তসলিমা নাসরিন: সোনার হরিণ


জ্যাকসন হাইটস থেকে মেট্রো ধরে চায়না টাউনের ক্যানাল স্ট্রিটে নামে শিখা। নামছে বারো বছর। বারো বছরে দুটো দোকান শুধু বদলেছে। দুটো দোকানেই নটা পাঁচটা। বেতন প্রথম দোকানে ছিল ঘণ্টায় পাঁচ টাকা, আর দ্বিতীয় দোকানে ছ’ টাকা। সপ্তাহে কোনও ছুটি নেই, তবে ওভারটাইম আছে। গ্রীস্মকাল জুড়ে শিখা ওভারটাইম করে। তখন ট্যুরিস্টের আনাগোনা বেশি, রোদ ঝলমলে দিনের দৈর্ঘও বেশি। শিখার কাজ দোকানের মেইড ইন চায়না জিনিসপত্র বিক্রি করা। জিনিসপত্র বলতে চাবির রিং, টি-সার্ট, হ্যাট, কাপ, ছাতা, ঘড়ি, ব্যাগ, ক্যামেরা ইত্যাদি। দোকানে সাধারণত চীনে পরিবার কাজ করে। অল্প কিছু দোকানেই বাইরের-৪ লোক নেওয়া হয়। শিখা যে দোকানে কাজ করে, সেটির মালিক অ্যাং, অ্যাং-এর স্ত্রী দীর্ঘ বছর গত হয়েছেন। পুত্র কন্যা কেউ অ্যাং-এর সঙ্গে থাকে না, সে কারণেই শিখা চাকরিটি পেয়েছে। এই চায়না টাউনেই এক চীনে লোকের দোকান কিনে নিয়েছে এক বাঙালি লোক, নাম মোতালেব চৌধুরী। মোতালেব চৌধুরীর কাছে চাকরির জন্য হাত পাতলে অ্যাং-এর দোকানের চাকরিটি তিনি শিখার জন্য জোগাড় করে দিয়েছিলেন। চৌধুরী তাঁর নিজের দোকানে পুরুষ কর্মচারি ছাড়া রাখেন না।

জ্যাকসন হাইটসের এক বাঙালির বাড়িতে একটা ঘর ভাড়া করে থাকে শিখা আর শিখার স্বামী নাসির। নাসির জ্যাকসন হাইটসেই এক বাঙালি দোকানে রান্নার কাজ করে। ভোরবেলায় অবশ্য সে আরেকটি কাজ করে। বড়লোক-বাড়ির চারটে জার্মান শেফার্ড কুকুরকে সে বাইরে নিয়ে যায়। আধঘন্টা-চল্লিশ মিনিটের কাজ। ঘুরিয়ে, মাঠে খেলিয়ে, প্রশ্রাব পায়খানা করিয়ে ফেরত দিয়ে আসে কুকুর। দুটো কাজে তার বেতন খুব স্বাভাবিকভাবেই শিখার বেতনের চেয়ে বেশি। নাসির রান্না না শিখেই যদিও রান্না করে রেস্তোরাঁয়, রান্না খুব একটা সে খারাপ করে না। তার কাছে রান্নাটা ফিজিক্স, কেমেস্ট্রি আর আর্টের মিশ্রণ। পরিমাণ ভালো থাকলে রান্নাটা রন্ধনশিল্পে উত্তীর্ণ হয়। শিখা বলেছিল, ‘তুমি বরং রান্নার কাজটি আমাকে দিয়ে চীনে দোকানে সেলসের কাজটি করো।’ নাসির রাজি নয়। বলেছে ‘ও তুমি পারবে না। আমার রান্না দু’তিনজনের জন্য নয়। একশ’ লোকের জন্য রান্না করতে হয়। ‘ এত পারদর্শী, ঘরে কিন্তু নাসির কখনও রান্না করে না। শেয়ারের রান্নাঘরে ভাড়াটে পুরুষ মানুষের ঢোকা বারণ। শিখাই ঢোকে, শিখাই রান্না করে। রান্না করার সময় শিখার অঢেল নেই। তাই একদিন রান্না করে ফ্রিজে রেখে সে খাবার সাতদিন খায়। অথচ দেশে থাকাকালীন ফ্রিজের খাবার খায়নি দুজনের কেউ ফ্রিজ ব্যবহার করতো ঠাণ্ডা জলের জন্য বা আইসক্রিম বানানোর জন্য। ফ্রিজে খাবার নেই, রান্না করার সময় নেই, সময় থাকলেও এক শরীর ক্লান্তি কখনও পাউরুটি আর চিজ কিনে নিয়ে এলেই ও দিয়ে দুজনের ডিনার হয়ে যায়।

