শান্তির দেশ ব্রুনাই,Hassanal Bolkiah Ibni Omar Ali Saifuddien , King,Brunei ব্রুনাই সুলতানের ১০ অজানা তথ্য

অঢেল বিত্ত, উন্নত নাগরিক জীবন আর শান্তির দেশ ব্রুনাই। আর এর পেছনের মূল কারন হলো ছোট্ট এই দেশটির অফুরন্ত তেল ও গ্যাস সম্পদ। ব্রুনাইয়ে প্রতিদিন উৎপাদিত হয় ১ লাখ ৬৭ হাজার ব্যারেল তেল। অথচ দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ৪ লাক ৪২ হাজার। বার্ষিক মাথা পিছু আয় ৮৩ হাজার ৭৭৭ মার্কিন ডলার। প্রতি দ্ইু জন নাগরিকের এক জনের রয়েছে প্রাইভেট কার। বিপুল পরিমান আয়ের অধিকারি হলেও জনগনের কাউকে কোনো ট্যাক্স দিতে হয় না। উপরন্তু সরকারের পক্ষ থেকে রয়েছে বিনামূল্যের অনেক সেবা। ২০১৯ সালের তালিকায় ব্রুনাই বিশ্বের পঞ্চম ধনী দেশ।

পূর্ব এশিয়ার বর্ণিও দ্বীপের উত্তর তীরে অবস্থিত ব্রুনাই দারুসসালাম । দেশটির উত্তরে দক্ষিন চীন সাগর । এ ছাড়া বাকী তিন দিক মালয়েশিয়ার সারওয়াক প্রদেশের সীমানা। বর্ণিও দ্বীপের একমাত্র স্বাধীন দেশ হলো ব্রুনাই। দ্বীপের বাকি অংশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার অংশ। পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ হলো বর্ণিও। ব্রুনাইয়ের আয়তন ২ হাজার ২২৬ বর্গমাইল। ২০১৮ সালের হিসেব অনুযায়ী জনসংখ্যা ৪ লাখ ৪২ হাজার। ২০১৯ সালের ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড আাইএমএফ এর শীর্ষ ১০টি ধনী দেশের তালিকায় ব্রুনাইয়ের স্থান পঞ্চম।
দেশটির সরকারি ভাষা মালয়। অধিবাসীদের ৬৬ শতাংশ মালয়, ১০ ভাগ চীনা এবং ২৪ ভাগ অন্যান্য।
নিরঙ্কুশ রাজন্ত্রের দেশ ব্রুনাই। দেশটির একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী সুলতান হাসান আল বলকিয়া। অঢেল প্রাচুর্য রাজপরিবারের বিলাসী জীবন যাপন ছাড়াও সম্প্রতি অন্য একটি কারনে দেশটি বিশ্ব গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষন করে। সেটি হলো শরিয়া আইনের প্রবর্তন।

ব্রুনইয়ের প্রাচুর্যের মূল কারন তেল এবং গ্যাস । তেল এবং গ্যাসের আয়ে দেশটি সম্পদের পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। মানব সম্পদ উন্নয়নে পূর্ব এশিয়ায় সিঙ্গাপুরের পর ব্রুনাইয়ের অবস্থান। আএএমএফ ছাড়াও ফোরবেস তালিকা অনুযায়ী বিশ্বের পঞ্চম ধনী দেশ ব্রুনাই। আর ২০১১ সালে আইএমএফ এর তথ্য অনুসারে বিশ্বে দুটি দেশ রয়েছে যাদের জনগনের ওপর কোনো ঋনের বোঝা নেই। তার একটি হলো লিবিয়া আরেকটি ব্রুনাই।
১৯২৯ সালে ব্রুনাইয়ে তেলের খনি আবিষ্কার হয়। এরপর থেকে সম্পদের পাহাড় জমতে থাকে দেশটিতে তেল গ্যাসের আয় দিয়ে। সাড়ে চার লাখ জনসংখ্যার এ দেশটিতে ১৯৪০ সালে উৎপাদিত হয় ৬০ লাখ ব্যারেল তেল। ১৯৬৫ সালে দৈনিক উৎপাদিত হয় ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০০ ব্যারেল তেল। আর বর্তমানে প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ব্যারেল তেল। দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায় এটি চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। তেল ছাড়াও দেশটিতে প্রতিদিন গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে ২৫ মিলিয়ন কিউবিক মিটার।
ধনী এ দেশ ব্রুনাইয়ের শাসকরা সকল নাগরিকদের চিকিৎসা এবং আবাসন খাতে সহায়তা প্রদান করে থাকে। দেশটির প্রয়োজনীয় ৬০ ভাগ খাদ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। ব্রুনাইয়ের প্রতি দুই জন নাগরিকের একজনের প্রাইভেট কার রয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির থাকার হার বিশ্বে ব্রুনাই শীর্ষে।

