ফেরদৌস আহমেদ এর কবিতা, ফেরদৌস আহমেদের কয়েকটি কবিতা

01

আমার ঠিকানা

 ফেরদৌস আহমেদ।

আমায় যদি জানতে আস খুঁজতে আস বন্ধুরে
চিরকালেই আমায় পাবে সহজ সরল সুন্দরে।
দু চোখ মেলে খুঁজলে আমায় পাবে পথে প্রান্তরে
হৃদয় দিয়ে খুঁজলে পাবে বন্ধু তোমার অন্তরে।
তোমার চোখে অশ্রু এলে আমায় পাবে রুমালে
মাথার নিচে আমায় পাবে বন্ধু তুমি ঘুমালে।
আমায় পাবে তিস্তা গড়াই মধুমতির কিনারে
আমায় পাবে বীর সেনাদের স্মৃতির শহীদ মিনারে।
আমায় পাবে জলপ্রপাত সাগর নদী বৃষ্টিতে
আমায় পাবে গল্পকথায় ভিন্ন কিছুর সৃষ্টিতে।
আমায় পাবে পথের শিশুর ভাঙ্গাচুরা বস্তিতে
পাবে তাদের দুঃখ ব্যথা আনন্দ সুখ স্বস্তিতে।
তারায় তারায় আমায় পাবে স্তব্ধ নিঝুম নিশিতে
আমায় পাবে আঁধার বাসির কেরোসিনের শিশিতে
প্রেমিক রূপে আমার পাবে তাজমহলের গৌরবে
আমায় পাবে পাখির গানে মিষ্টি ফুলের সৌরভে।
আমার পাবে মেথর মুচির আত্মা দেহের ময়লাতে
আমায় পাবে আমার কামার ভাইয়ের হাতের কয়লাতে।
আমায় পাবে শিশুর হাসি তাদের কোমল মনটাকে
পাবে তাদের খেলনা খুশি গলায় বাঁধা ঘন্টাতে।
আমায় পাবে নির্যাতিত গৃহবধূর কান্নাতে
পাবে আমার বউয়ের সাথে ঘর গোছানো রান্নাতে।
আমায় পাবে বিদ্বাশ্রমের চাদ মেজে আর দেয়ালে
পাবে ইহার বন্দিবাসির যত্ন সেবা খেয়ালে।
সন্ধি স্বরূপ আমায় পাবে দুই মানুষের বিবাদে
মুজাহিদের তরবারি তীর ঘোড়ায় পাবে জিহাদে।
আমায় পাবে রোগীর ব্যথা তাদের কাঁদন অশ্রুতে
খুশির মাঝে আমায় পাবে তাদের সেবা-শশ্রূতে
আমায় পাবে পাগলিনীর উদাস পথের চলাতে
নীল গালিচায় পাবে তাহার নগ্ন পায়ের তলাতে।
বংশী হাতে আমায় পাবে গান কবিতার ছন্দতে
শান্তি কেতন হাতে পাবে ধর্ম নিয়ে দ্বন্দ্বতে।
সেনার রূপে আমার পাবে সৎ শাসকের শাসনে
ঘুনের মত আমায় পাবে দুষ্ট রাজার আসনে।
আমায় পাবে তিতুমীরের কামান দাগার গোলাতে
আমায় পাবে বেদের দলের কান্নাহাসির ঝোলাতে।
ঘাসের ফুলের মত আমায় পাবে ফুলের মেলাতে
আমায় পাবে বিশ্ববাসীর করুন অবহেলাতে।
আমায় পাবে চাঁদের আলো ভোরের শিশির বিন্দুতে
পাবে এতিম অসহায়ের ব্যথার বিষাদ সিন্ধতে।
জলের মত আমায় পাবে শিউলি গাছের গোড়াতে
আমায় পাবে চিকিৎসকের রক্তমাখা চুরাতে।
বুলেট বোমায় আমায় পাবে আমার এ দেশ রক্ষাতে
আমায় পাবে শত্রুসেনার মরণব্যাধী যক্ষাতে।
আমায় পাবে দীন ভিখারির শূন্য ভাতের থালাতে
আমায় পাবে ধর্ষিতাদের বুকের বেদন জ্বালাতে।
দুই স্থাপনার মধ্যখানে আমায় পাবে বন্দীরে
পাহারা দেই ঝগড়া না হয় মসজিদে আর মন্দিরে।
ফুলের সাথে সুতায় গাঁথা আমায় পাবে বাসরে
আমায় পাবে গাজী কালুর গ্রাম্য পুঁথির আসরে।
জগৎজুড়ে সৎ সৌখিন সুন্দর আছে যেখানে
ভিন্ন স্থানে ভিন্ন ধারায় আমায় পাবে সেখানে।
02

বাঁচাও বাংলা ভাষা

 ফেরদৌস আহমেদ।

বাংলা ভাষার পাখা শব্দ
হয়ে গেল ফ্যান
এক “শ”হল হান্ড্রেড আর
দশ হয়েছে টেন ।
মেয়ে বন্ধু গার্লফ্রেন্ড হল
দুঃখিত টা সরি
খালা, ফুফু আন্টি হল
ট্যাবলেট হল বড়ি
শিক্ষক থেকে টিচার হল
বিদ্যালয়টা স্কুল
নাপিত ভাইয়ের সাইনবোর্ডে
হেয়ার হলো চুল ।
ফেব্রুয়ারির একুশ হলো
ফাল্গুন মাসের আট
কাগজ শব্দ পেপার হল
রোড রাস্তাঘাট ।
বিজ্ঞাপনে সাবান শব্দ
হল বিউটি সোপ
যাতায়াত টা জার্নি হল
স্টপ হয়েছে চুপ।
বাজার থেকে মার্কেট হল
শপিং কেনাকাটা
ভ্রমণ থেকে ট্যুর হল
জগিং ভোরের হাঁটা।
করমর্দন হ্যান্ডশেক হল
মুরগি চিকেন ফ্রাই
গাড়িচালক ড্রাইভার হল
চেষ্টা হল ট্রাই।
ব্যবস্থাপত্র প্রেসক্রিপশন আর
সেবিকা হল নার্স।
সম্পূর্ণটা ফুল হলো আর
অংশ হল পার্স ।
সাহায্যকারী হেলপার হল
গিফট উপহার
নববর্ষ হয়ে গেল
হেপি নিউ ইয়ার।
ক দিন আগেও ছিল না এই
মিশ্র ব্যবহার
চোখের সামনে ঘটে যাচ্ছে
এটা কি কারবার ।
বাংলা ভাষার অনেক শব্দ
পরছে ঝরে ঝরে
মায়ের মুখের ভাষা যাচ্ছে
আগাছা তে ভরে ।
এই জন্য দায়ী কিন্তু
তুমি আমি ভাই
অকারণে বাংলা রেখে
ভিনদেশী গান গাই।
এইজন্য কি রক্ত দিয়ে
বাংলা এনেছি
সালাম বরকত প্রশ্ন করলে
উত্তর দেবে কি ?
বিদেশী ভাষা ব্যবহারে
হই এসো সাবধান
বাঁচিয়ে রাখি প্রাণের প্রিয়
বাংলা ভাষার প্রাণ।

03

সুখের সন্ধান

 ফেরদৌস আহমেদ।

ফুল তুমি ফুট কেন ?
পরের তরে
আমি ফুটি বিশ্ব দিতে
গন্ধে ভরে।
বৃষ্টি তুমি ঝর কেন?
পরের হিতে
বিশ্বভুবন গাছপালাতে
সাজিয়ে দিতে।
সূর্য তুমি পুড়ছ কেন?
পরের হিতে
আমি পুড়ি সবার ঘরে
আলো দিতে।
মশক তুমি জন্মালে কেন ?
পরের তরে
জীবিকা দেই যারা মশক
নিধন করে।
চন্দ্র কেন রাত্রি জাগ?
সবার লাগি
তোমাদেরকে জোসনা দিতেই
রাত্রি জাগি।
বৃক্ষ তুমি জন্মালে কেন ?
পরের জন্য
সবার লাগি বুক বিলিয়ে
আমি ধন্য।
নদী তুমি ছুটো কেন?
আমি ও তাই
শস্য ফল ও ফুল ফোটাতে
পানি বিলাই।
মাটি তোমার স্বভাব কেমন?
আত্মত্যাগী
সকল আঘাত বুক পেতে নেই
সবার লাগি।
মানুষ তুমি জন্মালে কেন ?
বলছি কারণ
ভোগ বিলাসে কাটিয়ে দিতে
সোনার জীবন।
সুখের খোঁজে তাই যাহা পাই
আঁকড়ে ধরি
নিজে মরি মানুষ ঠকাই
মানুষ মারি।
প্রকৃতি কয় ভোগের মাঝে
নাইরে সুখ
বিলিয়ে দেখ পরম সুখে
ভররে বুক।

04

কালের প্রশ্ন

 ফেরদৌস আহমেদ।

 