এক চিলতে ঘরে সংসার করে শিখা এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছে। ময়মনসিংহের মহারাজ রোডের বিশাল বাড়িটিতে কখনও সে যে বাস করেছে তা আর বিশ্বাস হতে চায় না। মনে হয় ওই বাড়িটি তার পূর্ব জন্মের বাড়ি। এ জন্মের নয়। যেন তার বাবা নামকরা কোনও ডাক্তার নয়। যেন সে জন্মেছে এই নোংরা বিল্ডিং-এ, ইঁদুর, আরশোলা আর ছারপোকা ভরা ঘরে। ঘরটিতে দুটো প্রাণী খুব সাবধানে না হাঁটলে গায়ে গায়ে ধাক্কা লাগে। একটি খাট পাতার পর, এক কোণে একটি রেফ্রিজারেটর, আরেক কোণে একটি টেলিভিশন রাখার পর টেবিল চেয়ার পাতার সামান্য জায়গা করা যায় বটে, তবে সোফা বা আলমারির জন্য জায়গা থাকে না। নাসিরের বাড়ি কালিবাড়ি রোডে, ব্রহ্মপুত্রের তীরেই। তার বাড়িও পুরোনো জমিদার বাড়ির মতো। গাছপালায় ছাওয়া উঠোন। নদের উতল হাওয়া সকাল বিকেল পত্রপুস্প, ডালপালা, আর শরীর মনকে নাচাতো। নাসিরের বাবা ছিলেন আদালতের বিচারক। বাড়িতে অভাব ছিল না কিছুর। তারপরও সোনার হরিণের লোভ কার না থাকে! বন্ধুরা ডিভি লটারির জন্য হামলে পড়লো, সেই দলে নাম লেখালো নাসির। শিখা আর নাসির এখন আর দেশের বাড়িতে তাদের কী ধন ছিল, কত সম্পদ ছিল, এসব কাউকে বলে না। শিখা যে ডাক্তারি পাশ করেছিল, আর নাসির যে একটি কলেজে রসায়নের শিক্ষক ছিল, বলে না। কী লাভ বলে! কী লাভ দুঃখ করে! পুরোনো কথা মনে পড়লে নাসিরকে মদের বোতল খুলে ঢকঢক করে পান করতে হয়।


আমেরিকায় এসে কেন শিখা আর ডাক্তারি করল না, বা নাসিরই বা কেন কোনও রসায়নের শিক্ষক হিসেবে কোথাও চাকরি করল না, এসব প্রশ্ন উঠলে তারা বড় বিব্রতবোধ করে। নিজেরাই উত্তর দিতে চায় না। আমেরিকার ডাইভার্সিটি ভিসার লটারি জিতেছিল নাসির। এরপর তড়িঘড়ি দুজনের পাসপোর্ট বানাতে গিয়েই ভুলটি করেছিল। জন্ম তারিখের মাস ঠিক ছিল তো তারিখ ঠিক ছিল না, তারিখ ঠিক ছিল তো সাল ঠিক ছিল না। সেই পাসপোর্ট নিয়ে আমেরিকায় নামলো বটে, কিন্তু সোনার হরিণ পাওয়া হলো না তাদের। শিখার ডাক্তারি করা হলো না,নাসিরের কোনও শিক্ষকতার চাকরি করাও হলো না। কারণ পাসপোর্টের জন্মতারিখের সঙ্গে তাদের অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেটের জন্মতারিখ মেলে না। আমেরিকায় অফিসিয়ালি তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সে কারণেই শুধু শূন্য। এই ভুলটা কেউ করে? কেউ করে না, কিন্তু নাসির করে। মাঝে মাঝে শিখার ইচ্ছে হয় নাসিরকে ডিভোর্স করে। কিন্তু নাসিরের ওপর তাকে নানা কিছুর জন্য নির্ভর করতে হয়। ডিভোর্স তাই চাইলেও করতে পারে না।

অনেকবার ভেবেছে, শিখা আর নাসির দুজনই, দেশে ফেরত যাবে, কিন্তু নাসিরের চেনা পরিচিত বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে যে ঘনিষ্ঠ, সেই মিলন সজোরে মাথা নেড়ে না বলেছে। বলেছে ’ ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড থেকে থার্ড ওয়ার্ল্ডে ফিরে যায় বোকা লোকেরা। কাজ করো, খাটো, জীবন বদলে যাবে, নিশ্চয়ই যাবে। দেশ থেকে জন্ম তারিখ ঠিক করে নিয়ে এসো। ভালো চাকরি জুটবে। এই দেশে শিক্ষিত লোকের মর্যাদা অনেক। শিক্ষিত হয়েও কেন অড জব করবে তোমরা?‘ উপদেশ শুনেইছে তারা, উপদেশ পালন করা হয়নি। শিখা আর নাসির দুজনের কাছেই মনে হয়েছে উপদেশটি পালন করা সোজা নয়। কঠিন কাজে শিখার অনীহা, নাসিরের ভয়। শিখা আর নাসির যেখানে ছিল, সেখানেই পড়ে থাকে। জন্ম তারিখ যা ছিল, তা-ই রয়ে যায়।