ছোট এ দেশটিতে রয়েছে ১০০ মাইল দীর্ঘ উপকূল রেখা। দেশের পূর্ব অংশ নয়নাভিরাম পাহাড় ঘেরা। রাজধানী বন্দর সেরি বেগওয়ানও পাহাড় ঘেরা একটি শহর । দেশটির অধিকাংশ এলাকা রেইন ফরেস্টে ঘেরা। যে কেউ এ দেশ বা শহর ভ্রমনে যাবে সে দেশটির সৌন্দর্যে মুগ্ধ না হয়ে পারবে না। দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ বাস করে রাজধানীতে। রাজধানী ছাড়া অপর গুরুত্বপূর্ণ শহর হলো বন্দর নগরী মুয়ারা এবং তেল সমৃদ্ধ শহর সিয়ারা ও কুয়ালা বেলায়েত।

আধুনিক ব্রুনাইয়ের মূল রূপকার সুলতান তৃতীয় ওমর আলী সাইফুদ্দীন । তেলের বিপুল আয় দিয়ে ব্রুনাইয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা করেন সুলতান তৃতীয় ওমার আলী সাইফুদ্দীন । ১৯৫৩ সালে তিনি প্রথম উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। শিক্ষা, যোগাযোগ এবং অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড শুরু করা হয়। নির্মান করা হয় বিমান বন্দর। ১৯৬২ সালে তিনি গ্রহণ করেন দ্বিতীয় উন্নয়ন প্রকল্প। ১৯৬৩ সালে আবিষ্কার হয় একটি বড় ধরনের তেল ক্ষেত্র। তেল এবং গ্যাস উত্তোলনের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়। নির্মান করা হয় গভীর সমুদ্র বন্দর। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাল্টে যায় দেশের সামগ্রিক চেহারা।
দীর্ঘকাল দেশটি বৃটিশের অধীনে থাকলেও দেশটির রাজতন্ত্র অক্ষুন্ন ছিল। বৃটিশের অধীনে থেকেই তারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।

১৫ থেকে ১৯ শতক পর্যন্ত ব্রুনাই প্রতিষ্ঠিত ছিল সুলতানী সা¤্রাজ্য। ১৮৮৮ সালে ব্রটিশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় ব্রুনাইয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১ সালে জাপান দখল করে এ দেশ এবং ১০ হাজার জাপানি সৈন্য অবস্থান নেয় সেখানে। ১৯৪৫ সাল পযন্ত জাপানি দখলদার বজায় থাকে। বৃটিশ বা জাপানি দখলদার কেউই অগ্রাহ্য করেননি ৫শ বছরের প্রাচীন এ রাজপরিবারকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর আবার ব্রুনাই বৃটিশের অধীনে আসে । ১৯৮৪ সালে দেশটি বৃটিশের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ব্রুনাই সা¤্রাজ্যের সবচেয়ে নাম করা শাসক সুলতান বলকিয়া। তার সময়ে অর্থাৎ ১৪৮৫ থেকে ১৫২৮ সাল পর্যন্ত বর্তমান সাবা, ম্যানিলা এবং সুলূ দ্বীপপুঞ্জসহ গোটা বর্ণিও দ্বীপ তার অধীনে ছিল।

ব্রুনাই বৃটিশের অধীনে থাকা অবস্থায় সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দীনের নেতৃত্বে ১৯৫৩ সালে শুরু হয় দেশটির সংবিধান প্রনয়ন কাজ। এটিও তিনি বৃটিশ কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রণয়ন করেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতা মনোনীত হন তিনি। এ সংবিধান প্রণয়নের পর থেকে ব্রুনাই মূলত স্বাধীনতার দিকে অগ্রসর হয়। প্রতিরক্ষা ও বিদেশ নীতি অর্পিত থাকে বৃটিশ সরকারের হাতে। বাকী সকল বিষয় সুলতান বা ব্রুনাই কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত করা হয়।