হাসপাতালের কাছাকাছি
সবজি-মাছের হাটে
কসাই ব্যাটা গোশত বেচে
গরু ছাগল কাটে।
তাহার আবার সুনাম অনেক
জানে সারাদেশ
ওজনে সে কম দেয় না
মাংসটা দেয় ফ্রেশ।
একদিন সেই সুনাম ওয়ালা
গোশত দোকানদার
জবাই করল একটা গাভী
দুইটা বড় ষাঁড়।
হাত-পা ছুড়ে কাঁদছে গরু
অশ্রু ভেজা চোখ।
অবাক চোখে তাকিয়ে আছে
পাশের অনেক লোক।
শান্ত হলে কসাই বেটা
চামড়া গুলো কেটে
সবার সামনে মারলো ছোড়া
গাই গরুটার পেটে।
মরা বাছুর বেরিয়ে এল
গাভীর উদর থেকে
সবার মনে লাগলো নাড়া
এই অবিচার দেখে।
অবুজ পশুর ভ্রুণ হত্যার
তীব্র প্রতিবাদে
সকল মানুষ উঠল জেগে
কাঁধ মিলিয়ে কাঁধে।
সবার মুখে একই স্লোগান
এক দফা এক দাবি
জবাই করা চলবে না আর
গর্ভবতী গাভী।
তাহার পাশেই হাসপাতলে
হচ্ছে আবার খুন
প্রতিবাদী জাগ্রত এই
মানবজাতির ভ্রুন।
মানবজাতির ভ্রুনের ওপর
চলছে অবিচার
হয়না কোন মিছিল-মিটিং
হয়না সেমিনার।
পশুদের ভ্রুণ হত্যা হলে
প্রতিবাদী হই
মানুষের ভ্রুন গুমড়ে কাঁদে
বিপ্লবীরা কই!
মানুষের ভ্রুণ হত্যা চলে
স্পষ্ট দিবালোকে
নেই প্রতিবাদ মানবতা
মরছে ধুকে ধুকে।
নবজাতক হত্যা করে
ফেলে রাখে পথে
কই না কথা আমরা সবাই
চলছি যে যার মতে
গাভির পেটের ভ্রুণ হত্যার
জোড় প্রতিবাদ হয়
মানুষের ভ্রুণ হত্যা চলে
কেউ না কথা কয়।
বিষয়টি এই প্রশ্ন বোধক
চিহ্ন টা যায় রাখি
পশুর চেয়েও মানুষের দাম
কমে গেল না কি!

05

নদীর পাড়ের বাড়ি

 ফেরদৌস আহমেদ।

আমার একটা বাড়ি ছিল পদ্মা নদীর তীরে,
সাত পুরুষের জনম গেছে খরকুটার এই নীড়ে
একটুখানি উঠোন ছিল ছোট্ট ক টা ঘর
পাশেই ছিলো বাবা-মায়ের পুরনো কবর।
দক্ষিনে এক পুকুর ছিল কানায় কানায় জল
দখিন হাওয়ার ঢেউ গুলো তার করত টলমল।
হালের দুটো বলদ ছিল একটা দুধের গাই
ওরা যেন ছিল আমার ভগ্নি এবং ভাই।
ঘরের মুখে ছিল দুটো লাল গোলাপের চারা
সারা বাড়ি থাকতো ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা
লাল পুঁইয়ের এক মাচা ছিল আঙ্গিনার এক পাশে
পুঁইয়ের ডগা দুলত সেথায় দক্ষিণা বাতাসে।
তাজমহলের রূপ ছিল মোর সবুজ-শ্যামল নীড়ে
আসতে যেতে পথের পথিক চাইত ফিরে ফিরে।
এই বাড়িতে তেমন সুখেই যাচ্ছিল দিন কেটে
যেমন সুখে শিশুরা সব ঘুমায় মায়ের পেটে।
আমার এ সুখ সইল না ঐ পদ্মা নদীর প্রাণে
বান ডেকে সে ঢেউ তুলে মোর বক্ষে আঘাত হানে।
ঘরবাড়ি সব ভাসিয়ে নিল ভাসালো দুই আঁখি
অশ্রু ছাড়া কিছুই সে মোর রাখল না আর বাকি।
কাল যেখানে ছিল আমার মাথা গোঁজার ঠাঁই
আজ সেখানে জলের খেলা আমার কিছুই নাই।
বাপ মা আমার ঘুমিয়ে ছিল কাল যে মাটির ঘরে
আজ সেখানে নদীর পানি রঙ্গে খেলা করে।
সাত পুরুষের স্মৃতির মতন নাই কো কিছুই আর
নদীর জলে ভাসছে তাদের গোর কবরের হাড়।
নদীর জলে হাড় পেলে কেউ বক্ষে তুলে নিও
গোর হারা মোর মায়েরে আবার দাফন করে দিও।
কাল যেখানে থাকত বাঁধা আমার বলদ গাভী
আজ সেখানে বানের জলে ভাসছে হাবিজাবি।
তদের সাথে যদিও আমার রক্ত বাঁধন নাই
তবুও ওরা ছিল আমার ভগ্নী এবং ভাই।
আমার সুখে হাসত ওরা কাঁদত আমার দুখে
নিজের বাছুর উপুস রেখে দুধ দিতে মোর মুখে।
হাসিমুখে আমার সাথে টানত ওরা হাল
ভাইয়ের মতোই সঙ্গ দিয়ে আসছে চিরকাল।
আমার এ সুখ হয়নি হজম পদ্মা নদীর চোখে
আঘাত করে আমাদের এই ভাই বাঁধনের বুকে।
হঠাৎ দেখি তার আঘাতে উঠোন গেছে ফেটে
প্রাণ বাঁচাতে দিলাম ওদের গলার দড়ি কেটে।
নদীর জলে ভাসিয়ে দিয়ে সাত জনমের বাঁধন
অবাক চেয়ে শুনছি তাদের হাম্বা সুরের বাঁধন।
বিদায় কাঁদন কান্ধে ওরা আমার দিকে চাহি
আমিও কাঁদি কান্না ছাড়া কিছুই করার নাহি।
জানিনা আজ কোথায় ওরা মরল না কি আছে
কোথায় পাব তাদের খবর সুধাই বা কার কাছে।
নদির জলে পাও যদি কেউ তিনটি বলদ গাই
বুঝে নিয়ো এরাই আমার হারানো বোন ভাই।
বিনয় করে বলছি তোমার পা জড়িয়ে ধরে
একটু তাদের থাকতে দিও তোমার গোয়াল ঘরে।

06

কালের প্রশ্ন

ফেরদৌস আহমেদ

যারা আমার নাম দিয়েছে
তাদের মাথায় গন্ডগোল
আমি থাকি মাটির মাঝে
আমারে কয় ছিন্নমূল।
তুমি আমি আমরা সবাই
দেখে আসছি জীবন ভর
মাটি ছাড়া আর কিছুতেই
পুঁতা যায় না মূল শিকড়।
মাটির মাঝেই জন্ম আমার
মাটির মাঝেই বসবাস
মাটির মাঝেই পাটি পেতে
ঘুমাই আমি বার মাস।
শিকর আমি পুঁতে ছিলাম
গর্ভ থেকে বেরিয়ে
এতদিনে মূল সে শিকর
পাতাল গেছে পেরিয়ে।
সারা মাটি ছেয়ে গেছে
আমাদের মূল শিকড়ে
সেই আমারে ছিন্নমূল বা
মূল হারা কও কি করে?

07

আমার ভালোবাসা

 ফেরদৌস আহমেদ।
ভালবাসি চাঁদ জোসনার রাত
শ্রাবণের রিমিঝিমি ধারা
ভালবাসি ফুল শিমুল পারুল
আকাশের মিটি মিটি তারা।
ভালোবাসি খাঁটি এদেশের মাটি
পাখিদের কুহু কলতান
আরো বাসিভালো জোনাকির আলো
তটিনির কলকল গান।
ভালবাসি আর নদী ও পাহাড়
খোলামেলা ফসলের মাঠ
ভালোবাসি লিখা অজানাকে শিখা
অবসরে প্রিয় বই পাঠ।
ভালোবাসি সুর পাখি ডাকা ভোর
রাখালের বাঁশরীর তান
আরো ভালবাসি প্রকৃতির হাসি
ফুল পাখি ভ্রমরের গান।
ভালবাসি আলো যাহা কিছু ভালো
জুলুমের প্রতিবাদ করা
জ্ঞানীদের দেখে ভাল কিছু শেখে
আপনারে ভেঙেচুরে গড়া
ভালোবাসি আর ভালো ব্যবহার
হাসিমুখে ক্ষমা করে দেয়া
আরো ভালোবাসি নিরীহের হাসি
ভালোবেসে কাছে টেনে নেয়া।
মুখে নিয়ে হাসি হাতে ভালোবাসি
জ্ঞানীদের চরণের দাসী
সাদাসিধে চলা কথা কম বলা
দুই ঠোঁটে বেঁধে রাখা হাসি।
ভালবাসি শিশু সব প্রাণী পশু
যাহাদের বুকে আছে প্রান
কাঁদে যদি প্রাণী চোখে আসে পানি
বুকে বাজে বিবহের গান।
ভালোবাসি যারা সৎ পথ হারা
পাপীতাপী সমাজের বোঝা
ভালোবাসি তাকে জড়িয়ে এ বুকে
তার লাগি ভালো পথ খুঁজা।
সবচেয়ে বেশি তাকে ভালোবাসি
যার কাছে হাত তুলে মাগি
ভালোবাসা আর সকল আমার
সে মহান মালিকের লাগি।
 08

