বুকের দুধ খাওয়ানোর নিয়ম-Breastfeeding Mother দুধ খাওয়ানো বিষয়ে ১৪টি ভুল ধারণার অবসান

  • শিশুকে একই বিছানায় রাখতে হবে।
  • কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার আগে কিছুক্ষণ শিশুকে দুধ দিতে হবে। এরপর পাম্পের সাহায্যে বের করে রেখে যেতে হবে। এই দুধ সাধারণত ঘরের তাপমাত্রায় ৬ ঘণ্টা ও হিমায়িত অবস্থায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকে। হিমায়িত দুধ একটি পাত্রে গরম পানির ওপর রেখে তাপমাত্রা কিছুটা স্বাভাবিক করে শিশুকে খাওয়াতে হবে। বুকের দুধ কোনোভাবেই জ্বাল দেওয়া বা ফোটানো যাবে না।

বুকের দুধের উপকারিতা

মায়ের দুধ শিশুকে বদহজম ও অন্ত্রের সমস্যা থেকে রক্ষা করে। এই দুধ তাড়াতাড়ি হজম হয় এবং এতে কৌষ্ঠকাঠিন্য হয় না।

  • শিশুর নাক, গলার ঝিল্লির ওপর আস্তরণ তৈরি করে, যা হাঁপানি ও কানের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
  • সমীক্ষায় দেখা গেছে, যে শিশুরা জন্ম থেকে মায়ের দুধ খায়, ভবিষ্যতে তাদের মোটা হওয়ার সম্ভাবনা কম।
  • শৈশবে লিউকেমিয়া হওয়া থেকে মায়ের দুধ রক্ষা করে। পরিণত বয়সে ডায়াবেটিস টাইপ-১ ও উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কাও কম থাকে।
  • মায়ের দুধে শিশুর বুদ্ধি বাড়ে। এতে এমন সব ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা শিশুর মগজের বৃদ্ধি ঘটাতে সহায়তা করে।
  • শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে পরবর্তী সময়ে মায়ের স্তনে ও ডিম্বাশয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে।
  • বুকের দুধ খেলে শিশুর ডায়রিয়া হয় না বললেই চলে।

শিশুর জন্মের ১ ঘন্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ানো

Health Benefits of Ginger Water: কেন বলা হয় আদা-জল খেয়ে কাজে লাগতে? জানেন কি, এর কত গুণ

শিশুকে ৬ মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো

১. ভুল ধারণা? শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ।

মায়ের বুক খুঁজে নেওয়ার প্রবৃত্তি নিয়েই শিশুরা জন্মায়। যাইহোক, অনেক মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য তাদের শিশুর অবস্থান নির্ধারণের এবং তাদের শিশুটি সঠিকভাবে স্তনের সাথে যুক্ত আছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর সহায়তা প্রয়োজন। শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য সময় লাগে এবং এর জন্য মা ও শিশু দু’জনেরই অনুশীলন দরকার হয়। শিশুর যখনই ক্ষুধা লাগে তখনই তাকে বুকের দুধ খাওয়াতে হয়। সে কারণে বাড়ি ও কাজের উভয় জায়গাতেই সন্তানকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা ও সহযোগিতার প্রয়োজন হয়।

২. ভুল ধারণা? বুকের দুধ খাওয়াতে গেলে আঘাত লাগবেই – স্তনের বোঁটা ক্ষত হওয়া অবশ্যম্ভাবী।

অনেক মা-ই সন্তান জন্মদানের পর প্রথম কিছুদিন দুধ খাওয়ানোর সময় অস্বস্তি বোধ করেন। শিশুকে সঠিক অবস্থানে রেখে এবং ঠিকমতো স্তনের সাথে যুক্ত রেখে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো গেলে, স্তনের বোঁটার ক্ষত হওয়া বা ফুলে যাওয়া এড়ানো যায়। কোনো মা এ ধরনের সমস্যায় পড়লে স্তনদান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বা দক্ষ পেশাজীবীর পরামর্শ নিয়ে তা কাটিয়ে উঠতে পারেন।

স্বামীকে বশে রাখার পরামর্শ দেয়াই তার পেশা শুনতে একটু অদ্ভূত মনে হলেও এমনই এক পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বাসিন্দা মার্গারিটা।

৩. ভুল ধারণা? শিশুকে দুধ খাওয়ানোর আগে স্তনের বোঁটা ধুয়ে নিতে হবে।

শিশুকে বুধের দুধ খাওয়ানোর আগে স্তনের বোঁটা ধুয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। শিশুরা জন্মের পর থেকেই তার মায়ের শরীরের গন্ধ ও কন্ঠস্বরের সাথে পরিচিত হয়ে যায়। তাছাড়া স্তনের বোঁটায় কিছু পদার্থ তৈরি হয় যার ঘ্রাণ শিশুরা পায় এবং তাতে এক ধরনের ভালো ব্যাকটেরিয়াও থাকে। এগুলো শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।

Leave a Reply Cancel reply