১৯৬৭ সালে সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দীন তৃতীয় ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন । উত্তরাধিকার মনোনয়ন করেন বড় পুত্র হাসান আল বলকিয়াকে। ১৯৬৮ সালে ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন সুলতান হাসান আল বলকিয়া এবং এখন পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় আসীন ।
পিতার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ১৯৭১ সালে সুলতান হাসান আল বলকিয়া সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব করেন। জন্য। এবার সংবিধান সংশোধন করে ব্রুনাইকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করে বৃটেন। ১৯৭৯ সালে আরেক চুক্তি অনুযায়ী সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে ১৯৮৪ সালের ১ জানুয়ারিবৃটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।
বর্তমানে দেশটি সম্পূর্ণ ইসলামী রাজতন্ত্র নামে পরিচিত যার নাম মালয় ইসলামী মনরারকি। ২০১৩ সালে বর্তমান সুলতান আল বলকিয়া দেশটির ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে মুসলমান নাগরিকদের জন্য সম্পূর্ণ ইসলামী শরিয়া আইনের প্রবর্তনের ঘোষনা দেয়। তার এ ঘোষনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায়। বিবিসির খবরে বলা হয় ২০১৯ সালের ৩ এপ্রিল ব্রুনাইয়ে ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রেপূর্ণ শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করা হয়। তবে নারী পুরুষ এবং সমসম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি বিষয়ে পশ্চিমা দেশ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসায় সুলতান এ থেকে পিছিয়ে এসেছেন বলে খবরে বলা হয়েছে।

Best Bangladeshi Doctors in Canada

রাজতন্ত্র হলেও দেশটিতে সংবিধান রয়েছে এবং শাসন ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি এ সংবিধান। দেশটিকে সংসদ রয়েছে তবে কোনো নির্বাচন হয় না। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৬২ সালে। সুলতান বলকিয়া ২০০৪ সালে ২০ বছর পর আবার সংসদ চালু করেন। ২০ জন সংসদ সদস্য মনোনয়ন করেন। ১৯৫৯ সালে প্রণীত সংবিধান অনুসারে সুলতান হাসান আল বলকিয়া পূর্ণ নির্বাহী ক্ষমতাসহ রাষ্ট্রের প্রধান। পদবীসহ তার পুরো নাম বেশ দীর্ঘ তথা হিজ ম্যাজেস্টি পাদুকা সেরি বাগিন্দা সুলতান হাজী হাসান আল বলকিয়া মুয়াজজাদ্দিন ওয়াদ্দাউলাহ।

ব্রুনাইয়ের রাজতন্ত্র উৎখাত করে একে মালয়েশিয়া ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ১৯৬২ সালে একটি বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে রাজা সুলতান আল বলকিয়া তৃতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেন যা আজো অবধি বহাল রয়েছে। এ কারনে অনেকের মতে ব্রুনাইয়ে চালু রয়েছে মার্শাল ল। ব্রুনাইয়ের তেল নগরী সারিয়াতে বর্তমানে নৌঘাটি রয়েছে যুক্তরাজ্যের। দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী সেখানে বৃটিশ সৈন্য রয়েছে।
সুলতান হাসান আল বলকিয়া বর্তমানে ব্রুনাইয়ের ২৯ তম সুলতান। বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় রয়েছে এ সুলতানের নাম। ২০০৮ সালে ফোরবসের হিসেব অনুযায়ী তার সম্পদের পরিমান ২০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালে তিনি সিংহাসন আরোহনের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেন। তিনি বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘস্থায়ী শাসক। তার জন্ম ১৯৪৬ সালে। কুয়ালামপুরে প্রাথমিক শিক্ষার পর তিনি ব্রিটিশ রয়াল মিলিটারি একাডেমিতে ভর্তি হন।
কয়েক হাজার ব্যক্তিগত গাড়ি, ইয়াট, ব্যক্তিগত বোয়িং আর বিপুল সম্পত্তি নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমে তার সম্পর্কে নানা ধরনের প্রতিবেদন রয়েছে। সুলতানের ভাইসহ রাজ পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যাপক অপচয় আর বিলাসী জীবনের কাহিনী রয়েছে। ২০০০ সালে আদালতের কাগজপত্রে দেখা যায় সুলতানের ভাই প্রিন্স জেফরি বলকিয়া ১০ বছরে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন বিলাসী জিনিসপত্র কেনার পেছনে।

ইন্টারনেটে ব্রুনাই লিখে সার্চ দিলে প্রথমেই ভেসে ওঠে একটি মসজিদের ছবি। এ মসজিদ বর্তমানে ব্রুনাইয়ের প্রতীক। এর নাম সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দিন মসজিদ। ক্ল্যাসিক্যাল এবং আধুনিক স্থাপত্যের সমন্বয়ে নির্মিত বিশ্বের অনন্য সুন্দর মসজিদের মধ্যে অন্যতম এটি। ব্রুনাইয়ের রাজধানী বন্দর সেরি বেগওয়ানের এই মসজিদ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদও গন্য করা হয়। এটি ব্রুনাইয়ের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষন।