বানভাসীদের কান্না

 ফেরদৌস আহমেদ
তিনদিন ধরে আমাদের ঘরে
খাবার পায় না কেউ
সবার উদরে ক্ষুধার যাতনা
দু চোখে জলের ঢেউ।
কেউ বা ক্ষুধায় লুটায়ে পড়েছে
লুকিয়ে কাঁদছে কেহ
পানির পিয়াসে কারো বা আবার
ঢলিয়া পড়ছে দেহ।
সকল সুখের সারতি আমার
বাম পাঁজরের হাড়
সেই যে সকালে চোখ বুজে ছিল
দু চোখ মেলে নি আর।
নাড়া দিয়ে দেখি ঘরনী আমার
ভাঙিয়া আমার জোড়া
চিরতরে মোরে একলা করিয়া
আকাশে দিয়েছে উড়া।
হারানো সাথীর মুখপানে চেয়ে
ভিজিয়া উঠল আঁখি
বুকের গহীনে কাঁদিয়া উঠিল
সাথীহারা প্রাণ পাখি।
না শুকাতে মোর নয়নের পানি
রজনী হইল ভোর
বিধাতা নীতি ভুলে সব প্রীতি
কাটিতে হইবে গোর।
চারিদিকে শুধু পানি আর পানি
কোনখানে নাই মাটি
কোনখানে বল শুয়াই তাহারে
কোথা বা কবর কাটি।
জলে ভরভর সারা গ্রাম ঘুরে
না পেয়ে কূলের দেখা
মরা লাশ নিয়ে তিন দিন ধরে
কাঁদিয়া মরছি একা।
সারাটা জীবন রেখেছি যাহারে
পরম আদরে স্নেহে
বিদায়ের ক্ষনে আজকে তাহার
পঁচন ধরেছে দেহে।
চোখের সামনে পঁচে গলে যায়
‌ আমার কলিজা দেহ
যতনে তাহারে দাফন করিবে
নাই কি রে আজ কেহ!
ওদিকে আমার নয়নের মণি
চার ছ মাসের মেয়ে
তিন দিন ধরে উপুস রয়েছে
মায়ের দুধ না পেয়ে।
তিন দিন ধরে অনাহারে তার
শুকিয়ে গিয়েছে মুখ
অক্ষিকুটরে ঢুকে গেছে তার
টানা টানা দুই চোখ।
কিছুক্ষন ধরে মা মনি আমার
তুলে না ক আর মাথা
কুটি কুটি হেসে হাত পা চুড়ে না
নড়ে না চোখের পাতা।
চোখের সামনে বুকের মানিক
তিলে তিলে যায় মরে
নাই কিরে কেউ ভালোবেসে তারে
টানিয়া লইবে ক্রূরে।
মানবপ্রেমী কেউ কি এমন
নাই রে দুনিয়াতে
আসবে রে আজ কোদাল কাফন
দুই ফোটা দুধ হাতে।
09

 নারীর বাড়ি

আমি ফেরদৌস আহমেদ।

লোকে বলে নারীর না কি হয় না কোন ঘর
নারী ছাড়া একলা কভু ঘর বাঁধে না নর।
যুগে যুগে এই দুনিয়ায় হইছে যত বাড়ি
পুরুষ জাতি বেঁধেছে তা রাখতে তাতে নারী।
সকল বাড়ি তৈরি নারীর প্রেমের অনুরাগে
কোন পুরুষ ঘর বাঁধে না সঙ্গী পাওয়ার আগে।
নারীর প্রেমের পরশ পেতে হইতে নারীর বর
পুরুষ জাতি কষ্ট করে বানায় বাড়িঘর।
পুরুষ জাতি যত বাড়ি বেঁধেছে এই ভবে
সব বেঁধেছে নারীর নিশি সঙ্গী হওয়ার লোভে।
নারীর প্রেমের নারীর ছোঁয়ার স্বাদ না এলে মনে!
কোন পুরুষ বাঁধত না ঘর ঘুরত বনে বনে।
যতরকম বসতবাড়ি আছে ভুবনকূলে
পুরুষরা তার মিস্ত্রি মালিক নারীরা তার মূলে।
নারী হল বাড়ির শোভা নারীই বাড়ির প্রান
পুরুষরা তার কর্তা মালিক রক্ষী দাড়োয়ান।
নারীর নাকি হয়না বাড়ি অমূলক এই দাবি
নারীর হাতেই থাকে রে ভাই সকল বাড়ির চাবি।
নিজের টাকায় নিজের শ্রমে বান্দে যে ঘর নরে
নরের চেয়ে নারীই তাতে বেশি বিরাজ করে।
সাতসকালে পুরুষরা সব ঘর ছেড়ে যায় কাজে
ঘরবাড়ি সব আগলে রাখে নারীই বুকের মাঝে।
দিবানিশি অষ্টপ্রহর গৃহে কাটায় যারা
পাই না ভেবে কেমন করে হয় সে গৃহহারা।
পুরুষরা হয় বাপের ভিটার উত্তরাধিকারী
পিতার গৃহ স্বামীর গৃহ দুই গৃহে পায় নারী
চলুন জানি কোন ঘরে তার কদর কতখানি
পিতার ঘরে রাজকন্যা সে পতির ঘরে রানি।
কে বলেরে এই দুনিয়ায় গৃহহীনা নারী
পিতা পতি ভাইয়ের বুকেই তাদের বসতবাড়ি।

10.

আত্মদান

 আমি ফেরদৌস আহমেদ

আমি হতে আসিনি রবি-শশী তারা রঙ্গিলা আলোরঝার
আমি এ ভুবন আলোয় রাঙানো বিলীন অন্ধকার।
আমি নিতে আসিনি ললাটে আমার জয়জয়কারের টিকা
আমি এসেছি নিজেরে পুড়িয়ে জ্বালাতে আলোর শিখা।
আমি আসিনি বন্ধু কুসুম কুড়িয়ে মিটাতে মনের রুচি
আমি আসিয়াছি ত্যাগী কুসুমের করতে কদমবুচি।
আমি হতে আসিনি খুপার কুসুম কন্ঠে সোনার হার
হইতে এসেছি বিশ্ব মানব জাতির চৌকিদার।
আমি হতে আসিনি মাটির ভুবনে অট্টালিকার মালিক
আমি হতে এসেছি স্বাধীনচেতা মুক্ত ময়না শালিক।
আমি হতে আসিনি গোলাপ গাঁদা সুভাষিত অপরুপ
আমি সুমধুর গন্ধ ছড়াতে নিজেরে পুড়ানো ধূপ
আমি হতে আসিনি খাসার প্রদীপ মশাল প্রজ্বলিকা
আমি প্রদীপের তেল নিজ প্রাণ দানে জ্বালাই প্রদীপ শিখা।
আমি হতে আসিনি বীরের হাতের মহাদামি তরবারি
আমি সস্তা লোহার ঢাল আঘাত সয়ে সবারে রক্ষা করি।
আমি তো আসিনি দু ঠোঁটে আমার বাধিয়া রাখতে হাসি
যে বাঁশির সুরে হাসিবে সবাই আমি সে বাঁশের বাঁশি।
আমি জগতের রূপ সুধা পানে
ভরতে আসিনি প্রান
আমি এসেছি সকলের তরে আমারে করতে দান।

11.

বইয়ের গুরুত্ব

 ফেরদৌস আহমেদ।

ও চাষী ভাই কাঁদছ কেন গোমরা কালো মুখে
ফসল তোমার খাইছে বুঝি রোগ বালাই আর পোকে?
কত সময় আলসেমি আর হেলায় খাটাও তবু
তোমরা তো ভাই কেউ কখনো বই পড় না তবু।
একটু যদি বই পড়িতে পাইতে রে ভাই পার
বই হতো তোর সোনার ক্ষেতের কীটনাশক আর সার।
চাষাবাদের নিয়ম কানুন বইয়ের মাঝে পেতে
তাহার জ্ঞানে সোনার ফসল ফলত তোমার ক্ষেতে।
ক্ষেতের কাজের পাশাপাশি ন
লইলে হাতে বই
আজকে তোমার পাকা ধানে পরতো না আর মই।
কৃশান শ্রমিক তোমরা যদি বই নিতে ভাই হাতে
হাসতে তুমি সোনার ফসল হাসতো তোমার সাথে।
কি দোকানি কাঁদছ কেন কি গো তোমার ব্যথা
দোকানে তোর নাই বুঝি মাল নাই বুঝি তোর ক্রেতা?
তোমরা তো ভাই অনেক সময় কাটাও হেলা করে
সময় পেলেও কেউ কখনো দেখনা বই পড়ে।
মাঝে মাঝে বই পড়িলে পাইতে সুফল তার
বইয়ের গন্ধে তোর দোকানে আসত খরিদ্দার।
বইয়ের মাঝে পাইতে তুমি ব্যবসা করার নীতি
কোনকালেও দোকানে তোর জ্বলত না লাল বাতি।
ছোট্ট বড় সব দোকানি বই যদি নাও হাতে
হাসবে তুমি ব্যবসা তোমার হাসবে সাথে সাথে।
কি হলো গো বেকার যুবক কাঁদছ কেন ভাই
লেখাপড়া করেও তোমার আজ বুঝি কাজ নাই?
তোমরা যদি বইয়ের থেকে শিক্ষা নিতে দাদা
অন্য কারো চাকর হতে শিক্ষা দিতো বাঁধা।
মন লাগিয়ে পড়তে যদি উচ্চমানের বই
বই হত তোর নিজের পায়ে ঊর্ধ্বে ওঠার মই
বইয়ের মাঝে পাইতে তুমি নতুন পথের দিশা
বইয়ের আলোয় উঠত জেগে কর্ম করার নিশা।
বইয়ের আলো সত্যি যদি পড়তো তোমার মনে
বেকার থেকে পারতে না আর ঘুরতে বনে বনে।
বেকাররা সব বই জড়িয়ে ধরলে বুকের মাঝে
নিজের গুনে বই তাহাদের নামিয়ে দিত কাজে।
কি হলো গো মা জননী কাঁদছো কি বা শোকে
কুলের শিশু উপোস বুঝি দুধ আসে না বুকে।
তোমরা তো মা টিভি দেখে সময় কাটাও তবু
ইচ্ছে করে কেউ কোনদিন বই পড় না তবু।
কাজের ফাঁকে তোমরা মাগো বই পড়িতে যদি
বই হত তোর শিশুর মুখের দুধ সুজি আর দধি।
বই দিয়ে সেই নীতির সাথে হয়ত পরিচয়
কেমন করে মা ও শিশুর যত্ন নিতে হয়।
শিশুর সাথে বই যদি আজ থাকত মায়ের কোলে
সকল শিশু উঠত বেড়ে বইয়ের দোলায় দোলে।
কি হলো গো বিশ্ব মাতা তোমার চোখে পানি
বাসিন্দা তোর করছে বুঝি দাঙ্গা হানা হানি?
বিশ্ববাসী কান্দে আজি বিশ্ব মা তোর ভূলে
বিশ্ববাসীর হাতে তুমি দাওনি কিতাব তুলে।
সবার মনে ফেলতে যদি বই কিতাবের ছায়া
সবার মনে সবার প্রতি উঠত জেগে মায়া।
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিলে বই কিতাবের ফুল
বইয়ের আলোয় স্বর্গ হতো বিশ্ব মা তোর কূল।

 12.