সাবলেটে থাকাকালীনই রূপকের জন্ম হলো। হলো এল্মহার্স্ট হাসপাতালে। হাসপাতালে কোনও টাকা পয়সা দিতে হয়নি। গরিবদের জন্য মেডিকেয়ার স্বাস্থ্য বীমা আছে, সেটি দিয়েই বেশ চলে যায়। মেডিকেয়ারই তাদের সোনার হরিণ। আমেরিকায় এই একটি ভালো ব্যবস্থাই তাদের জুটেছে। যখন আমেরিকার নিস্তরঙ্গ জীবনে অতিষ্ঠ হয়ে স্যুটকেস প্রায় গুছিয়ে ফেলে দেশে ফেরার জন্য, তখনই হয় নাসির নয় শিখা বলে, ‘দেশে তো ভালো চিকিৎসাই নেই, মানুষ ভারতে চলে যায় সামান্য কিছু অসুখেই, এখানে তো অন্তত ভালো চিকিৎসা পাচ্ছি। তাও আবার বিনে পয়সায়।‘ যত বয়স বাড়ছে, রোগ শোক শরীরে ধরা পড়ছে, তত দেশে যাওয়ার স্যুটকেস থেকে কাপড় চোপড় বেরোতে থাকে বাইরে।

রূপককে তারা ঢেলে দিয়েছে। ভালো ইস্কুলে পড়িয়েছে, যা খেতে চেয়েছে, তাই খেতে দিয়েছে, যা কিনতে চেয়েছে, তাই দিয়েছে কিনে, যে পোশাক পরতে চেয়েছে, সেই পোশাকই পরিয়েছে। ধনীর ছেলেদের মতো না চাইতেই হাতে আই ফোন এসে গেছে, ল্যাপ্টপ এসে গেছে। রূপককে ফ্লাশিংএর উইন্ডসর ইস্কুলে ভর্তি করিয়েছে, প্রাইভেট ইস্কুলের টিউশন ফি তার জন্য কিছুটা ক্ষমাঘেন্না করেও ছিল মাসে দু’হাজার ডলার। একবার রূপক বলেছিল, ‘গাড়ি নেই কেন আমাদের, আমার ক্লাসের সবার তো আছে!’ সেদিনই নাসির গাড়ি নিয়ে এলো শোরুম থেকে, টাকা পয়সা দিতে হয়নি। কিন্তু মাসে মাসে টাকা দিয়ে কয়েক বছরে গাড়ির টাকা শোধ করতে হয়েছে। গাড়ি পেয়ে রূপকের মুখে হাসি ফুটেছিল। ওতেই মন ভরে গিয়েছিল শিখা আর নাসিরের। রূপককে গাড়িতে করে ইস্কুলে নিয়ে যেত নাসির, আবার গাড়িতে করেই ইস্কুল থেকে নিয়ে আসতো। শিখার বেতনের পুরো টাকাটা চলে যেত রূপকের ইস্কুলের খরচে। নাসিরকেও কিছু দিতে হত। নাসিরের বেতন যেত সংসারের বাকি খরচে। খরচ এত বেশি ছিল যে সাবলেট ছেড়ে এক রুমের কোনও স্টুডিও বা এক বেড্রুমের কোনও অ্যাপার্ট্মেন্ট ভাড়া নিতে পারেনি নাসির। ছোট চাকরি করার হীনমন্যতা বোধ এত বেশি ছিল শিখা এবং নাসিরের, যে, রূপককে দুজনের কেউই বাস্তবতা বুঝতে দেয়নি। তার জন্য মেকি একটি জগত তৈরি করে দিয়েছিল তারা, যে জগতে রূপক সাদা ঘোড়ায় চড়া ঝলমলে পোশাক পরা এক রাজপুত্তুর। দুজনেই রূপককে বিদ্বান বানানোর জন্য হেন ত্যাগ নেই করেনি। রূপকের আরামের জন্যও করেছে। রূপকের জন্য খাট ছেড়ে দিয়ে নিজেরা মেঝেয় তোশক পেতে ঘুনিয়েছে।