ব্রুনাইয়ের ২৮ তম সুলতান তৃতীয় ওমর আলী সাইফুদ্দিনের নামে এই মসজিদের নাম। তিনিই এর নির্মান শুরু করেন। এটি ব্রুনাইয়ের ইসলামী বিশ্বাসের প্রতীক এবং রাজধানীর সবচেয়ে আকর্ষনীয় স্থাপত্য। এর নির্মান শেষ হয় ১৯৫৮ সালে। এটিকে আধুনিক ইসলামী স্থাপত্য শিল্পের একটি উদাহরণ হিসেবেও গণ্য করা হয়। মোগল স্থাপত্য এবং মালয় স্টাইল অনুসরণ করা হয়েছে এর স্থাপত্য শৈলীতে। মসজিদের বিশালাকায় প্রধান গম্বুজটি সম্পূর্ণ খাঁটি সোনা দিয়ে মোড়া। আলোকসজ্জার কারনে রাতের বেলায় দূর থেকে পুরো মসজিদটিকে মনে হয় স্বর্ণনিমিত । যেন স্বর্ণের বিশাল এক পাহাড়।

ব্রুনাই নদীর তীরে মানবসৃষ্ট একটি বিশালাকায় লেকের কোলঘেষে অবস্থিত এ মসজিদ। মসজিদের পাশে গাছগাছালি আর ফুলের বাগান, পার্ক মুগ্ধ করে পর্যটকদের। তাছাড়া লেকের মধ্যে স্থাপন করা পাথরের তৈরি রাজকীয় বজরা এবং ব্রিজও আকর্ষণীয় করেছে মসজিদের পরিবেশ। মসজিদের মিনার মার্বেল পাথরের । পাথরের বজরাটি ব্রুনাইয়ের পঞ্চম সুলতান বলখিয়ার রাজকীয় বজরার একটি নমুনা। এ বজরায় অনুষ্ঠিত হয় কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা। ১১৭ ফুট উচু এ মসজিদটি ব্র্রুনাইয়ের রাজধানীর যেকোনো স্থান থেকে দেখা যায়। মসজিদের মিনারে ওঠার ব্যবস্থা রয়েছে পর্যটকদের জন্য। লেকের পাশে দাড়িয়ে দেখলে মনে হয় মসজিদটি যেন ভাসছে যার চারদিকে সাজানো ফুলের বাগান। আকাশে ঝকমক করছে গম্বুজের স্বর্ণের দ্যূতি। শুধু দিনে নয় রাতেও সোনার গম্বুজ চকচক করে মোহ ছড়ায় দর্শকদের মনে। মসজিদের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত মার্বেল পাথর, গ্রানাইট, ঝাড়বাতি এবং রঙ্গিন কাচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

মসজিটির অবস্থান ব্রুনাই নদীর তীরে কামপং আয়ারা গ্রামে। একে পানির মধ্যে অবস্থিত গ্রাম বলা হয়। সব মিলিয়ে কখনো কখনো মনে হয় এটি যেন মসজিদ নয় পর্যটন কেন্দ্র। তবে এটি যে আসলেই একটি মসজিদ তা পর্যটকরা টের পায় যখন নামাজ পড়া ছাড়া কাউকে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না তখন। অশালীন পোশাকেও কাউকে মসজিদ চত্বরে প্রবেশের বিষয়ে কড়াকড়ি রয়েছে।

ব্রুনাই সুলতানের হেরেমে অসংখ্য সুন্দরী

সম্প্রতি ব্রুনাইয়ে কঠোর ইসলামি শরীয়াহ আইন চালু করেছেন দেশটির সুলতান হাসানাল বোলখিয়া। কিন্তু ২৭ বিলিয়ন ডলারেরও (প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা) বেশি সম্পদের মালিক এই সুলতানের রাজপ্রাসাদেই রয়েছে একাধিক ‘হেরেম’, যেগুলোতে রয়েছে বিশ্বের নানা দেশ থেকে আনা সুন্দরী যৌনদাসীরা। এসব নিয়ে ছাপা হয়েছে বহু খবর, লেখা হয়েছে বই।

সুলতানের যৌনবিলাস ও হেরেমের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ১৯৯৭ সালে।

#king #brunei #bruneiking ,কী নেই ব্রুনাই সুলতানের? , Hassanal Bolkiah Ibni Omar Ali Saifuddien , King,Brunei ,Entertainment

সে বছরের মিস যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচিত হওয়া শ্যানন মার্কেটিক মার্কিন আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সুলতানের বিরুদ্ধে। তিনি জানান, যৌনতার জন্য প্রতিদিন ৩ হাজার ডলারের বিনিময়ে ব্রুনাইয়ে নেয়া হলেও যৌনদাসীর মতো করে তাকে ব্যবহার করেছেন সুলতান।