হারানো দিনের স্মৃতি

ফেরদৌস আহমেদ
কোথায় গেল সোনার সময় সোনার মানুষ কই!
কোথায় গেল লাঙ্গল জোয়াল কোথায় গেল মই।
কোথায় গেল গরুর গাড়ি কোথায় গরুর হাল
কোথায় গেল রংবেরঙের ডিঙি নায়ের পাল।
কোথায় গেল মাটির কলস
সেই কলসির জল
ঘরের শোভা রঙিন শিখা কোথায় গেল বল!
শকুনরা সব কোথায় গেল কোথায় গেল কাক
কোথায় গেল শিয়াল মামার হুক্কাহুয়া ডাক।
কোথায় গেল শিল আর পাটা পাটার ভাটা ঝাল
কোথায় গেল কাঠের ঢেকি ঢেকির ছাঁটা চাল।
কোথায় গেল পালকি চলার হুনহুনাহুন সুর
ঠেলার গাড়ি হারিয়ে গেল হায়রে কত দূর।
কোথায় গেল রাত্রি জেগে চিঠি লেখার দিন
কোথায় গেল হারিকেন আর কোথায় কেরোসিন।
কোথায় গেল গরুর টানা আঁখ মারানোর কল
কোথায় গেল গ্রামের বাড়ির বাংলা ঘরের ছল।
বিয়েবাড়ির গীতের আসর কোথায় গেল ভাই
কলাপাতায় আহার করার মেজবানিটাও নাই।
কোথায় গেল কাঁচের চুড়ি রেশমী ফিতার সাজ
কোথায় গেল হায় রুমালের সুতার কারুকাজ।
কোথায় গেল মাটির কূপের মিষ্টি স্বাদের জল
কোথায় গেল ডাল মারানোর শিলার যাঁতাকল।
কোথায় গেল কুলুর বলদ বন্ধ যাহার চোখ
কোথায় গেল হুক্কা তামাক হুক্কা টানার লোক।
হারানো সুর খুঁজতে গিয়ে সবচেয়ে ব্যথা পাই
যখন দেখি কোরআন শিখার মকতব ও আর নাই।

13.

সুশিক্ষা

 ফেরদৌস আহমেদ
ধনের আশায় বিদ্যা শেখা পেশায় শিক্ষাগুরু
তাদের কাছেই শিশুদের হয় শিক্ষাজীবন শুরু।
একই আশায় বিদ্যা শিখা মাতা পিতার খুন
মিলেমিশে বানায় তাদের ছেলেমেয়ের ভ্রুন।
মাতাপিতার চল চেতনা রক্তে তাদের মিশে
ছড়িয়ে পড়ে শিশুর শিরায় রুপ নিয়ে এক বিষে
শিশুর মাথায় মাতাপিতার রক্তে লিখা হয়
পড়তে হবে ধনি হতে মানুষ হতে নয়।
বড় হয়ে শিশুর ঘরে রাখে টাকা বই
মাতাপিতা বৃদ্ধাশ্রমের বন্দিবাসি হই।
শিশুকালেই শিখানো হয় উল্টৌ ধাঁচের ছড়া
গাড়ি ঘোড়ায় চড়বে যারা করবে লিখা পড়া।
অযাচিত এই ছড়ার সাথে আমার বড় ক্রুভ
শিশুর মাথায় এ যে ছড়ায় মারসেটিসের লোভ।
জন্মগত ভাবেই মানুষ ভোগবিলাসি হয়
ভোগের কথা কাউকে কি আর শিখিয়ে দিতে হয়!
খাবার খুঁজার নিময় কানুন শিখানোর কি আছে
কাঠ কোটরের অন্ধ সাপ ও খাবার খেয়ে বাঁচে।
প্রথম থেকেই শিশুদের কে শিক্ষা হবে দিতে
বিবেক দিয়ে মন চালাতে মনের বিপরীতে।
জমিয়ে রাখা মানুষ জাতির স্বভাবগত লয়
শিখাতে হয় কেমন করে বিলিয়ে দিতে হয়।
নতুন ছড়া শিখতে হবে পুরনো ছড়া ছাড়ি
আমার পিঠে চড়বে মানুষ আমি হব গাড়ি।
শিখাতে হয় টাকাপয়সা মূর্খ লোকের ধন
শিক্ষিতদের উত্তম আচার উচ্চতর মন।
টাকার লাগি বিদ্যাশিক্ষা চলবে যত কাল
জন্ম নেবে মানব শিশু বাড়বে পশুর পাল।

14

চাপা কান্না

 ফেরদৌস আহমেদ
মনের ঘরে ছন্দ আসে
ঘরের মুখে পাওনাদার
দুই দুয়ারির গন্ডগোলে
কাব্য লেখা হয় না আর।
মনের কথার ফুল কলিতে
বিষ ভ্রমরা ফুটায় হুল
বিষের জ্বালায় কান্দে কবি
কাব্য কলি হয় না ফুল।
কাব্য লেখার স্বপ্ন কাঁদে
সাধ্য শখের অন্তরায়
উঠতে চলা প্রভাত রবি
ভোর বিহানেই অস্ত যায়।
মাথায় সোনার ছন্দ আসে
যখন তারে লিখতে যাই
ঘর গৃহিণী চেঁচিয়ে বলে
দু দিন ধরে লবণ নাই।
হায়রে আমার ব্যথার জীবন
হায়রে আমার পান্তা নূন
তোর কারনে মায়ের পেটেই
কাব্য শিশু হইল খুন।
ছন্দ লেখার গন্ধ পেয়ে
খুশিতে দেই হাততালি
মন ভেঙে যায় যখন দেখি
বধুর জামায় সাততালি।
কথার যে ফুল শিশুর মত
আসল আমার কোলজুরি
জ্যান্ত তারে কবর দিয়ে
শূন্য করি ফুলঝুরি।
কাব্য করে লিখতে তারে
চন্দ্র তারা বাড়ায় হাত
পেছন থেকে বাচ্চা বলে
শূন্য থালায় দাও হে ভাত।
বিষন্নতায় ভেঙ্গে পড়ে
ক্লান্ত মনের ঘর দুয়ার
দমকে দাড়ায় উতলে উঠা
কাব্যকথার ভর জোয়ার।
বিরম্বনার খড় পুড়িয়ে
যদিও কিছু হয় লিখা
চার দেয়ালেই বন্দি থাকে
কাব্যের আলোর সেই শিখা।
কে তাহারে বাসবে ভালো
ছড়িয়ে দেবে বিশ্বময়
সোনার লেখা ও ধূলায় গড়ায়
লেখক যদি নিঃস্ব হয়।
সমাজ জুড়ে ছড়িয়ে আছে
জাত বেজাতের ধুম্রজাল
হেলায় হেলায় তাই নিভে যায়
আমার লেখার মোম মশাল।
14