রূপককে ডাক্তারি পড়াবার স্বপ্ন শিখার। শিখা যখন বলে সে নিজে ডাক্তার, সে চায় তার ছেলেও ডাক্তার হোক। রূপক হেসে কুটি কুটি, সে বিশ্বাসই করে না শিখা ডাক্তার। রূপক বলে শিখা ডাক্তার হলে শিখা তো ডাক্তারি করতো, চীনে দোকানে চাবির রিং বেচতো না। রূপকের ডাক্তারি পড়ার কোনও ইচ্ছে নেই। আসলে রূপকের পড়াশোনা করারই কোনও ইচ্ছে নেই। আঠারো বছর পার হওয়া মাত্র উবার চালানো শুরু করল। শিখা আর নাসির স্তব্ধ হয়ে গেল শোকে। তাছাড়া সন্ধ্যে বেলায় বন্ধু বান্ধবদের ঘরে নিয়ে এলে বাবা মা’কে বলতো কোথাও ঘুরতে যেতে, রাত বারোটার দিকে ঘরে ফিরতে। বাবা মা রাস্তা ঘাটে এলোমেলো ঘুরে ঘুরে রাত বারোটায় ঘরে ফিরতো। তাদের বুকের ধন, তাদের হীরের টুকরোকে তারা আর কী শাসন করবে, বুকের ধনই তাদের শাসন করে। শিখা আর নাসির মাথা পেতে সমস্ত শাস্তি মেনে নেয়, যেন তারা খাঁটি আমেরিকান না হয়ে, সাদা না হয়ে, ধনী না হয়ে অন্যায় করেছে, গরিব দেশে জন্ম নিয়ে অন্যায় করেছে, আমেরিকার অ্যাক্সেন্টে ইংরেজি বলতে না পেরে অন্যায় করেছে, সাদা এবং ধনী ছেলে-মেয়েরা যে রূপকের সঙ্গে মেশে না, কটাক্ষ করে বা অবজ্ঞা করে, যেন সে দোষ শিখার আর নাসিরের।

রূপকের হাতে ভালো টাকা পয়সা আসতে শুরু করলে অ্যাস্টোরিয়াতে একটি স্টুডিও অ্যাপার্ট্মেন্ট ভাড়া নিয়ে চলে যায়। ওখানে তার মদ খাওয়া আর বান্ধবী নিয়ে রাত কাটানো দেদার চলতে থাকে। শিখা আর নাসির এসব দেখে ছেলেকে যতই মদ আর মেয়েদের সঙ্গ থেকে দূরে সরাতে চায়, ততই তার ‘ফাক ম্যান, লীভ মী এলোন’ শুনতে হয়। তার চেনা পরিচিতদের মধ্যে সকলেই হয় কালো, নয় ল্যাটিনো; মেক্সিকান, কলোম্বিয়ান, ডোমিনিকান। কেউই সভ্য শিক্ষিত নয়। বাঙালিদের সঙ্গে তার ওঠাবসা একেবারেই নেই। বাংলা সংস্কৃতির প্রায় কিছুই শেখেনি সে। রূপক চায় না শিখতে, চায় না তার জীবনের কোনও কিছুতে বাবা মা এসে নাক গলাক।

‘ঠিক আছে কিছুদিন উবার চালিয়েছিস, এবার কলেজে ভর্তি হ। কলেজ ডিগ্রিটা থাকলে ভালো চাকরি পাবি।’ শিখা বোঝাতে চায়, রূপক বুঝতে চায় না। সে তার জীবন নিয়ে তার যা পছন্দ তা করতে চায়। শিখা মাঝে মাঝেই রান্না করে রূপকের স্টুডিওতে নিয়ে যায়, ঘর দোর গুছিয়ে বিছানায় নতুন চাদর পেতে, কাপড় চোপড় লন্ড্রি করে দিয়ে আসে। কোথায় মা’কে ধন্যবাদ দেবে, তা নয়, ‘ফাক, আই হেইট ইট’ বলে। গাঁজার গন্ধও সুগন্ধী লোবান জ্বালিয়ে দূর করে শিখা। এও সে চায় না। শিখার রান্না করে দেওয়া খাবার ফ্রিজে পড়ে থাকে, এক সময় পচে গন্ধ বেরোয়। ফেলে দিতে হয়।



এদিকে শিখা আর নাসিরের সম্পর্ক দিন দিন তেতো হতে থাকে। শিখা বলে নাসিরের কারণে রূপক নষ্ট হয়েছে, নাসির বলে শিখার কারণে। দুজনে লম্বা ফিরিস্তি দিতে থাকে ছেলেকে অমানুষ বানানোর জন্য কে কবে কী করেছে। দুজনে চিৎকার করে বাড়ি মাথায় তুলতে থাকে। প্রতিবেশি ছেলেমেয়েদের উদাহরণ দিয়ে বলতে থাকে ওরা তো নষ্ট হয়নি, ওরা তো বাবা মাকে সম্মান করে কথা বলে! ওরা তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, ওদের বাবা মা-ও তো ছোট চাকরি করে, ওরাও তো সাবলেটে থেকেছে! শিখা আর নাসির দুজনের কেউই জানে না, ভুল তাদের কোথায় হয়েছিল ছেলে মানুষ করতে। শিখা আর নাসিরের চিৎকার বিল্ডিংএর হাওয়ায় উড়তে থাকে, দেয়ালে ধাক্কা খেতে থাকে, আর বাড়িওয়ালা বলে যেতে থাকে চিৎকার থামাতে, না থামাতে পারলে ঘর ছাড়্তে।