 

২০১০ সালে ব্রুনাই রাজপ্রাসাদের হেরেমে (রাজকীয় পতিতালয়) থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লেখেন মার্কিন লেখিকা জুলিয়ান লরেন। বইটির নাম ‘সাম গার্লস: মাই লাইফ ইন হেরেম’। এ বইয়ে তিনি জানান, সেই হেরেমে বিভিন্ন দেশ থেকে আনা বহু কিশোরী মেয়ে ছিলো। তাকে সুলতানের ভাই জাফরি বোলখিয়ার জন্য নেয়া হয়। তবে একদিন আকস্মিক বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হয় মালয়েশিয়ায়। সেখানে সুলতান হাসানাল বোলখিয়াও তার সঙ্গে যৌন কর্ম করেন।

সুলতান হাসানাল বোলখিয়া ব্রুনাই এর সকল ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিপতি। তিনিই দেশটির সর্বোচ্চ ইসলামিক নেতা। একাধারে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, সুলতান হাসানাল বোলখিয়া ব্রুনাইয়ের সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং কমান্ডার অব দ্য আর্মড ফোর্সেস। এমনকি ব্রুনাই এর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরও তিনি।

ব্রুনাইয়ের সুলতানের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ২৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের সবচেয়ে সম্পদশালী শাসকদের একজন তিনি।

একদিকে ওই কঠোর ও বিতর্কিত শরিয়াহ আইন প্রয়োগ করছেন অন্যদিকে ব্যাপক সম্পদে-ভোগবিলাসে অধঃপতিত জীবন অতিবাহিত করছেন ব্রুনাইয়ের সুলতান। তার নিজেরই প্রাইভেট জেট বিমান রয়েছে। শুধু তাই নয়, একবার তার বার্থডে পার্টিতে গান গাইতে মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে আসা হয়।

পৃথিবীতে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শাসকদের মধ্যে ব্রুনাইয়ের সুলতানের অবস্থান দ্বিতীয়। তার আগে, প্রথমস্থানে রয়েছেন ব্রিটেনের দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ৫২ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন ব্রুনাইয়ের সুলতান। তিনি তার বাবার নিকট থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে ক্ষমতা পেয়েছেন।

ব্রুনাইয়ের জনসংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার। তেল ও গ্যাস রপ্তানি করে সম্পদশালী হয়েছে দেশটি। কিন্তু দেশটির জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ দারিদ্র্যের মধ্য বসবাস করে। কিন্তু কথিত আছে, তেলসম্পদ থেকে ব্রুনাইয়ের সুলতানের প্রতি সেকেণ্ডে আয় ১৪৭ ডলার বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রাজকীয় প্রাসাদে বসবাস করেন এই সুলতান যার নাম ইনস্তানা নুরুল ইমান প্যালেস।

ব্রুনাই নদীর তীরে অবস্থিতে এই রাজকীয় প্রাসাদে ১৮০০ ঘর রয়েছে। এই রাজপ্রাসাদটির বাজারমূল্য ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এতে রয়েছে পাঁচটি সুইমিংপুল, কয়েকটি মসজিদ। এই প্রাসাদে রয়েছে বহু হেরেমও।

প্রাসাদের বেঙ্কুয়েট হলে ৫ সহস্রাধিক অতিথি অবস্থান করতে পারে। শুধু তাই নয়, এই রাজপ্রাসাদটি বহু সোনা ও হীরকখণ্ড দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে। সুলতান হাসানাল বোলখিয়ার বিলাসবহুল গাড়ির বিষয়ে অতি আসক্তি রয়েছে। তার সংগ্রহে যেসব বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে তার সর্বমোট মূল্য ৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে রয়েছে রোলস রয়েস, ফেরারি, বেন্টলেস, ল্যাম্বরগিনি, অ্যাস্নট মার্টিন এবং জাগুয়ার।

প্রাইভেট প্লেনের একটি বহর রয়েছে এই সুলতানের। এই বহরে রয়েছে ১৩৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের এয়ারবাস, ২৫১ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের বোয়িং ৭৬৭ প্লেন এবং বিশেষ ধরনের বোয়িং ৭৪৭ প্লেন। এই প্লেনের দাম ৪৩১ মিলিয়ন ডলার। এই প্লেনটি স্বর্ণ দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে।

সুলতান বোলখিয়ার ব্যাডমিন্টন কোচের বেতন ২ মিলিয়ন বা ২০ লাখ ডলার। সুলতান প্রাইভেট প্লেনে চড়ে তার প্রিয় স্টাইলের চুল কাটতে সেলুনে যান। শুধু তাই নয়, ম্যাচিং করে জুতা পরে হেলিকপ্টারে চড়ে তিনি কেনাকাটায় বেরিয়ে পড়েন।