আমি যে ক্ষুদ্র অতি

 ফেরদৌস আহমেদ
আমি অতি সাদামাটা ,অতি সাধারণ
ভুবনে পথিক বেশে ,কাটাই জীবন।
রঙ্গিন ভুবনে আমি ,অতি সাদাকালো
প্রাসাদ সহে না মোর ,পথে লাগে ভালো।
পেয়েছি কর্মস্থলে ,সোনার আসন
সম্মানী পদবী ও মূঠো ভরা ধন।
বিছানো বিষের কাঁটা , আসন জুড়ে
অনিয়ম, অবিচার, অহংকারে।
অনিয়ম অবিচার ,সহে না যে মন!
বেছে নেই ফুটপাতে ,ধূলার জীবন।
হালাল কামাই করি ,লাজ ভয় নাই
ফুটপাতে সিঙ্গারা বেচে ,জিবীকা চালাই।
যখন যেমন পাই, তাই নিয়ে সুখী
বুক ভরি ,ফুল ,পাখি ,আকাশ দেখি।
আমি যে ক্ষুদ্র অতি ,করি ছোট কাজ
কতক স্বজন দেখে ,পায় মনে লাজ।
পথে যেতে দেখা হলে ,আর চোখে চায়
পশুর বিমুখে মোর ,কি বা আসে যায়!
পেয়েছি অনেক মানুষ, সোনার মত
কর্মের মান তারা ,দেয় যথাযথ।
আমার এ ধূলার দেহ, বুকে নেয় টেনে
তাদের প্রণাম ,সালাম ,করি আনমনে।
পরিচয় হলো এবার ,ঠিকানা জানাই
ভালো লাগলে এস বোন, বন্ধু ও ভাই।
কিশোরগঞ্জ জেলা আমার ,থানা হোসেনপুর
সদর শহর হতে, খানিকটা দূর।
রামপুর নামে সেথা ,গ্রামের বাজার
এখানে সিঙ্গারা বেচে ,করি দিন পার।
হিংসো না আমি যে ,ক্ষুদ্র অতি
রেখেছি তোমার লাগি, হৃদয় পাতি।
15
কন্যাদান
ফেরদৌস আহমেদ
বিশ বছর আগে বিজলির আলো সোনার বদনে ভরি
আমার ভূবনে এসেছিল এক মায়াবী আলোর পরী।
একদা প্রভাতে আপন আলোয় রাঙ্গিয়ে আমার ক্রোড়
আমার কুটিরে এসেছিল এই মনোহর কোহিনূর।
সেই থেকে সেই চন্দ্রমুখের জোছনা জোয়ার-জলে
অঙ্গ ভাসিয়ে চলছে জীবন সকল বেদনা ভূলে।
আঁতুড়ঘরে মুখ দেখে তার জেগেছিল শিহরণ
পরশে তাহার জুড়িয়ে ছিল আমার উতলা মন।
কিছু দিন পরেই তার দুটি ঠোঁটে ফুটল মধুর বুল
ভাঙ্গা ভাঙ্গা সুরে ঠোঁট যেন তার ছড়ায় মায়ার ফুল
তার কিছু পরে হাটিঁবার ছলে ধরেছিল মোর হাত
আর ছাড়েনি গত হয়ে গেল হাজার দিবস ও রাত।
বিশটি বছর মায়ের মতন বাঁধিয়া রাখল বুকে
এই ক টা দিন জল উঠিতে দেয় নি আমার চোখে।
কে বলেরে ভবে মায়ের মতন মমতা কাহারো নাই
অন্তরে তার আমি যে আমার মায়ের গন্ধ পাই।
সে আসার পরে কখনো আমার আঁধার হয়নি ঘর
সে সোনার আলো নিভে যায় আজ বিশটি বছর পর।
সানাইয়ের সুর লাল বেনারসি পালকি গহনা বর
আমার সে আলো কেড়ে নিয়ে যায় আঁধার করিয়া ঘর।
মমতায় ভরা মায়ের আঁচল নিয়ম-নীতির ঝড়ে
দূরে চলে যায় হতভাগা এই পিতারে এতিম করে।
জল ভরা চোখ দু হাতে ঢাকিয়া মাটিতে এলিয়ে দেহ
মনে হয় যেন ভুবনে আমার রইল না আর কেহ।
এতটুকু কেঁদে কাটা যায় কি আর বিশ বছরের মায়া
যে দিকে তাকাই আমি শুধু দেখি পড়ে আছে তার ছায়া।
মায়ার বদন ভুলিয়া থাকতে আসমানে ফেলি চোখ
চন্দ্রের মুখে ভেসে ওঠে আমার হারানো চাঁদের মুখ।
ব্যকুল পরান শীতল করিতে বক্ষে জড়িয়ে লই
হারানো মায়ের রেখে যাওয়া স্মৃতি আয়না চিরুনি বই।
তাহার বালিশে মাথাখানি রেখে পাটিতে রাখিয়া দেহ
খুঁজিয়া বেড়াই হারানো মায়ের হারানো পরশ স্নেহ।
তাহার স্মৃতিতে বদন গুজিয়া কাঁদিয়া ভাসাই বুক
দিবানিশি কেঁদেও ভুলতে পারি না কন্যাদানের শোক।
0
16
জাগরণের গান
ধুলির ধরায় নবরূপে আবার আসিয়াছে ফেরাউন
কোথারে জোয়ান জালিমের জম মুসলিম নবারুন।
কোথারে মমিন জালিম জুলুম হিংসার যমদূত।
চেয়ে দেখ মুখে মুখোশ পরিয়া আসিয়াছে নমরুদ।
মুসলিম নিধন ধ্বংস লিলায় মাতিয়াছে সাদ্দাত,
পড়ে না কি চোখে ; মুমিন নামের মুনাফিক বজ্জাত!
মূসার আঘাতে কাতর ফেরাউন আমাদের যুগে আসি
বীরের পোশাকে বিড়াল দেখিয়া হাসিছে অট্টহাসি।
মমিনেরা আজ বর্ম খুলিয়া মাথায় পড়েছে টুপি
বিপ্লবী আলোর মশাল নিভিয়ে ধরেছে মাটির কুপি।
তেজবল হিন সিংহের ঘাড়ে শিয়াল পাতিয়া আসন
বিনা দ্বিধা বাধায় উল্লাসে মেতে বিশ্ব করিছে শ্বাসন।
আরব সিরিয়া ভাঙ্গিয়া চুরিয়া গিলিয়াছে আরাকান
প্রভুর জমিনে মারিছে প্রভুর প্রেরিত মুসলমান।
রুধিতে হইবে এই অবিচার অত্যাচারের খেলা
কোথা রে খোদার কাবার প্রেমিক নবী রাসুলের ছেলা।
আড়মোড়া দিয়ে জাগো হে মুমিন মুছ হে চোখের পানি
জাগতেই হবে জাগতেই হবে এ বার্তা আসমানি।
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বাড়িয়েছ ঋণ শুধিতে হইবে দেনা
পুরুষেরা লও-কোরআন কামান নারীরা গর্ভে সেনা।
খুলে অঙ্গুরি লহ খন্জরি সাজাও হস্তী ঘোড়া
খুঁজিতে হইবে হারানো বিজয় পুরনো শিখরচুড়া।
নিজেরে বন্ধু নিঃস্ব ভেবোনা ভেবোনা আমরা খালী
রাসুল মোদের কাফেলার নেতা বাহুর প্রেরণা আলী। (সাঃ)(রাঃ)
আল্লাহর নামে শপথ করিয়া বাঁধিয়া দেখ না কোমর
তোমারি মধ্যে বাঁকা তীর হাতে জাগিয়া উঠবে ওমর।(রাঃ)
ভয় নাই ভাই তাকবীর তুল সাক্ষী ওহুদ বদর
তাকবীরে ওদের অন্তরে ধরে কুষ্ট কলেরা পদর।
হতে পারে ওরা হাঙ্গর কুমির অতিকায় নীল তিমি
আমরা ওদের বাহুবলে বাত উদরে হইব কৃমি।
ডুবে যাক তরী নামুক আঁধার আমরা হবই পার
চলবে তরণী জ্বলবে মশাল আল্লাহু আকবার।
ভূল না বন্ধু আমরা সাহসি ইব্রাহিমের পোলা
পিতার সঙ্গে আগুনে পুড়িয়া হয়েছি অগ্নি গোলা। (আঃ)
জেগে ওঠো তুমি তোমার চেতনা হাঁকিছে পূর্বাভাস
জালিমের আঁখি জলে হেসে মজলুম ;পালিবেন পাতিহাঁস।
খোদার পৃথিবী খোদার প্রেরিত গোলাম করবে শাসন
খোদাদ্রোহী কারুন মাজবে মূসার রান্না ঘরের বাসন। (আঃ)
এ বার্তা লয়ে হাসছে প্রভাত গাইছে ভোরের পাখি
এখন শুধু মুসলমানেরা জাগিয়া উঠার বাকি।
17
খাবারের ত্রুটি
ফেরদৌস আহমেদ
ঈদের ছুটি ভাইয়া আসবে আসবে দুলাভাই,
আপু আসবে ,ভাগ্নে আসবে ,খুশির অন্ত নাই।
শখের বশে তরুণী তাই ,করে বসল পণ,
নিজের হাতে করবে সকল ,খাবার আয়োজন।
নিজের হাতে রান্না করবে, হৃদয় উজার করে
আহা কি স্বাদ! অতিথীরা ,বলবে খেয়ে পরে।
কিরে পাগলী এমন রান্না, শিখলি আবার কবে ,
ছোট ভাইয়া বলবে যখন, কি যে মজা হবে!
বড় ভাইয়া খেতে খেতে মাকে দেবে ডাক
বলবে মা গো খাবার টা আজ ,কে করেছে পাক?
মা বলবে ,কস নে বাবা !তোর ছোট বোন আলো।
প্রথম হলেও, ঠিক না বাবা ,বেশ হয়েছে ভালো!
বড় ভাইয়া মুচকি হেসে ,বলবে সাথে সাথে
আসলে মা জাদু আছে ,আলো মনির হাতে।
আমি তখন সবার করা আদর প্রশংসায়,
ভেসে ভেসে হারিয়ে যাব সুখের মোহনায়।
কথার ছলে হেসে তখন ,বলবে দুলাভাই
পাকা গিন্নির জন্য এবার, ভালো ছেলে চাই।
সবাই যখন হাসবে সুখে ,আমার রান্না খেয়ে
দু চোখ জুড়ে আনন্দের জল ,পড়বে বেয়ে বেয়ে।
আসলো সবাই দিলাম আমি নিজের হাতে খেতে ,
প্রশংসা নেই খাচ্ছে সবাই, খোশ গল্পে মেতে।
লাজ ভেঙ্গে কই ,বলো ভাইয়া ,রান্না কেমন হলো ?
ভাইয়া বলে কেমন জানি ,লাগছে এলোমেলো!
মনে হচ্ছে হলুদ বেশি ,লবণ একটু কম
কথা শুনে যাচ্ছে আমার, বন্ধ হয়ে দম!
দুলাভাই কয় তরকারিতে ,বিশ্রী কেমন ঘ্রান
হঠাৎ ঝড়ে ভেঙ্গে গেল ,আলো মনির প্রাণ।
