মাথার সামনের চুল কমে যাচ্ছে? ৪টি উপায়েই হোক সমাধান

তোমার কালো চুলের অন্ধকারে সন্ধ্যা নামে, রাতের স্নিগ্ধ তাঁরা আরও স্নিগ্ধ হয় তোমার স্নিগ্ধতায়……… ”। ঘন, কালো, ঝলমলে চুল কে না চায়!

প্রতিদিন নিয়ম করে চুল ধোঁয়া, কন্ডিশনার লাগানো, তেল দিয়ে ম্যাসাজ করা সবই তো করছি, কিন্তু মাথার সামনের চুল কমে যাচ্ছে কেন?

দারুণ উপকারী ক্যাস্টর অয়েল ক্যাস্টর অয়েলের নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন? নতুন চুল গজাতে সত্যি এর থেকে ভালো উপাদান বোধহয় আর কিছু হয় না। সেই জন্য যাদের ভুরু খুব কম থাকে, তাদের ক্যাস্টর অয়েল লাগাতে বলা হয় যাতে ভুরু মোটা হয়। এতে থাকা রিসিনলেইক নামক এক উপাদানই নতুন চুল গজাতে এতো সহায়ক। কিভাবে লাগাবেন দেখে নিন।

উপকরণ: ১ থেকে ২চামচ ক্যাস্টর অয়েল ২ থেকে ৩টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল পদ্ধতি: ক্যাস্টর অয়েলের সাথে ভিটামিন ই ক্যাপসুলের ভেতর যে তেল থাকে সেটা মেশান।এরপর জাস্ট ক্যাস্টর অয়েল ভালো করে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করতে হবে। সারারাত একে রেখে দিন। পরদিন সকালে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এক্ষেত্রে কোনো মাইলড শ্যাম্পুই ভালো বা যদি ভিটামিন ই ক্যাপসুল নাও পান তাহলেও অসুবিধা নেই। শুধু ক্যাস্টর অয়েল ভালো করে ম্যাসাজ করে নিন।

সপ্তাহে দুদিন করুন।খুব তাড়াতাড়ি ভালো ফল পাবেন। তবে পর পর দুদিন নয়। কারণ এই তেল খুব ঘন।মাঝে তিন চারদিন ছেড়ে মাখুন। আর সপ্তাহে দুদিন মাখার সময় না থাকলে, শুধু ছুটির দিনটিই মেখে নিন।একমাসের মধ্যেই মাথায় নতুন চুল চোখে পড়বে। নিয়মিত পেঁয়াজের রস পেঁয়াজে আছে প্রচুর সালফার যা নতুন চুল গজাতে দারুণ উপকারী। তাই পেঁয়াজ সত্যি অনবদ্য নতুন চুল গজাতে।

উপকরণ: ১টা পেঁয়াজ পদ্ধতি: একটা পেঁয়াজ নিয়ে একটু ব্লেণ্ড করে নিন। এরপর এটা থেকে চিপে রস বার করে নিন।এই রস স্ক্যাল্পে হালকা একটু ম্যাসাজ করে লাগান। দুঘণ্টা রেখে দিন। সব থেকে ভালো আগেরদিন রাতে লাগিয়ে সারারাত রেখে দিলে। তারপর পরের দিন শ্যাম্পু করে ফেলুন বা একটু পেঁয়াজ কেটে সেটাও স্ক্যাল্পে ঘষতে পারেন। এটা সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন করুন।

একমাস পর দেখবেন ছোট ছোট চুল গজিয়েছে মাথায়। অনবদ্য রসুন: কি ভাবছেন পেঁয়াজ রসুন দিয়ে চুল গজাব? আজ্ঞে হ্যাঁ পেঁয়াজ রসুন এতটাই ভালো কাজ করে। কারণ একটাই এতে থাকা প্রচুর পরিমানে সালফার। উপকরণ: ৪ থেকে ৫ কোয়া রসুন ১ থেকে ২চামচ নারকেল তেল পদ্ধতি: রসুন প্রথমে ব্লেণ্ড করে নিন। এরপর এটা থেকে রস বার করে নিন।