গত পঁচিশ বছরে একই বিল্ডিংএ মাত্র তিনবার সাবলেট বদলেছে তারা। আবারও কি বদলাতে হবে! নাকি কোনও স্টুডিওই ভাড়া নিয়ে নেবে! আবার ভাবে রূপকই নেই, কী দরকার আর স্পেস দিয়ে!
–রূপক তো বড় হয়েছে, নিজেরটা বুঝতে শিখেছে, তার জীবনে আমাদের আর প্রয়োজন নেই। তাহলে কী দরকার জীবনের বাকিটা সময় ইঁদুর আরশোলা আর ছারপোকার সঙ্গে সাবলেটে কাটানোর? চলো দেশে ফিরে যাই।
নাসির রাজি হয়।
স্যুটকেস গোছানো শুরু হয়। টিকিট কেনার জন্য ট্রাভেল এজেন্সিতে কয়েকদিন ফোন করে।
কিন্তু শিখাই বলে, –দেশেই বা কী করবো গিয়ে?
–কী করবো মানে? তুমিই তো যেতে চাইছো।
–চাইছি কিন্তু আবার ভাবছি, কে আছে দেশে! বাবা মা মারা গেছে, ভাইদের সংসারে উঠবো নাকি?
–তোমাদের বাড়ির কথা ভাবছো কেন? উঠবে তো আমাদের বাড়িতে।
–তোমাদের বাড়িরও তো একই হাল। তোমারও বাবা মা নেই। বাড়ি ঘর জমি জমা ভাগ হয়ে গেছে। ভাইরা যার যার জমিতে বাড়ি বানিয়ে নিয়েছে। তোমার জমিতে ঘর তুলতে হবে তোমাকে। কী ঘরই বা তুলবে? হাতে টাকা কোথায়? এদেশে থেকে মানুষ বিরাট বিরাট অট্টালিকা বানায় দেশে। আমাদের তো সে ক্ষমতা নেই!
–হ্যাঁ বানায়, যারা ভালো চাকরি করে, ভালো বেতন পায়, তারা বানায়। আমরা তো জীবন ভর অড জব করেই গেলাম। কী হয় অড জব করলে? বাংলাদেশে ইঞ্জিনিয়ার ছিল, এখানে এসে ইয়োলো ক্যাব চালাচ্ছে না? শুধু আমাদেরই কপাল পোড়া, তা ভেবো না।
–তোমার ভাইরা বিশাল বিশাল বাড়ি বানিয়েছে। তুমি বানাবে কুড়ে ঘর। লোকে টিটকিরি দেবে। তাছাড়া লোকে তো জিজ্ঞেস করবে ছেলে কী করে? বলবে ছেলে উবার চালায়? তোমার তো আবার এ কথা মুখে আসবে না।
–কী করতে বলো?
–জানো তো, দেশের মানুষ কী জাতের। তারা তো আমাদের শান্তিতে বাঁচতে দেবে না। সবাই মৌলবাদী হয়ে গেছে। যদি নামাজ রোজা না করি, যদি হিজাব না পরি, তাহলে তো সর্বনাশ করবে। তাছাড়া অসুখ বিসুখ হলে চিকিৎসা তো ভালো নেই। হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা শুরু হলে অ্যাম্বুলেন্সই তো পাওয়া যাবে না। তা ছাড়া–
–তাছাড়া কী?
–রূপক তো এখানে, ওকে ছেড়ে যাবো কোথায়? ওর বিপদ আপদে আমাদেরই তো পাশে থাকতে হবে। ওর আর কে আছে আমরা ছাড়া?
–তাহলে দেশে ফেরার চিন্তা বাদ দাও। এখানেই থাকো।
–কিন্তু বয়স হয়ে গেলে, এখন যে কাজ করছি, সে কাজও তো আর করতে পারবো না। তখন? এমন তো আর আশা নেই যে ছেলে আমাদের দেখবে! ছেলে আমাদের দেখবে না।
–ছেলের কেন আমাদের দেখতে হবে? ছেলে নিজেকে দেখলেই যথেষ্ট।
–তিরিশ বছরের আমেরিকার জীবনে কী পেলাম?
–সে হিসেব কোরো না। আমরা এই দেশের দরিদ্রতম মানুষ। কাজ না থাকলে ঘর ভাড়া দিতে পারবো না। ফুড স্ট্যাম্প নিয়ে চলতে হবে, অথবা ঠাঁই হবে ফুটপাতে।
–ভবিষ্যত ভেবে কী লাভ! যখন বুড়ো হবো, পঙ্গু হবো, কাজ করতে পারবো না, তখন দেখা যাবে কী করা যায়।