এখনো তার জ্বলছে দু হাত মরিচ বাটার ঝালে
চুলার কালি লেগে আছে এখনো তার গালে।
পেঁয়াজ কাটার যন্ত্রণাতে ঝরছে চোখে পানি
ঘামের জলে ভিজে আছে সোনার অঙ্গখানি।
ভালো মানের খাবার দিতে অতিথীদের মুখে ,
ঝরছে পানি ছোট্ট খুকি আলো মনের চোখে।
খাদকেরা এই দিল তার শ্রমের প্রতিদান
মন্দ বলে ভেঙ্গে দিল আলোমনির প্রাণ।
আলোমনি দৌড়ে গিয়ে বালিশ চেপে বুকে
অনাহুত যন্ত্রনাতে, মরছে ধুকে ধুকে।
তিক্ত হলেও সত্যি আমরা, খাবারের দোষ বলি
রাধুনীর মন ভেঙে চুরে ,বুকে আগুন জ্বালি।
মন্দ বললে কখনো কি ,খাবারের স্বাদ বাড়ে?
বরং একটি পাপের কালি ,আমলনামায় পরে।
সকল জেনে ও খাবারের দোষ বলে সর্বজন
ভেঙ্গে ফেলে বধু মাতা কন্যা বোনের মন।
18
আমার ইচ্ছা
ফেরদৌস আহমেদ
আমি যদি হাসি হতাম
সবার ঠোঁটে লেগে,
অশ্রুটাকে সরিয়ে দিতাম
সকল চক্ষু থেকে।
আমি যদি সুখ হতাম
হাওয়ার সাথে মিশে ,
সবার ভেতর ঢুকে যেতাম
‌‌ প্রতিটা নিঃশ্বাসে।
আমি যদি দুঃখ হতাম
মেঘের পিঠে চড়ে ,
হারিয়ে যেতাম দূর আকাশে
এই পৃথিবী ছেড়ে।
আমি যদি পুষ্প হতাম
গন্ধ দিতাম ঢেলে ,
সবার মনে স্বপ্ন সুখের
ছন্দ দিতাম তুলে।
আমি যদি পাখি হতাম
মিষ্টি মধুর গানে,
সুখের ফাগুন এনে দিতাম
সব মানুষের মনে।
আমি যদি আকাশ হতাম
বৃষ্টি ঢেলে দিয়ে ,
দিতাম সবার মন মরুটা
সবুজে রাঙ্গিয়ে।
আমি যদি হিংসা হতাম
জলে ডুবে মরে ,
পরস্পরের মায়ার বাঁধন
দিতাম শক্ত করে।
আমি যদি বিশ্বাস হতাম
হতাম অনেক শক্ত ,
ভাঙতো না কেউ হয়ে যেত
সবাই সবার ভক্ত।
আমি যদি সোহাগ হতাম
ধরে রাখতাম পায়ে ,
নবজাতক ফেলে দিতে
পারত না আর মায়ে।
আমি যদি ঘৃণা হতাম
থাকতাম পাপের মাঝে,
ঘৃণার ডরে পাপের কর্ম
করতো না কেউ লাজে।
19
নারীর অধিকার
ফেরদৌস আহমেদ
রঙ্গিন সুতায় না গাঁথিলে
ফুল হয় না মালা,
সুতাও কভূ মালা হয় না
একলা, একলা।
ফুল সুতা দুয়ে মিল
মালা তৈরি হয়,
ফুল মালার অংশ হলে
সুতা কেন নয়?
হাজার পুরুষ বুকে গেঁথে
পতিতা হয় নারী,
নারী রঙ্গিন সুতা হলে
পুরুষ ফুল বাহারি।
নারী পুরুষ দুইয়ে মিলে
পতিতাবৃত্তি হয়।
নারী শুধু পতিতা হবে
পুরুষ কেন নয়?
নষ্ট নারী হয় যদি ভাই
পাপের দোকানদার
সব্যসাচী পুরুষরা সেই
পাপের খরিদ্দার।
পতিতা চিনি নিন্দা নিয়ে
সমাজ ছেড়েছে যারা,
আজও আমার হয়নি চেনা
পুরুষ পতিতা কারা!
পুরুষতান্ত্রিক সমাজের এ
কেমন অবিচার
একই কাজে নারী দোষী
পুরুষরা পায় ছাড়!
আমি যে ভাই নারী মাতার
দুধ করেছি পান
তাই তো গায়ে সয় না কোন
নারীর অপমান।
নারী আমার স্ত্রী কন্যা বোন
মা জননী তাই
কোমর বেঁধে নারীর পক্ষে
যুদ্ধ করে যাই।
যতদিন না পাবে তারা
পূর্ণ অধিকার
ততদিন না থামবে কলম
লিখবে ক্ষুরধার।
20
স্বামীর কর্তব্য
ফেরদৌস আহমেদ
বৈশাখ মাসে পরল যখন, বোর কাটার ধুম
কাজের চাপে বাবার চোখে, নেই যেন আর ঘুম।
কঠিন রোগে ভর করল, বাবার গায়ে এসে
ধান গুলো সব বানের জলে ,যাচ্ছে ভেসে ভেসে।
মা তখন ধারেনি কো ,লোক-লজ্জার ধার
নিজের কাঁধে নিয়ে নিল, বাবার কাজের ভার।
ঘোমটা খুলে আঁচলখানি, কোমর পরে বেঁধে
কাস্তে হাতে ধান কাটে আর ,বোঝা বহে কাঁধে।
হাসি মুখে স্বামীর তরে ,কেটে যাচ্ছে তাই
লোকের মুখে বাহবা সাবাস, খ্যাতির অন্ত নাই।
বাবা সেদিন ছোট মাছ ,আনল বাজার থেকে
তাড়াতাড়ি কাটতে হবে ,বলল মাকে ডেকে।
মায়ের গায়ে সেদিন ছিল, কাঠফাটানো জ্বর
কাটতে বসে দেখি মায়ে, কাঁপতেছে থর থর।
বাবা তখন মাছ কাটতে ,বসল মায়ের পাশে
পাড়াপড়শি দেখে সবাই ,খিলখিলিয়ে হাসে।
স্বামী হয়ে স্ত্রীর কাজে ,হাত দিয়েছে তাই
লোকের মুখে কানাঘোষা, নিন্দার অন্ত নাই।
পুরুষরা আজ বউয়ের গোলাম, এল কলির কাল
নিন্দা করে কয় মুরুব্বী ,শুকুর আলী লাল।
কেউ বাবারে বউ পাগল কয় ,কেউ বা বউয়ের দাস
মিটিমিটি হেসে করে ,কেউ বা উপহাস।
কলঙ্কিত উল্টো নীতি ,চলছে সমাজ জুড়ে
স্ত্রীর প্রেমে স্বামীর মুখে ,চুনকালি যায় পরে।
স্ত্রীর প্রতি সদয় হলে, পুরুষরা পায় লাজ
কেন ?কেন? ওহে সমাজ, জবাব দেবে আজ।
উল্টো নিয়ম ভাঙতে বউয়ের ,পা দেব আজ টিপে
চুপ হে সমাজ !কথা বললে ,গলা ধরব চেপে।
শোনোনি কি মহামানব ,বিশ্ব নবীর কথা!
কেমন ছিল স্ত্রীদের প্রতি ,উনার উদারতা।
হযরত উনার প্রাণের স্ত্রীদের, উটে তুলে দিতে
ভালোবেসে হাসিমুখে ,উরু দিতেন পেতে।
নবীর গায়ে চরণ রেখে, স্ত্রী উঠত উটে,
তাতে উনার শান শওকত, কমেনি তো মোটে।।
এই সমাজের স্বামিরা সব, তুলসী পাতায় ধুঁয়া
ভূলে বউয়ের পা লাগলেও ,স্বামিত্ব যায় খোয়া।
স্বামী-স্ত্রী তো পরম বন্ধু ,দুই দেহে এক প্রাণ
হালাল মধুর প্রেমের মাঝে ,কিসের ব্যবধান।
আজও অনেক স্বামিরা চায়,সাহায্য করতে স্ত্রীরে
ইচ্ছে থাকলেও সাহস পায়না ,সমাজ নিন্দার ডরে।
বউয়ের অসুখ !সবার সামনেই ,রান্না করব আজ
সঠিক নিয়ম প্রতিষ্ঠা হোক, অনিয়ম পাক লাজ।
21
শৈশব স্মৃতি
ফেরদৌস আহমেদ
কইরে আমার ছোট্ট বেলার
হারিয়ে যাওয়া সুখ,
আয়রে তোরে জড়িয়ে ধরে
ঠান্ডা করি বুক।
কইরে আমার রঙিন সুতা
কাটের নাটাই কই!
কইরে ঘুড়ি আয়রে তোদের
একটু হাতে লই।
ছোট্ট বেলার সাধের লাটিম
কোথায় গেলি বল!
আয়রে কাছে দে মুছে দে
স্মৃতির নোনাজল।
পুতুল খেলার সঙ্গীরা সব
কোথায় গেলি ভাই!
চড়ুইভাতি রান্না করে
আয়রে সবাই খাই।
কোথায় আমার ঝড়ের দিনের
কুড়িয়ে খাওয়া আম
আয়না তোদের একটু কুড়াই
বৃষ্টিরা কই নাম।
কোথায় আমার বাঁশের ধনুক
পাটের শোলার তীর,
আয়রে তোদের একটু ছুড়ে
মনটা করি স্থির।
আমার শখের ছাগল ছানা
সুন্দরী তুই কই,
আয়রে তোরে চরাই মাঠে
একটু রাখাল হই।
কাঁঠাল খেজুর সিমের বিচি
কোথায় তোরা গেলি
আয়না কাছে তোদের দিয়ে
জোড় না বেজোড় খেলি।
কোথায় আমার খড়কুটাতে
পুটলি বাঁধা বল
আয়রে তোরে একটু খেলি
চলরে মাঠে চল।
ছোট্ট বেলার বড়শি সুতা
কোথায় গেলি ভাই
চল না স্মৃতির পানান বিলে
মাছ ধরিতে যাই।
কোথায় আমার ছোট্ট সোনা
ময়না পাখির ছা
ফড়িং ধরতে আয় না রে যাই
দুরের কোন গাঁ।
কইরে আমার আমন ক্ষেতের
পোকায় কাটা ধান
আয়রে তোরে আঁচল ভরে
কুড়িয়ে জুরাই প্রাণ।
তিন বেয়ারিং এর কাঠের গাড়ি
কোথায় গেলি তুই
আয়না তোরে একটুখানি
হৃদয় দিয়ে ছুঁই।
ছোট্ট বেলার নাটাই ঘুড়ি
লাটিম পুতুল বল
দেখনা চেয়ে কেমনে আমার
ঝরছে আঁখি জল।
যেদিন তোদের ছেড়ে এলাম
শূন্য করে বুক
সেদিন থেকে আর কোনদিন
শুকায়নি দুই চোখ।
উঠতে কাঁদি বসতে কাঁদি
কাঁদছি অনর্গল
তোদের মত আসে না কেউ
মুছতে আঁখি জল।
এ সংসারের সবাই পাষাণ
পাষান এ সংসার
এদের দহন এদের পিড়ন
সয়না প্রাণে আর।
ছোট্ট বেলার দিনগুলি মোর
ধরছি তোদের পা
আবার তোরা তোদের কাছে
আমায় নিয়ে যা।
ছেড়ে দে সেই নাটাই ঘুড়ি
বল পুতুলের ভিড়ে
বাকি জীবন থাকব সেথায়
আসব না আর ফিরে।

