমীতেই শেষ করেন। ২০১৫ সালে ট্রাম্প এক বায়োগ্রাফারকে বলেছিলেন যে, নিউ ইয়র্ক মিলিটারি একাডেমী তাঁকে অন্যান্য ছেলেদের চেয়েও বেশি সামরিক প্রশিক্ষণ শিখিয়েছিল।

ট্রাম্প দুই বছর অব্দি ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছিলেন। ট্রাম্প পেন্সিল্‌ভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় অধীন হোয়ার্টন স্কুল অব বিজনেসেও অধ্যয়ন করেছেন। হোয়ার্টনে অধ্যয়নের সময় ট্রাম্প তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠান “এলিজাবেথ ট্রাম্প অ্যান্ড সান” কোম্পানীতে কাজ করতেন। ট্রাম্প ১৯৬৮ সালে হোয়ার্টন বিজনেস স্কুল থেকে অর্থনীতির উপর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

ধর্মীয় দর্শন

ট্রাম্প হলেন একজন প্রেসবিট্যারিয়ান।[৯১] ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে ৭০০ ক্লাবকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি একজন প্রোটেস্ট্যান্ট, একজন প্রেসবিট্যারিয়ান। এবং অনেক বছর ধরে গির্জার সাথে আমার একটি ভাল সম্পর্ক রয়েছে। আমি মনে করি ধর্ম একটি বিস্ময়কর জিনিস। আমি মনে করি আমার ধর্ম অপরূপ”।[৯২] নির্বাচনী প্রচারকার্যের ডোনাল্ড তার শ্রোতাবৃন্দদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন তার বই “দ্য আর্ট অব দ্য ডিল” হলো তার দ্বিতীয় পছন্দের গ্রন্থ এবং তিনি আরো বলেন, “তোমরা কী জানো আমার প্রথম পছন্দের বই কোনটি? বাইবেল! কোন কিছুই বাইবেলের সমতুল্য নই”।[৯৩] ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছিলেন যে, হলি কম্যুনিয়নে অংশগ্রহণ করার সময় তিনি ঈশ্বরের কাছে তার পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন নি।

তিনি আরো বলেন, “আমি মনে করি.. আমি যদি কোন ভুল করি, আমি চেষ্টা করবো সেই ভুল শোধরানোর জন্য। আমার ভুল সংশোধনের জন্য আমি কখনও ঈশ্বরের শরণাপন্ন হই না”।[৯৪] ট্রাম্পের সাথে টনি পারকিন্স এবং রালফ্‌ রিডের মত বহু ইভাঞ্জেলিক্যাল এবং খ্রীষ্টান নেতার সাথে ভাল সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৬ সালের মার্কির যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি পদে প্রচারের সময় তিনি গ্রীক অর্থোডোক্স পাদ্রী ইমান্যুয়েল লেমেলসনের কাছ থেকে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।[৯৫] কিন্তু পোপ ফ্রান্সিস দাবি করেছেন যে, অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্পের মতাদর্শ খ্রীষ্টীয় শিক্ষার পরিপন্থী:[৯৬] “একজন ব্যক্তি যে সম্পর্কের সেতু নির্মাণের পরিবর্তে শুধু বিভেদের দেওয়াল নির্মাণের কথা চিন্তা করে, সে কখনও সত্যিকারের খ্রীষ্টান হতে পারে না। এটি গসপেল পরিপন্থী”।

তাকে নিয়ে পোপ ফ্রান্সিসের সমালোচনাকে ট্রাম্প “মর্যাদাহানিকর” হিসেবে উল্লেখ করে আরো বলেছেন যে, মেক্সিকান সরকার তাদের রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে পোপকে ব্যবহার করছেন।[৯৭] ট্রাম্প আরো বলেন, “কারণ তারা (মেক্সিকান সরকার) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ করে দেওয়ার পন্থা অবিরত রাখতে চায়”।[৯৮] ট্রাম্প আরো বলেন যে, যদি কখনও আইসিস ভ্যাটিকান আক্রমণ করে তবে পোপ এই বলে তার অনুতাপ প্রকাশ করবেন যে যদি ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রার্থনা করতাম, তবে এই ধরনের ঘটনা কখনও হতো না।[৯৮] ইহুদি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের সাথেও ট্রাম্পের সু-সম্পর্ক রয়েছে।[৯৯] ২০১৫ সালে একটি ইহুদি দৈনিক পত্রিকা অ্যালজেমেইনার জার্নালের এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে “অ্যালজেমেইনার লিবার্টি অ্যাওয়ার্ড” পুরষ্কার গ্রহণকালে ট্রাম্প বলেন, “শুধু ইহুদি নাতি-নাতনিই নয়, আমার ইহুদি কন্যাও রয়েছে (ইভাঙ্কা তাঁর স্বামী জ্যারেড কুশনারের সাথে বিয়ের পূর্বে ইহুদি ধর্মে দিক্ষিত হয়েছিল) এবং আমি খুবই গর্বিত এটি নিয়ে… তাঁর (ইভাঙ্কার) ইহুদি হওয়ার কথা ছিল না কিন্তু তবুও আমি খুশি যে সে ইহুদি হয়েছে”।[১০০]

আরও পড়ুন: গ্রীন লাইফ হাসপাতালের ডাক্তার লিস্ট তালিকা

 

ডেইলি নিউজ টাইমস বিডি ডটকম (Dailynewstimesbd.com)এর ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব ও ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন করুন।

তথ্যসূত্র: Wikipedia

ছবিঃ ইন্টারনেট

Donald Trump biography, ডোনাল্ড ট্রাম্প এর বাংলা জীবনী, Donald Trump biography in bangla, ডোনাল্ড ট্রাম্প, Donald Trump, ডোনাল্ড ট্রাম্প জীবনী, bangla biography of donald trump, donald tramp biography, donald tramp, donald trump bangla biography, donald trump life story, donald trump lifestyle, american president donald trump, NH Tv Bangla, nh tv bangla biography, donal trump, donal trampডোনাল্ড ট্রাম্প এর বাংলা জীবনী,ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচন ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী, ডোনাল্ড ট্রাম্প কোন রাজ্যের সিনেটর, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলের নাম কি, ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কততম প্রেসিডেন্ট ইভাঙ্কা ট্রাম্প মেলানিয়া ট্রাম্প, ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাড়ি,ডোনাল্ড ট্রাম্পের অজানা ইতিহাস জীবনী,Donald Trump Biography,DonaldTrumpbanglabiography

 

 

 

 

 

Leave a Reply

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Icon box title

Whatever your plan is, our theme makes it simple to combine, rearrange and customize elements as you desire.

pp

Latest Post

Recent Comments