সুলতান হাসানাল একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে ৩৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার খরচ করেন। এই অনুষ্ঠানে ছিল পোলো ম্যাচ, ক্যাভিয়ার সহ গালা ডিনার। এই অনুষ্ঠানে তিনটি কনসার্টে মাইকেল জ্যাকসনকে দেওয়া হয় ২৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার।

তিনটি বিয়ে করেছেন সুলতান। আর এই তিন বিয়েতে তিনি কোটি-কোটি টাকা ব্যয় করেছেন বলে জানা গেছে। ১৯৬৫ সালে তিনি তার কাজিন আনাক সালেহাকে বিয়ে করেন। এরপরে তিনি আরো দুজনকে বিয়ে করেন এবং ডিভোর্স দেন।

সূত্র: নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড, নিউইয়র্ক পোস্ট

খাঁটি সোনা চেনার সহজ উপায়-খাঁটি সোনা চিনবেন যেভাবে | বাজারে কতো প্রকারের সোনা পাওয়া যায়? | Gold News

ব্রুনাইয়ের সুলতানের সফরে হচ্ছে দুটি এমওইউ ও এক চুক্তি

শরিয়াহ আইনে পরিচালিত ব্রুনাইয়ের অজানা কিছু তথ্য

২০১৪ থেকে সরকারিভাবে শারিয়াহ আইন বাস্তবায়িত হচ্ছে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি দেশে। অনেকেই মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে চিনে এ দেশটিকে। দেশটির নাম ব্রুনাই।

Negara Brunei Darussalam দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। এটি একটি রাজতান্ত্রিক ইসলামি দেশ। দেশটি বোর্নিও দ্বীপের উত্তর উপকূলে অবস্থিত। এর উত্তরে দক্ষিণ চীন সাগর, এবং বাকি সব দিকে মালয়শিয়া।

ব্রুনাই তেল সম্পদে সমৃদ্ধ একটি ধনী রাষ্ট্র। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে এটি এই অঞ্চলের একমাত্র দেশ হিসেবে ব্রিটিশ উপনিবেশ হিসেবে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৮৪ সালে এসে দেশটি স্বাধীন হয়।

ব্রুনাই দুইটি আলাদা এলাকা নিয়ে গঠিত। এদের মধ্যে পশ্চিমেরটি বৃহত্তর। দুই এলাকাতেই সমুদ্র বন্দর আছে। তবে দুইটিকেই মালয়শিয়ার সারাওয়াক প্রদেশ ঘিরে রেখেছে। বন্দর সেরি বেগাওয়ান ব্রুনাইয়ের রাজধানী। ব্রুনাইয়ের আয়তন মাত্র ৫,৭৬৫ বর্গকিলোমিটার।

বাংলাদেশ থেকে যারাই সে দেশে যায় তাদের আলাদা সম্মান করা হয়। আর যদি সে কুরআনে হাফেজ হয় তাহলে তো ভিন্ন ধরনের কদর করা হয় তাদের। আলেম হাফেজদের খুব সম্মান করেন তারা।

ব্রুনাইয়ের রাজনীতি একটি পরম রাজতন্ত্র কাঠামোতে সংঘটিত হয়। ব্রুনাইয়ের সুলতান হলেন একাধারে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রধান। সরকারের হাতে নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত।

ব্রুনাইয়ে ২০ সদস্যবিশিষ্ট একটি আইন প্রণয়ন কাউন্সিল আছে, তবে এর সদস্যেরা আইন প্রণয়নে কেবল পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন। ১৯৫৯ সালের সংবিধান অনুযায়ী পাদুকা সেরি বাগিন্দা সুলতান হাজি হাসানাল বোলকিয়াহ মুইযাদ্দিন ওয়াদ্দাউল্লাহ হলেন দেশের প্রধান। ১৯৬০-এর দশকে একটি বিপ্লবের পর থেকে ব্রুনাইয়ে মার্শাল ল’ জারি হয়ে আছে।

মালয় ভাষা ও ইংরেজি ভাষা ব্রুনাইয়ের সরকারি ভাষা। ব্রুনাইয়ের অর্ধেকেরও বেশি লোকের মাতৃভাষা মালয় ভাষা। অন্যদিকে ইংরেজি মাতৃভাষী লোকের সংখ্যা হাজার দশেক। এখানকার প্রায় ১২% লোক চীনা ভাষার বিভিন্ন উপভাষাতে কথা বলেন। এছাড়াও বেশ কিছু সংখ্যালঘু ভাষা প্রচলিত।