22

জীবনের ঋণ
ফেরদৌস আহমদ।
আমি ঋণী, চিরদিন আমি তার কাছে ঋণী,
জীবনের এই দুর্গম পথের সঙ্গী হয়েছে যিনি।
মাঝপথে এসে খুলে দেখি আজ জীবনের অভিধান,
লিখা আছে তাতে আমার সকল তাহারি প্রেমের দান।
তার দুটি ঠোঁটে ফুটিয়াছে যত হাসির পুষ্প তরু
ফুটিয়াছে সব ফুল পল্লবে রাঙাতে আমার মরু।
আমার সুখের খেদমতে সদা রেখেছে তাহার সুখ
আমার চোখের অশ্রু ঠেকাতে কেঁদেছে তাহার চোখ।
জীবনের ঝড়ে জীবন তরুণী যতবার গেছে হেলে
দুঃসাহসীনি সাগরে নামিয়া দুহাতে ধরেছে ঠেলে।
অজস্রবার ডুবতে বসেছি ঝড়ের কবলে পড়ে
ডুবতে পারিনি ,কঠিন হস্তে রেখেছে সে হাল ধরে।
মাঝ দরিয়ায় উঠিয়াছে ঝড় দুর্গম কালো রাত
উঠে যত ঢেউ তত জোরে সেও ধরিয়া রেখেছে হাত।
আমারে রাঙ্গাতে কখন ও সে হাতে নিয়েছে ফুলের তোড়া
আমারে বাঁচাতে সে হাতে আবার নিয়েছে বিষের ছোড়া।
আমি ঋণী ,আজন্মকাল আমি তার কাছে ঋণী
সস্তা কাঁচের চুড়ি ও সে হাতে পরাতে পারিনি কিনি।
এই কবিতা লেখার পর আমার কাছে মনে হল, চেষ্টা করলে আমিও প্রেমের কবিতা লিখতে পারব।
আসলে আমি কখনো প্রেমের কবিতা লেখার চেষ্টা করি না।
এর কারণ হল, ধরুন আপনি একজন সাপুড়িয়া বা জাদুকর।
আপনি খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে সাপের খেলা অথবা জাদু দেখাচ্ছেন।
আর অসংখ্য মানুষ দেখছে।
হঠাৎ আপনার চোখে পড়ল একটি বাচ্চা পুকুরের পানিতে পড়ে গেছে এবং ডুবে মারা যাচ্ছে।
এখন আপনি বাচ্চাটিকে বাঁচাতে গেলে আপনার দর্শকের মন খারাপ হয়ে যাবে ,আর না গেলে বাচ্চাটি ডুবে মারা যাবে।
এখন আপনি কি করবেন?
আপনি বিবেকবান মানুষ হলে অবশ্যই বাচ্চাটিকে বাঁচাবেন।
আমি জানি আমি প্রেমের কবিতা লিখলে অনেক মানুষ পড়বে, কিন্তু আমি দেখছি নানারকম অন্যায় অবিচারে আমাদের সমাজটা প্রতিদিন একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে।
সমাজকে এই অবস্থায় রেখে মানুষের বাহবা সাবাস পাওয়ার জন্য প্রেমের কবিতা লিখতে আমার বিবেক বাঁধা দেয়।
তাই আমার দ্বারা প্রেমের কবিতা লিখা হয় না।
কিন্তু একটা জিনিস সত্য ,আমি যে কোন সময় মরে যেতে পারি।
কিন্তু যে মহামানবির স্নেহ মায়া
প্রেম ভালবাসার উপর ভর করে
জীবনের বেশিরভাগ পথ পাড়ি
দিয়ে শেষ প্রান্তে চলে এলাম, মৃত্যুর আগে তার জন্য কিছু না লিখলে এটা তার ওপর অন্যায় করা হবে।
আমার মৃত্যুর পর তিনি যদি বেঁচে থাকেন ,আর বিষয়টি উপলব্ধি করেন তাহলে খুব কষ্ট পাবেন।
তাছাড়া আমার কাছেও মনে হয় উনার জন্য কিছু না লিখলে আমার লেখালেখিটা পূর্ণ হবে না।
তাই আমার প্রাণপ্রিয় মহারানীকে নিয়ে একটু লেখার চেষ্টা করলাম।
উনি আসলে খুব ভালো মানুষ, ওনার সহযোগিতা না পেলে আমার লেখালেখি অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যেত।
আমার ঘরে আসার পর আমি ওনাকে দুঃখ কষ্ট ছাড়া আর কিছুই দিতে পারিনি।
এত দুঃখ কষ্ট দেয়ার পরে ও উনি আমাকে ছেড়ে যায়নি, বরং কোন আবদার অভিযোগ ছাড়াই আমার মত অধমের পাশে পড়ে আছেন, এটা আমার পরম সৌভাগ্য।
সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন উনাকে দুনিয়া ও আখেরাত দুই জগতেই ভালো রাখেন।
23
ছায়া
ফেরদৌস আহমেদ
ছল ছল জল
নেই কোলাহল
শান্ত সাগর ফাঁকা
আমার তরণী ভাসিয়ে দেখি
এ মহাসাগর
বালির উপর
রাতের শিশিরে আঁকা।
সাগরের জলে
বাঁকা ঢেউ তুলে
বইছে শীতল হাওয়া
সেই শুভ ক্ষনে
হলো তার সনে
চারি চক্ষুতে চাওয়া
নয়নের টানে
আমার নয়নে
লাগিল যখন মায়া
আমার দু’হাত বাড়িয়ে দেখি,
সাগরের জলে
কল কল্লোলে
এ ছিল তাহার ছায়া।
24
আমার স্বর্গ
ফেরদৌস আহমেদ
বড় আজব সংসার আমার গরু-ছাগল নিয়া
হাঁস-মুরগি কুকুর-বেড়াল পোষা ময়না টিয়া।
ঝিঙ্গে ফুল আর লাউয়ের ডগা পুঁই আতা জলপাই,
এরাও কিন্তু এ সংসারের অংশবিশেষ ভাই।
ছায়ায় ঢাকা মায়ার এ ঘর দেখতে যদি ভাই,
তোমার কাছে তাজমহলটা মনে হতো ছাই!
এখানে স্নেহ মায়া ভালোবাসার রঙ্গের ছড়াছড়ি ,
বিড়াল ছানা ঘুমায় অবুঝ শিশুর গলা ধরি।
খুকুমণি কাঁদে যখন পুতুল ভেঙে গেলে
পোষা বেড়াল দৌড়ে এসে কি জানি কি বলে।
বল যেন লেজ বুলিয়ে খুকুমনির গায়
কিনে দেব “কাঁদিসনারে” আয়রে কোলে আয়।
কুকুরটাকে মারল সেদিন কে বা কারা জানি,
ঘর গৃহিণী শোকে সেদিন খায়নি দানাপানি।
ওই তো সেদিন দেনার দায়ে গাভী বিক্রি করে
কান্দে সবাই দুদিন যাবত রান্না হয়নি ঘরে।
খেয়াল করেছি ,কর্তি যে দিন বাপের বাড়ি যায় ,
“কি মহব্বত”গরু-ছাগল ঘাস পানি না খায়!
গঞ্জ থেকে ফিরতে অনেক রাত্রি হয়ে যায়
ঘুমিয়ে পড়ে ছেলে মেয়ে বোন বধু ও মায়।
আমার দুধের গাইটা থাকে পথের পানে চেয়ে
অশ্রু তাহার পড়তে তাকে শান্ত দু চোখ বেয়ে।
আমার পায়ের আওয়াজ শুনে মাতিয়ে তুলে বাড়ি
হাম্বা সুরে কি যে বলে বুঝতে নাহি পারি!
হয়তো বলে মায়ের মত শাসন করার ছলে,
এত রাত্রি করলে কেন ওরে পাগল ছেলে!
বাবার আদর মায়ের সোহাগ তাদের কাছে পাই
এমন মধুর মায়া পেলে আর কি বল চাই?
রাজপ্রাসাদে শুধুই মিলে পোড়া মাটির গন্ধ,
আমার ঘরে বসত করে মুক্ত জীবনানন্দ।
আমার বাড়ির গরু ছাগল কুকুর বিড়াল যত
আমি তাদের ভালবাসি মা সন্তানের মত।
যখন যেমন কামাই করি সবাই মিলে খাই
আমার ঘরে ভাতের অভাব সুখের অভাব নাই।
আমার ঘরের সুখের কাছে তুচ্ছ বালাখানা
রঙিন প্রাসাদ বাড়ি গাড়ি তুচ্ছ ষোল আনা।
সুখের কানায় কানায় ভরা আমার এ সংসার,
দেখতে এসো ইচ্ছে হলে স্বর্গ দেখিবার।
25
কাঁদিসনে বোন
ফেরদৌস আহমেদ
কাঁদিসনে বোন, আমি আছি তোর পাশে ।
দেখিস আমি একদিন তোর সব দুঃখ দুর্দশা দূর করে দেব।
আমি তোর জন্য একটি কবিতা লিখব, খুব বড় হবে সে কবিতা।
আমি তোর উপর হওয়া সকল অত্যাচারের কথা লিখে দেব, সে কবিতায়।
যৌতুকের জন্য তোর উপর যে অমানবিক অত্যাচার হয় ,আমি তা সব প্রকাশ করে দেব আমার লেখনীতে।
আমি নিশ্চিত সবাই আমার এই কবিতাটা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়বে, তার পর নারী-পুরুষ সবাই মিলে তোর মুক্তির জন্য লড়াই করবে তোর পক্ষে।
তুই দেখিস আমার এই কবিতা পড়ে খুব তাড়াতাড়ি মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে, সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের জন্য তোর শ্বশুর বাড়ির লোকেরা তোর উপর অত্যাচার করার সাহস পাবে না।
তুই স্কুলে যাওয়ার পথে দাঁড়িয়ে বখাটেরা যে তোকে উৎপাত করে সেটাও লিখে দিব কবিতায়, বখাটেদের ভয়ে তুই যে ভেতরে ভেতরে কাদিস আমি সেটাও প্রকাশ করে দেব।
তুই দেখিস এই কবিতাটা মানুষের মুখে মুখে রটে যাবে,
রাস্তার আইসক্রিমওয়ালার মাইকে বাজবে এই কবিতা, গ্রামের ছোট ছোট টং দোকানের হালখাতা অনুষ্ঠানে পল্লী গান না বাজিয়ে এই কবিতা বাজাবে মানুষ। বাজাতেই হবে এই কবিতাটা যে আমার বোনের জন্য লেখা।
তোর জন্য লেখা এই কবিতা পড়ে সাধারণ মানুষের অন্তর্দৃষ্টি খুলে যাবে ,এতদিন যারা তোকে নারী হিসেবে চিনত, এই কবিতা পড়ে তারা তোকে মানুষ হিসেবে চিনবে।
তুই খুব তাড়াতাড়ি নিশ্চিন্তে স্কুলে যেতে পারবি, বখাটেরা তোকে বিরক্ত করতে চাইলে রাস্তা ঝাড়ুদার ও ঝাড়ু নিয়ে তাদের তাড়া করবে।
তোর সহোদর ভাই ও যে তোর উপর গোপনে নির্যাতন করে আমি সেটাও লিখে দেব কবিতায়।
বাবার রেখে যাওয়া জমির ভাগ চাইতে গেলে তোর সহোদর ভাই যে না দেয়ার তালবাহানা করে আমি সেটাও লিখে দেব।
তুই দেখিস, জ্ঞানী মানুষেরা এই কবিতাটা এত বেশি পছন্দ করবে যে ,তারা এটি স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়ে লিখে দেবে।
মাস্টার মশাই ক্লাস ফাইভ এর ছাত্রদের কে এই কবিতাটা পড়িয়ে বোঝাবে যে, প্রত্যেক বোনের সম্পদ যথাযথভাবে তার হাতে পৌঁছে দেয়া প্রতিটা ভাইয়ের কর্তব্য।
তখন আর তোকে বাবার সম্পদ পাওয়ার জন্য আদালতে মামলা করে পরে থাকতে হবে না।
এই কবিতা পড়ে গ্রামের চাষাভূষা রাও সত্য উপলব্ধি করতে পারবে,তখন তারাই গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে তোর সম্পদ তোকে বুঝিয়ে দেবে।
আমি তোর বাবা-মাকেও ছাড় দেব না ,তাদের কুকর্মের কথা ও লিখে দেব এই কবিতায়।
তুই মেয়ে হয়ে জন্ম নেয়ার জন্য তোর বাবা যে রাগ হয়ে তোর মাকে তালাক দিতে চেয়েছিল ,মারদুর করেছিল, আমি সব প্রকাশ করে দেব।
বোনের জন্যে ভাইয়ের ভালবাসা কখনো বিফলে যায় না ,তুই দেখিস কবিতাটা প্রত্যেক মানুষের কানে পৌঁছে যাবে।
এই কবিতাটা পড়ে সবাই বুঝতে পারবে যে কোন মেয়ে মানুষ নিজের ইচ্ছায় মেয়ে হয়ে জন্ম নেয় না ,এটা আল্লাহর তরফ থেকে সিদ্ধান্ত হয়ে আসে।
মেয়ে সন্তান জন্ম নিলে যদি কোন বাবা-মা রাগ হয় ,তাহলে সমাজের সবাই তার মুখে থুথু দেওয়া শুরু করবে।।
আমার এই কবিতা বিফলে যাবে না ,একটু দেরি হলেও সব ঠিকঠাক করে দেবে ইনশাআল্লাহ।
তুই কাদিসনে ,একটু সময় ধৈর্য ধর ,আর বারবার আমার এই কবিতাটা পড়তে থাক ,আমি আশাবাদী তোর ভারাক্রান্ত মনটা কিছুটা হলেও হালকা হবে।
26
মনের মুখোশ
ফেরদৌস আহমেদ
বিমর্ষ বিষাদের কষাঘাতে ম্লান,
হাহাকার ভয়ে ভরা ক্ষুধাতুর প্রাণ।
উকুন আঠালি খেয়ে যায় মাথা খানি,
তেল নেই ঘা হয়ে পড়ে পুঁজ পানি।
উদাসীন দুই চোখে চাও তুমি যদি ,
মনে হবে যেন এক খরস্রোতা নদী!
ঠোঁট দেখে মনে হয় চৈত্রের মাটি,
রসহিন খরদাহে গেছে যেন ফাটি!
শুষ্ক মলিন মুখে শত অনুতাপ,
হৃদয়ের ঝড় তোলা বেদনার চাপ।
গলায় কণ্ঠনালীর ওঠানামা দেখে ,
বোঝা যায় শত তৃষা জমে আছে বুকে।
বসনের জোড়াতালি ময়লার জট ,
কাপড়ের পরিচয়ে আসলে সে চট।
নিথর হস্ত পায়ে জোর বল নাই
বাঁধা নেই মশা মাছি খেয়ে যায় তাই।
অসহায় মায়েদের এই পরিচয়়
দিতে গিয়ে লাজ লাগে না দিলেও নয়!
তাহাদের ঘরবাড়ি কোন কিছু নাই,
বাংলার পথে পথে পড়ে আছে তাই।
ছেলে মেয়ে কোথা আছে নাই কোনো খোঁজ,
উহারা পশুর মত ইতর অবুঝ।
পশুরা পশুর কাজে সভ্যরা কই
আমরা ক জন তাদের বুকে টেনে লই?
ক জনে আমরা তাদের স্নেহ মায়া করে,
ভালোবেসে নিয়ে যাই নিজেদের ঘরে?
সবাই তাদের নিয়ে নানা কথা কই,
ভালোবেসে কাছে নিতে কেউ রাজি নই।
তাদের পক্ষে কেহ করে না কো কাজ,
এটা কে বলছি আবার সভ্য সমাজ।
আসলে সভ্যতা মোদের মনের মুখোশ
আড়ালে আমরা সবাই বেভূল বেহুঁশ।