শিখা আর নাসিরের এমনই জীবন। তারা জানে তারা ব্যর্থ। তাই ব্যর্থ মুখ দেখাতে, দুজনই সিদ্ধান্ত নেয়, দেশে ফিরবে না। ব্যর্থ মুখ দেখাতে, নিউইয়র্কের বাঙালিদের সঙ্গেও ধীরে ধীরে তারা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তারা কারও বাড়িতে নেমন্তন্ন খেতে যায় না, নেমন্তন্নও কাউকে করে না। জ্যাকসন হাইটসের রেস্তোরাঁয় যে কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা না বললেই নয়, তাদের সঙ্গেই বলে নাসির। শিখার তো বাংলা বলার দায়টাও নেই। অ্যাং-এর পাঁচ পুরুষের জন্ম আমেরিকায়, অ্যাং তারপরও ইংরেজিতে একটি বাক্যও সুদ্ধ করে বলতে পারে না। অ্যাং আর দোকানের খদ্দেরদের সঙ্গে সারাদিনে অল্প কিছু কথা বললেই কাজ হয়ে যায়।

বাঙালিরা দু’তিন বছরে একবার করে দেশে বেড়াতে যায়। নাসির যায় না বলে রান্নার সহকারী পলাশ জিজ্ঞেস করে– দাদা তুমি একেবারেই দেশের আত্মীয়দের দেখতে যাচ্ছো না যে?
–কেউ নেই আমার।
কেউ নেই আমার, এ কথা শিখাও বলে। ঠিকই তো, কেউই তো নেই তাদের। আত্মীয়রা কোনওদিন ফোন করেনা, তারা নিজেরাই ঘন ঘন ফোন করতো। এখন বোঝে ভাইরা নিজেদের সংসার, ছেলেমেয়ে, ব্যবসাপাতি, টাকা পয়সা নিয়ে এমনই ব্যস্ত যে দূরের কারও খবর নেওয়ার সময় এবং ইচ্ছে কোনওটাই তাদের নেই। নাইন্টি নাইন সেন্টসের দোকান থেকে দুতিনবার আত্মীয়দের জন্য এর ওর হাতে কিছু উপহার পাঠিয়েছিল শিখা আর নাসির। আত্মীয়রা ওসব ফেলে দিয়েছে, তাদের হাতে টাকা অনেক। দামি ব্র্যান্ডের জিনিসপত্র ছাড়া তার কোনও সস্তা জিনিস ব্যবহার করে না।

নাসির একদিন গুনগুন করে হেমন্তের একটি গান গাইতে গাইতে শিখাকে বলে, ‘চলো ঈস্ট নদীর পাড়ে একটু হেঁটে আসি, ওয়েদারটা বেশ ভালো।‘ শিখা যেভাবে ঘরে ছিল, সেভাবেই নেমে আসে পার্কিং-এ। গাড়ি চালাতে চালাতে নাসির বলে, ‘সব সময় এত মন খারাপ করে থেকো না শিখা। রূপককে নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। সে নিজের পথ নিজে বেছে নিয়েছে। কেউই বলতে পারবে না যে রূপককে আমরা কিছু কম ভালোবেসেছি, খাওয়া দাওয়া, কাপড় চোপড়, বই পত্র, যন্ত্রপাতি অন্যদের চেয়ে কিছু কম দিয়েছি যে কারণে ওর মনোকষ্ট হতে পারে। আসলে সাধ্যের চেয়ে বেশি করেছি। ব্যাংক্রাপ্সিও তো করতে হয়েছে! ওকে আমরা ভালো পথ দেখাইনি– তা তো নয়। মানুষের ছেলেরা পাবলিক ইস্কুলে পড়ে মেডিক্যালে পড়ছে, আর আমার ছেলে প্রাইভেট ইস্কুলে পড়ে উবার চালাচ্ছে! নিশ্চয়ই জীবনে পাপ করেছিলাম! মস্ত বড় পাপ করেছিলাম।‘
শিখা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকে ওপারে সূর্যাস্তের আকাশে। তার মনে হতে থাকে সেও সূর্যের মতো সমস্ত আলো আর রঙ নিয়ে জলে ডুবে যাচ্ছে।