মালয় ভাষা দেশটির সার্বজনীন ভাষা বা লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা, তবে ইদানীং পর্যটন ও বাণিজ্যে ইংরেজি ভাষার প্রসার বেড়েছে।

ব্রুনাইয়ের সংস্কৃতি দৃঢ়ভাবে মালে সংস্কৃতির এবং ইসলাম ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত। ইসলাম ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রীয় ধর্ম। এখানে অপরাধ প্রবনতা যেমন খুন ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনা খুব একটা নেই বললেই চলে। সূত্র: ইন্টারনেট

ব্রুনাইয়ের সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়াহ মুইজ্জাদ্দিন ওয়াদদৌল্লাহ আগামী শনিবার (১৫ অক্টোবর) দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় আসছেন। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও বিলাসী সুলতান হিসেবে তিনি সুপরিচিত।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাসাদ ব্রুনাই সুলতানের বাসভবনে কী আছে?

বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাসাদ অবস্থিত ব্রুনাইয়ে। এই প্রাসাদ নিয়ে মানুষের জানার আগ্রহের শেষ নেই। এর নাম ‘ইসতানা নুরুল ইমান’। আর এ প্রাসাদের মালিক দেশটির সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ।

ব্রুনাইয়ের রাজধানীর কাছাকাছি ‘বন্দর সেরি বেগাওয়ানে’ এই প্রাসাদ অবস্থিত। এখান থেকেই সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ রাজকার্য পরিচালনা করেন। তিনি ব্রুনাইয়ের ২৯তম সুলতান। বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাসাদের তকমা পাওয়ার পাশাপাশি এটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

ইসতানা নুরুল ইমানের ইতিহাস

উনিশ শতকে ইংল্যান্ডের জেমস ব্রুক অপ্রত্যাশিতভাবে ব্রুনিয়ান সাম্রাজ্যের ৫০০ বছরের রাজত্বের অবসান ঘটান। এরপর ১৮৪০ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ব্রুনাই ব্রিটিশ শাসনের অধীনে চলে যায়। পরবর্তীতে জাপান কিছুকাল শাসন করলেও পরে ব্রিটিশদের হাতেই এর শাসনভার চলে যায়।

এরপর ১৯৭০ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ব্রুনাইয়েল তৎকালীন তৃতীয় সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দিন এবং তার ছেলে বর্তমান সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ একটি প্রসাদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

১৯৮১ সালে নির্মিত এই প্রাসাদের পেছনে খরচ হয় ১৫ কোটি মার্কিন ডলার। তবে এ সময়ও ব্রিটিশরা পুরোপুরি ব্রুনাই ছেড়ে যায়নি। ১৯৮৪ সালের ১ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের কাছ থেকে পুরোপুরি স্বাধীনতা লাভ করে ব্রুনাই। এ সময়ের মধ্যে ওই প্রসাদের কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। বলকিয়াহ তার প্রাসাদকে “ইসতানা নুরুল ইমান” নামে অভিহিত করেন যার অর্থ “বিশ্বাসের আলোর প্রাসাদ”। এই প্রসাদ নির্মাণের মাধ্যমে তিনি নতুন যুগের সূচনা করেন।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই প্রাসাদে যেসব সুবিধা রয়েছে

ইসতানা নুরুল ইমান ২,০০,০০০ (দুই লাখ) বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং ১ হাজার ৭৮৮টি কক্ষ রয়েছে। চমৎকার এই প্রাসাদটিতে ২৫৭টি বাথরুম, একটি ব্যাঙ্কুয়েট হল যা ৫ হাজার অতিথিকে আপ্যায়ন করার ক্ষমতা রাখে, ১১০টি গাড়ির পার্কিং স্পেস, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত  ২০০টি পোলো ঘোড়ার ঘর। পাঁচটি সুইমিং পুল, একটি হেলিপ্যাড এবং একটি জমকালো মসজিদ রয়েছে। প্রাসাদের মসজিদে একসঙ্গে ১,৫০০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এটি ৩৮ ধরনের মার্বেল দিয়ে তৈরি এবং ৪৪টি সিঁড়ি রয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকা 

ইসতানা নুরুল ইমান নির্মাণ করতে সময়ে লেগেছে দুই বছর। বর্তমানে এর মূল্য প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় আবাসিক প্রাসাদ ইসতানা নুরুল ইমান হলেও এটি নির্মাণ ব্যয় সবচেয়ে বেশি নয়। বিশ্বে প্রসাদ নির্মাণে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে বাকিংহাম প্যালেস নির্মাণে। এটি নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ২৯ কোটি মার্কিন ডলার।