সংক্ষিপ্ত পরিচয়:

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের কোট্টাগর নামক গ্রামে আমি থাকি।।১৯৯৯ সালে এসএসসি পাস করার পর আর লেখাপড়া হয়নি।পেশায় আমি একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা,বাড়ির পাশের রামপুর নামক বাজারে কখনো ঝালমুড়ি কখনো পুরি সিঙ্গারা বিক্রি করে জীবিকা চালাই।

আমার বাবা বেঁচে নেই মা আছেন। আমরা চার ভাই দুই বোন সবাই বিবাহ করে আলাদা আলাদা।ছোটবেলা থেকেই আমি লেখালেখির সাথে জড়িত, প্রকাশের কোন মাধ্যম না থাকায় যখন মন চাইতো লিখতাম আবার ছিড়ে ফেলে দিতাম।দু-তিন বছর আগে মোবাইল কিনার পর ফেসবুকে লেখালেখি শুরু করি।এর মধ্য পরিচিত হই লন্ডন প্রবাসী মরিয়ম চৌধুরী নামের একজন উধার মনের বোনের সাথে।কিছুদিন পর আমার মোবাইলটা নষ্ট হয়ে গেলে উনি আমাকে একটা মোবাইল উপহার দেন।পাশাপাশি আদর স্নেহ ভালবাসা উৎসাহ অনুপ্রেরণা দিয়ে লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ করেন।

ওনার সাথে পরিচিত হওয়ার পর থেকে উনি নানা দিক থেকে আমাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে আসছেন।আমার লেখার প্রচার প্রসারের জন্য উনি কোন চেষ্টাই বাকি রাখেন নি।উনি আমার বোন হলেও আমার লেখালেখির ব্যাপারে উনার দেখাশোনার দায়িত্বটা মায়ের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।উনার মাধ্যমে ইতিমধ্যে আমার একটি যৌথ বই ও প্রকাশ হয়েছে।

সবাই আমার এই বোনটির জন্য দোয়া করবেন।উনার মাধ্যমে ফেসবুকে পরিচিত হলে পাঠকের খুব ভালো সাড়া পাই এবং সবার অনুরোধে একটি বই প্রকাশ করার চেষ্টা করি।কিন্তু নানাবিদ সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত আর করা হয়ে ওঠেনি।আল্লাহ চাহে তো আগামী বইমেলায় হবে ইনশাআল্লাহ।সবাই দোয়া করবেন আমার জন্য।

ফেরদৌস আহমেদের কয়েকটি কবিতা গুচ্ছ

নিজের কর্মস্থলে তোলা আমার ছবি।

এটি তিন চার বছর আগের এখন অবশ্য শারীরিক কিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Translate »