রূপকের এখন আর দরকার নেই বাবা মাকে। রূপক জানিয়ে দেয় বাবা মা ফেরত যেতে পারে দেশে। কিন্তু শিখা আর নাসির ভাবে, যদি কোনওদিন রূপকের প্রয়োজন হয় বাবা মাকে! কোনওদিন যদি রূপক বিয়ে থা করে থিতু হয়, তখন তো নাতি নাতনিকে কোলে কাঁখে নিতে হবে। দেশে ফেরত গেলে নাতি নাতনির মুখ তো আর দেখা হবে না। আমেরিকায় ঘন ঘন যাওয়া আসা করা শিখা আর নাসিরের পক্ষে সম্ভব তো হবেই না। রূপকের স্টুডিওতেও মা-বাবার জন্য জায়গা নেই। তাহলে সাবলেটে থেকে যাওয়াই হয়তো ভালো। বাকি জীবন। ঘাড় গুঁজে। শব্দ না ক’রে।

শিখা ঘুম থেকে উঠে টিভি অন করে লোকাল একটি চ্যানেল দেখে আবহাওয়ার খবরের জন্য। আবহাওয়া বুঝে তাকে কাপড় পরতে হয়, বাইরে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে হয়। চ্যানেলটিতে কোথায় কে কাকে মার্ডার করেছে এগুলোও একের পর এক দেখাতে থাকে। শিখা বেরিয়ে গেলে টেলিভিশন বন্ধই থাকে সারাদিন। আজকাল নাসিরও আর টিভিতে বাংলাদেশের খবর দেখে না। ফোনেই সে পড়ে নিতে পারে দেশের খবর। অথবা রেস্তোরাঁ থেকে ঘরে ফেরার সময় হাতে করে বিনে পয়সার একটি বাংলা কাগজ নিয়ে আসে,ওটিতেই চোখ বুলিয়ে জেনে নিতে পারে কী ঘটছে দেশে। আগে মুক্তধারা নামের একটি বাংলা বইয়ের দোকান থেকে বাংলা নাটকের সিডি নিয়ে এসে টেলিভিশনের পর্দায় দেখতো। এখন দেখে স্মার্ট ফোনে, ইউটিউবেই আপলোড করা আছে অগুনতি বাংলাদেশের নাটক। এই নাটকগুলোই নাসিরের বিনোদন। আমেরিকার কোনও সংস্কৃতি বা বিনোদনের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই।

ওদিকে মদ গাঁজা মেয়েমানুষই রূপকের বিনোদন। ভবিষ্যত নিয়ে রূপক ভাবে না। সে বাবা-মায়ের মুখ পারতপক্ষে দেখতে চায় না, কারণ বাবা মা, তার কাছে মনে হয়, ডিপ্রেশনের রোগী। রূপক ছাড়া তাদের জগত বলতে আর কিছু নেই। রূপকের জন্মের পর থেকে তারা রূপককেই প্রদক্ষিণ করে চলেছে। মাথা তার ছিটকে বেরিয়ে যেতে চায় তাদের অবিরাম পরামর্শ আর উপদেশের বর্ষণে। তার ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া এ কারণেই হয়নি। সে কে? সে ভালো বাঙালি হতে পারেনি, সে ভালো আমেরিকানও হতে পারেনি। সে কিছুই না। সে তার বাবা মা’র মতো কিছুই না। তার বাবা মা তাদের দেশের বিরাটত্ব, সেই দেশে তাদের জমিদারি নিয়ে গর্ব করে। সেইসব কখনও দেখেনি রূপক। গরিব দেশে কেউ ভালো থাকে বলে তার বিশ্বাস হয় না। তাকে অনেক বার বাংলাদেশে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে, রূপক যেতে চায়নি। ইস্কুলে সে একসময় তার মা বাবার দেশ বাংলাদেশ নিয়ে গর্ব করতো। কিন্তু এক শিক্ষিকাই একদিন সারা ক্লাসে জানিয়ে দেন ‘রূপক ইসলাম গরিব দেশের ছেলে। এ শহরে তার বাবা নাসির ইসলাম রেস্তোরাঁয় রান্না করে, কিন্তু গরিব হলেও লেখাপড়া করে বড় হতে চাইছে রূপক , আমেরিকান স্বপ্ন সেও সফল করতে পা্রে।‘ এর পর থেকে তার ইসলাম নাম নিয়ে, তার গরিব দেশ নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা ব্যঙ্গ করতো। তার হাত থেকে বই খাতা কেড়ে নিত ওর, পেন্সিল কেড়ে নিয়ে ফেলে দিত। শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করার সাহস ছিল না তার। ক্লাসে সে-ই ছিল সবচেয়ে গরিব, সবচেয়ে কালো, সবচেয়ে বোকা, সবচেয়ে ডাল, সবচেয়ে উইয়ার্ড। কেঁদে কেঁদে বাড়ি ফিরত রূপক। ইস্কুলে যেতে তার ইচ্ছে করতো না।