এবার এই রসের সাথে নারকেল তেল মিশিয়ে গরম করুন। এই গরম তেলটা স্ক্যাল্পে ভালো করে ম্যাসাজ করুন বা আরও ভালো হবে এই তেলের সাথে যদি কাঁচা রসুনের রস ১চামচ মিশিয়ে নিতে পারেন তাহলে আরও ভালো কাজ হবে। এই তেল রাতে ভালো করে সমস্ত স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করে লাগান। সারারাত রেখে পরেরদিন শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে দুদিন করে করুন। ব্যাস তাতেই কাজ হবে। সপ্তাহে একদিন আলুর হেয়ার প্যাক

আমরা অনেকেই কিন্তু এই অভিযোগটা করি! সামনের অংশের কম চুলের জন্য হেয়ার স্টাইলিং করতে অসুবিধা হয়, আবার নিজের কনফিডেন্সটাও কোথায় যেন একটু কমে যায়। হেয়ারফল সল্যুশনের প্রোডাক্ট ব্যবহার করেও মন মতো ফলাফল না পেয়ে হতাশ, এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। শুধুমাত্র মেয়েরাই না, ছেলেরাও এই ধরনের সমস্যা ফেইস করে। নাম না জানা হারবাল প্রোডাক্টের মন ভুলানো বিজ্ঞাপন দেখে এটা সেটা কিনে টাকা নষ্ট না করে সঠিক সমাধান খুঁজুন। আপনার হাতের কাছেই আছে এমন কিছু উপকরণ যেগুলো নিয়মিত ব্যবহার করলে মাত্র একমাসেই পেতে পারেন সমাধান। চলুন জেনে নেই, মাথার সামনের চুল গজাতে কী কী ব্যবহার করতে হবে। মাথার সামনের চুল গজানোর উপায় চুল পড়তে আরম্ভ করলে টেনশন শুরু হয়, আর তাতে আরও বেশি চুল ঝরতে থাকে।

সামনের দিকে চুল কমতে থাকলে এটা আগে আমাদের চোখে পরে। চুল কেন পড়ছে কারণটা খুঁজে বের করতে পারলে সমাধানে আসতে সময় কম লাগবে। হরমোনের প্রবলেম, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, অতিরিক্ত স্ট্রেস এগুলোর জন্য চুল পড়ার হার বেড়ে যেতে পারে। এসব দিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি একটু যত্ন নিলেই কিন্তু নতুন চুল গজানোর জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। চলুন তাহলে সমাধানগুলো জেনে নেই। ১) মাথার সামনের চুল গজাতে তিন অয়েলের ম্যাসাজ

 

নতুন চুল গজাতে ক্যাস্টর অয়েল, ভিটামিন ই ক্যাপসুল, খাঁটি নারিকেল তেলের মিশ্রণের থেকে ভালো কিছু বোধহয় আর হয় না। মিনারেলস, প্রোটিন, অ্যাসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যুক্ত ক্যাস্টর অয়েল নতুন চুলের বৃদ্ধিকে তরান্বিত করে এবং ভিটামিন ই হেয়ার ফলিকলে পুষ্টি যোগায়।বিশুদ্ধ নারিকেল তেল যুগ যুগ ধরে চুলের যত্নে ব্যবহার হয়ে আসছে, এটা চুলের গোঁড়ায় হাইড্রেশন ধরে রাখে, ও ইমিউনিটি ঠিক রাখে। ভিটামিন ই, নারিকেল তেল ও ক্যাস্টর অয়েল একসাথে মিশিয়ে ভালো করে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করতে হবে। সারারাত রেখে দিয়ে সকালে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ বার করে কন্টিনিউ করুন, ১ মাস পরেই পরিবর্তনটা আপনার চোখে পড়বে। ২) পেঁয়াজের রস ও অ্যালোভেরা জেল মাথার সামনের চুল গজাতে পেঁয়াজের রস ও অ্যালোভেরা জেল – shajgoj.com পেঁয়াজের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং সালফার চুলের ফলিকলের পুষ্টি বাড়ায়। পেঁয়াজের রস স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালনও বাড়িয়ে দেয়। অ্যালোভেরার গ্লাইকোপ্রোটিন চুলের রিগ্রোথে সাহায্য করে। পেঁয়াজের রস ও অ্যালোভেরা জেল চুলের গোঁড়ায় মানে যেখানে চুল পরে ফাঁকা হয়ে গেছে, সেখানে লাগিয়ে দু’ঘণ্টা রেখে দিন এবং পরে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩বার করলে উপকার পাবেন। ৩) অলিভ অয়েল ও রসুনের রস চুল গজাতে অলিভ অয়েল ও রসুনের রস – shajgoj.com রসুনের সালফার হেয়ার ফলিকলকে উদ্দীপিত করে। অলিভ অয়েলের সাথে এক কোয়া রসুন থেঁতো করে হালকা গরম করে নিন। হট অয়েল ম্যাসাজে চুলের গোঁড়া মজবুত হয় ও নতুন চুল গজায়। সপ্তাহে ২ দিন করে লাগাতে হবে। মনে রাখবেন তেল লাগানোর সময় নখ যাতে স্ক্যাল্পে না লাগে, আঙুলের সাহায্যে আলতোভাবে ম্যাসাজ করবেন। অলিভ অয়েলের মানের ব্যাপারে কখনও সমঝোতা করবেন না, এক্সট্রা ভার্জিন অয়েল বেছে নিন।

৪) আলু, ডিম, মধু ও লেবুর প্যাক চুল গজাতে আলু, ডিম, মধু ও লেবুর প্যাক

আলুর রস, ডিমের কুসুম, মধু ও লেবু চুলে দারুণ কাজ করে। চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন বি, সি ও ই-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। ভিটামিন সি স্ক্যাল্পে জমে থাকা ডেড সেল সরিয়ে চুলের ফলিকলের মুখ ওপেন করে যাতে নতুন চুল গজাতে পারে। সেভাবে প্রতিটা ভিটামিনেরই এক একটা কাজ আছে। সপ্তাহে অন্তত একদিন এই প্যাকটি ব্যবহার করলে চুল পড়ার হার কমে নতুন চুল গজাবে।

এই প্যাকটি ১ ঘণ্টা মাথায় রেখে শ্যাম্পু করে ফেলবেন। আপনি চাইলে আপনার পছন্দমতো প্রোডাক্ট কিনতে পারেন অনলাইনে শপ.সাজগোজ.কম থেকে। আবার

আলু শুধু না খেয়ে, চুল গজানোর চিকিৎসায় কাজে লাগান।এতেও খুব ভালো কাজ হয়। উপকরণ: ২টা মাঝারি সাইজ আলু ১টা ডিম ১ চামচ মধু পদ্ধতি: আলু প্রথমে ব্লেণ্ড করে নিন।এরপর এটা থেকে রস বার করে নিন। এবার এই রসের সাথে, একটা ডিমের কুসুম ও মধু যোগ করুন।অল্প একটু জল দিন।

ভালো করে মেশান। এবার এই প্যাকটা স্ক্যাল্প সহ পুরো চুলে লাগান ভালো করে। আধঘণ্টা রেখে দিন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। মাইলড শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। এটা সপ্তাহে একবার করে টানা কয়েকমাস করুন। একটা একটা খুব ভালো ট্রিটমেন্ট নতুন চুল গজাতে। তাহলে এখন নতুন চুল গজানো নিয়ে আর চিন্তার কিছু নেই, কারণ নতুন চুল গজানো এখন আপনার হাতের মুঠোয়।

তাই যেভাবে বলা আছে, সেইভাবে সপ্তাহে একদিন প্যাক, আর বাকি দিনগুলো এক একদিন একটা একটা ট্রিটমেন্ট করুন। ব্যাস একমাসের মধ্যে চুল গজানো আর কে আটকায়!

Leave a Reply Cancel reply