শব্দ কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি?

 যে শব্দ দ্বারা বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সংখ্যা বোঝানো হয় তাকে বচন বলে। ইংরেজিতে নাম্বারই হল বাংলায় বচন। বচন দ্বারা কোন ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণী কিংবা অন্য কোন বিশেষ্যের সংখ্যা বোঝানো হয়।

বচন দুই প্রকার। যথা – একবচন ও বহুবচন।

#বচনকাকে বলে ও তার #প্রকারভেদ

‘বচন’ কথার সাধারণ অর্থ হলো কথা বা বাক্য |ব্যাকরণে বচন কথাটির অর্থ হলো ‘সংখ্যা ‘|সংখ্যায় এক বোঝালে একবচন আর একের বেশি বোঝালে বহুবচন হয় | বচন কাকে বলে ও তার প্রকারভেদ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা |

গরুটি চড়ছে |

রীতা বিদ্যালয়ে যায় |

ছেলেরা মাঠে খেলা করছে |

তিনটি শালিক ঝগড়া করে রান্নাঘরের চালে |

Read More: কারক কাকে বলে? কারক কয় প্রকার ও কী কী

উপরের বাক্যগুলিতে গরুটি, রীতা ও কলমটা এই পদগুলিতে একটি প্রাণী একজন ব্যক্তি এবং একটি বস্তুর কথা বলা হয়েছে | বলা হয়েছে আবার ছেলেরা ও তিনটি -এই পদগুলিতে একের বেশি প্রাণী ও ব্যক্তি কে বোঝানো হয়েছে |এই সংখ্যা বোঝানোর ব্যাপারটাই হচ্ছে বচনের বিষয়বস্তু | অর্থাৎ যেখানে ব্যক্তি, প্রাণী বা বস্তু সংখ্যা হবে এক সেখানে হবে একবচন ,আর যেখানে একের বেশি সংখ্যা হবে সেখানে বহুবচন |সুতরাং বচন কাকে বলে ? -বলতে গেলে বলতে হয় ,যার দ্বারা বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা জন্মায় তাকে বচন বলে |

বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার ,যেমন -একবচন ও বহুবচন | স্বাভাবিক একবচন ও বহুবচন বলতে কি বোঝায় ? আসলে শব্দের যে গুনের দ্বারা বিশেষ্য বা সর্বনামের একটিমাত্র সংখ্যা বোঝায় তাকে বলে একবচন |যেমন -লোকটি ,গাছটি ,পাখিটি ,একটি আম ,তিনি ,সে ,আমি ,বইখানি ইত্যাদি |আর শব্দের যে গুনের দ্বারা বিশেষ্য বা সর্বনামের একাধিক সংখ্যা বোঝাই তাকে বলে বহুবচন |যেমন -আমরা ,তোমরা ,ছেলেরা ,সকল শ্রমিক ,ছাত্রগণ ইত্যাদি |

একবচন –

সাধারণত মূল শব্দটি ব্যবহার করে একবচন বোঝানো যায় |যেমন -বালিকা ,ছাগল ,লাঠি ,আম ,ঘড়ি, ছাতা ,গরু ইত্যাদি |

পদের পূর্বে ‘এক’ বা ‘একটি ‘বসিয়ে একবচন বোঝানো হয় |যেমন -এক সপ্তাহ ,একমাস ,একবছর ,একযুগ ,একটাকা ,একটি ফুল ইত্যাদি |

বিশেষ্যপদের সাথে টি ,টা ,খানা ,খানি ,টুকু ইত্যাদি যোগ করে একবচন বোঝানো যায় |যেমন -ছেলেটি ,কলমটা ,ছাতাখানা ,মুখখানি ইত্যাদি |

পদের শেষে বিভক্তি যোগ করে একবচন বোঝানো যেতে পারে |যেমন -বাবার কলম ,গুরুর উপদেশ ,মায়ের আশীর্বাদ ইত্যাদি |

Read More:Articles- A, an এবং the কে Article বলে।

বহুবচন –
বিশেষ্য বা সর্বনামপদের সঙ্গে রা ,এরা ,দেড় , দিগের প্রভৃতি বহুবচনসূচক বর্ণগুচ্ছ যোগ করে একবচনকে বহুবচনে পরিণত করা যায় |যেমন -আমরা, তোমরা, ছাত্রের, আমাদিগের ইত্যাদি |

বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি ,গুলো ,দল ,রাশি ,মালা ইত্যাদি যোগ করে বহুবচনান্ত পদ গঠন করা যায় |যেমন -কলমগুলি ,আমগুলো ,ছাত্রদল ,অর্থরাশি ,পর্বতমালা ইত্যাদি |

পদের পূর্বে বহুত্ববাচক বিশেষণ বসিয়ে বহুবচন গঠন করা যায় |যেমন -অসংখ্য জনতা ,সকল বালক ,কতলোক ইত্যাদি |

পদের পূর্বে সংখ্যাবাচক বিশেষণ বসিয়ে বহুবচন বোঝানো যায় |যেমন -দুইহাত ,চারযুগ ,সাতভাই ,বারোমাস ইত্যাদি |

বিশেষ্য সর্বনাম বিশেষণ ও ক্রিয়াপদ দুবার ব্যবহার করে বহুবচন গঠন করা যেতে পারে |যেমন -ঘরে ঘরে আনন্দ ,পাকা পাকা আম , বড়ো বড়ো পাহাড় ইত্যাদি |

যুগ্ম শব্দ দ্বারা বহুবচন বোঝানো হয় |যেমন -টাকাকড়ি ,চিঠিপত্র ,বাসনকোসন ইত্যাদি |

জাতিবাচক বিশেষ্যপদ দ্বারা বহুবচন বোঝানো হয় |যেমন -গোয়ালে গরু থাকে ,আকাশে পাখি ওড়ে ইত্যাদি |

বচন কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি,বচন ও যুক্তির মধ্যে পার্থক্য কি,বচন পরিবর্তন কর

সম্বন্ধ অনুসারে বচন কয় প্রকার ও কি কি,বচন পরিবর্তন উদাহরণ,বচন কাকে বলে দর্শন

বচন শব্দের অর্থ কি,বচন পরিবর্তন তালিকা

Leave a Reply Cancel reply