প্রাসাদের নকশা

লিওনার্দো লোকসিন দ্বারা নকশা করা বাড়িটি ‘দ্য লাইট অফ ফেইথ প্যালেস’ নামেও পরিচিত। প্রাসাদের সম্মুখভাগ সাদা, রয়েছে সোনার গম্বুজ (প্রাসাদের গম্বুজটি ২২ ক্যারেট সোনা দিয়ে ঘেরা) এবং খিলানযুক্ত ছাদগুলো আশ্চর্যজনকভাবে মালয় রীতিনীতির সাথে ব্রুনাইয়ের ইসলামিক সংস্কৃতিকে মিশ্রিত করে। খুয়ান চিউ যিনি দুবাইয়ের বুর্জ আল আরবের উন্নয়নে অবদান রেখেছিলেন, তিনি প্রাসাদের অভ্যন্তরটির নকশা করেছিলেন। বিশ্বের বৃহত্তম প্রাসাদ সাজানোর জন্য ব্যবহৃত প্রাথমিক উপকরণ হল সোনা এবং মার্বেল।

প্রতিদিনই আয়োজন লেগে থাকে ইসতানা নুরুল ইমানে 

ব্রুনাইয়ের রয়েল পরিবারের প্রধান বাড়ি এটি। সরকারি সব ধরনের কার্যক্রম এই প্রাসাদ থেকেই পরিচালিত হয় এবং এটিকে সুলতানের হেডকোয়াটার্স বলা হয়। রাজপরিবারের অনেক সদস্যের সরকারি ভূমিকা থাকায় তারা প্রাসাদে থাকেন এবং কাজ করেন। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসও এখানে অবস্থিত। এছাড়া আন্তর্জাতিক নেতাদের ব্রুনাইয়ে আমন্ত্রণ জানানো হলে এই প্রসাদেই রাখা হয়।

বছরে তিন সময়ে এটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এর মধ্যে একটি রমজানের সময়। এ সময়ে সর্বসাধারণের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হয়। বাকী দুটি সময় হলো বড় কোনো অনুষ্ঠান হলে এবং ঈদুল ফিতরে।

সুলতানের ১০টি অজানা তথ্য বাংলানিউজের পাঠকের কাছে তুলে ধরা হলো।

১. ব্রুনাইয়ের সুলতানের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তেল সম্পদ থেকে তিনি প্রচুর অর্থ আয় করে থাকেন।

২. সুলতানের প্রতি মাসে চুল কাটতে ব্যয় হয় ১৭ লাখ টাকা। প্রতি মাসে একবার লন্ডন থেকে নাপিত ব্রুনাই গিয়ে তার চুল কেটে আসেন।

৩. সুলতানের গাড়ির সংখ্যা সাত হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ রোলস রয়েস গাড়ি রয়েছে। বিলাসবহুল কয়েকশ’ ফেরারি গাড়িও আছে তার।

৪. ব্রনাই সুলতানের নিজস্ব জেট ও বোয়িং বিমান রয়েছে। কোনো দেশ সফরে গেলে তিনি নিজস্ব বিমান ব্যবহার করে থাকেন।

৫. সুলতানের রাজপ্রাসাদের নাম ইস্তানা নুরুল ইমান প্যালেস। এখানে ১৭ হাজার রুম, ২৫৭টি বাথরুম, পাঁচটি সুইমিং পুল, ১১০টি গ্যারেজ আছে। ১.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজপ্রাসাদ এটি।

৬. প্রতি সেকেন্ডে ব্রুনাইয়ের সুলতানের আয় ১০০ মার্কিন ডলার। তেল সম্পদ ও বিনিয়োগ থেকেই তার এ আয়।

৭. পাবলো পিকাসো ও পিয়ের-অগস্ত্য রেনোয়াঁর অরজিনাল শিল্পকর্ম সংগ্রহে রয়েছে সুলতানের।

৮. সুলতান হিসেবে ব্রুনাইয়ে তিনি খুব জনপ্রিয়। সে দেশের কোনো নাগরিককে ট্যাক্স দিতে হয় না বলেই তার এ জনপ্রিয়তা।

৯. ১৯৬৭ সাল থেকে প্রায় ৫৫ বছর ব্রুনাই শাসন করে আসছেন সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের পর তিনিই দীর্ঘদিন ধরে কোনো একটি দেশের সিংহাসনে রয়েছেন।

১০. সুলতান গান শুনতে পছন্দ করেন। ১৯৯৬ সালে তার ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে ব্রুনাইয়ে মাইকেল জ্যাকসনের কনসার্ট আয়োজন করেন। এজন্য মাইকেল জ্যাকসনকে তিনি দিয়েছিলেন ১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

Leave a Reply Cancel reply