শিখা হঠাৎ একদিন তার চায়না টাউনের কাজ ছেড়ে দেয়। নাসির চোখ কুঁচকে প্রশ্ন করে। –আমার একার টাকায় চলবে ভেবেছো?
ক্লান্তিতে নুয়ে পড়ে শিখা, বলে –চালিয়ে নাও। আমি আর পারছি না। আমার সারা শরীরে ব্যথা শুরু হয়েছে। আমি হাঁটতে পারছি না, বসতে পারছি না। ঘাড়ে ব্যথা, পিঠে ব্যথা, মাথায় ব্যথা, হাত-পায়ে ব্যথা।
ডাক্তারের কাছে গেলে টাইলেনল লিখে দিলেন, ব্যথার ওষুধ। ব্যথার ওষুধের রিফিল আসতে লাগলো ঘরে। তিন চার কৌটো জমে গেল।
প্রতিবেশি দু’একজন শিখার খবর নিতে আসে। শিখা দরজা খোলে না, কারো সঙ্গে কথাও বলে না। বিল্ডিংয়ে বেশির ভাগ ভাড়াটেই বাঙালি। শিখা জানে, তারা সবাই সুখী। তারা সোনার হরিণ পেয়ে গেছে। কষ্ট করেছে বলেই কেষ্ট মিলেছে তাদের। টাকা রোজগার করছে, দেশে বাড়ি কিনেছে, নিউ ইয়র্কেও কিনেছে। ছেলে মেয়েরা কেউ ডাক্তার হয়েছে,কেউ কোথাও সিইও, কেউ বড় চাকরি বা ব্যবসা করছে। কষ্ট তো শিখাও করেছে! শিখারই কেষ্ট মেলেনি।

যারা ইঁদুর আরশোলা আর ছারপোকার সঙ্গে বাস করেও আনন্দ করছে, সুখের সাগরে সাঁতার কাটছে, তাদের অনেকেই হয়তো দেশে থাকাকালীন নিম্নবিত্ত ছিল, অসুখে অভাবে পড়ে থাকতো। কিন্তু কারও কারও তো কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিও ছিল। তারা ছোট কাজ করছে বলে হতাশায় ভুগছে না শিখা আর নাসিরের মতো। হতাশা কি আর সবার সোনার হরিণ জুটেছে কেবল তাদেরই সোনার হরিণ জোটেনি বলে? শিখা উত্তর খোঁজে।


হঠাৎ একদিন বলা নেই কওয়া নেই নাসির পাঁচ বেলা নামাজ শুরু করে দিল। জুম্মার দিন মসজিদে যেতে লাগলো। এর কিছুদিন পর পাজামা পাঞ্জাবি ধরলো, তারও কিছুদিন পর দাড়ি রাখা শুরু করলো, আর মাথায় সাদা গোল টুপি পরতে শুরু করলো।
তার রেস্তোরাঁর কাছেই একটি কাপড়ের দোকান থেকে নাসির একদিন কিছু হিজাব কিনে আনলো শিখার জন্য।
হিজাবগুলো যেভাবে রেখেছিল, সেভাবেই পড়ে ছিল দেয়াল-আলমারিতে। কয়েক সপ্তাহ পর শিখা নিজেই পরতে শুরু করলো হিজাব। হিজাবি প্রতিবেশিদের নজরে পড়লো শিখার হিজাব। তারা একে একে অভিনন্দন জানাতে লাগলো শিখাকে। যেন শিখা এতদিনে তাদের স্বজন হয়ে উঠেছে। এখন থেকে শিখার অসুখে বিসুখে তারা পাশে থাকবে। কেউ পায়েশ বানিয়ে, কেউ বিরানি রেঁধে দিয়ে গেল শিখাকে।

এই শিখা একসময় ময়মনসিংহ শহরের উদীচী আর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সদস্য ছিল। রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতো। হিজাব আর রবীন্দ্রসঙ্গীতের মাঝখানে একটি ফাঁকা জায়গা আছে, সেই জায়গাটায় প্রতিদিন শিখা নিঃশব্দে এসে দাঁড়ায়। তার মুখ ধোঁয়ায় ঢেকে যেতে থাকে। সে নিজেকে চিনতে পারে না। চিনতে না পারার সময়টায় তার মাথায় খুব যন্ত্রণা হতে থাকে, যন্ত্রণা কমাতে একটি টাইলেনল খেতে চায় সে, কিন্তু এক কৌটো খাওয়া হয়ে যায় তার। ভুল করে নাকি ইচ্ছে করে, আজও কেউ জানে না।

Leave a Reply

Translate »
%d bloggers like this: