শ্রীহস্তিনী বা হাতিশুঁড় গাছের উপকারিতা। ঔষধি গুনে ভরপুর গাছের নাম হাতিশুঁড়

শ্রীহস্তিনী বা হাতিশুঁড় গাছ

biggangaachh (Small)কয়েক সপ্তাহ আগে একদিন সকালেই বেরিয়ে পড়েছিলাম ইলামবাজার যাব বলে। উদ্দেশ্য ওখানের পুরানো পোড়ামাটির মন্দির দেখা। ইলামবাজার পৌঁছে প্রথমে হাটতলায় বাজারের মধ্যে অষ্টকোণাকৃতি দেউল দেখে বামুনপাড়ার মন্দির দেখতে চলেছি। বামুনপাড়া পৌঁছে সামনেই পড়ল শিবের দেউল। সুন্দর মন্দিরটির চারপাশ ঘুরে দেখতে দেখতে হঠাৎ চোখে পড়ল রাস্তার ধারেই অন্য আগাছার মাঝে একটি গাছে বাঁকানো পুষ্পদণ্ডে ফুটে রয়েছে সাদা সাদা ফুল, গজদন্তের মত শুভ্র এই ফুল। হাতিশুঁড় গাছ। পুষ্প দণ্ড বাঁকানো হাতির শুঁড়ের মত, তাই গাছটির এই নাম। সংস্কৃত নাম শ্রীহস্তিনী। মনে পড়ল কয়েক দশক আগে কলেজের এক অধ্যাপক বলেছিলেন, চোখ টকটকে লাল হয়েছে, কড় কড় করছে মনে হচ্ছে বালি পড়েছে। এমনটা হলে হাতিশুঁড় গাছের পাতার রস অব্যর্থ ওষুধ। এই গাছটিকে ওড়িয়া ভাষায় হাতিশুন্ডা আর তেলেগুতে বলে নাগদন্তী।

এই ভেষজ গাছটি বর্ষজীবী ছোট গুল্ম। গাছটি আগাছার সঙ্গে এখানে সেখানে জন্মায় তাই সাধারণের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। মোটামুটি এক দেড় ফুট লম্বা, গাছের কাণ্ড ফাঁপা, নরম, সারা দেহে ছোট ছোট রোম আছে। গাছের উপরের দিকের কাণ্ড চৌকো, নীচের দিকে অপেক্ষাকৃত গোলাকার। পাতা খসখসে, একের বিপরীত অন্য পাতাটির অবস্থান। ডালের নীচের দিকের পাতা বড়, পত্রবৃন্ত লম্বা। বড় পাতাগুলি দেখতে বর্শার ফলার মত; বড় পাতার মাপ ২১/২ x ২ ইঞ্চি। পাতাগুলি আঙুল দিয়ে ঘষলে গন্ধ পাওয়া যায়। ফুলগুলি শ্বেতশুভ্র। পত্রদন্ডে ছোট ছোট ফুলগুলি দুই সারিতে পর পর সাজান থাকে। বড়ই মনোরম দেখতে।

শ্রীহস্তিনী বা হাতিশুঁড় গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Heliotropium indicum এবং গাছটি বোরাজিনেসি পরিবারভুক্ত। Heliotropium শব্দের অর্থটি সুন্দর (helios –সূর্য trope – দিকে); এর অর্থ ফুলগুলি সূর্যের দিকে মুখ করে রয়েছে।

আধুনিক কালের বিজ্ঞানীরা এই গাছটির ভেষজগুণ নিয়ে নিরন্তর গবেষণা করে চলেছেন। আশা রাখি অদূর ভবিষ্যতে এই গাছ থেকে নানা রোগের ঔষধ তৈ্রি হবে।

পুরনো দালান ঘেঁষে কিংবা রাস্তার ধারে অন্য আগাছার মাঝে এ গাছটি দেখা যায়। এ গাছের বাঁকানো পুষ্পদণ্ডে ফুটে থাকে সাদা সাদা ফুল। গজদন্ত অর্থাৎ হাতির দাঁতের মতো শুভ্র এই ফুল।গাছটি আগাছার সঙ্গে এখানে সেখানে জন্মায় তাই সাধারণের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। মোটামুটি এক দেড় ফুট লম্বা হয়। গাছের কাণ্ড ফাঁপা, নরম। সারা দেহে ছোট ছোট রোম আছে। গাছের ওপরের দিকের কাণ্ড চৌকো, নিচের দিকে অপেক্ষাকৃত গোলাকার। সংস্কৃত নাম শ্রীহস্তিনী।

চরক সংহিতা সহ অন্যান্য প্রাচীন পুস্তকে এর উল্লেখ আছে। এই গাছটি বিভিন্ন রোগে ব্যবহৃত হয়ঃ-

হাতিশুর গাছের উপকারিতা:

(১)দেহে ছত্রাকজনিত সংক্রমণে লাল চাকা চাকা দাগ নিরাময়ে এর পাতার রস ব্যবহার করা হয়।

(২)ফোলায়  পাতা বেঁটে অল্প গরম করে ফোলায় লাগালে, ফোলা কমে যায়।

(৩) জ্বর ও কাশিতে এই গাছের মূল জলের সঙ্গে ফুটিয়ে ক্বাথও তৈরি করে ব্যবহার করা হয়।

(৪) বিষাক্ত পোকার কামড়ে – পাতার রস লাগালে জ্বালা এবং ফোলা কমে যায়।

(৫) আঘাতজনিত ফোলায় – পাতা বেঁটে অল্প গরম করে লাগালে, ফোলা এবং ব্যাথা কমে যায়।

(৬)যাদের সর্দি লাগবে তারা এই হাতিশুড়ের পাতা সেচে দুই চামচ পরিমাণ রস খেতে পারেন এতে করে আপনার সর্দি ভাল হবে।

(৭)টাইফয়েড জ্বরে: টাইফয়েড রোগে এই উদ্ভিদটির পাতা হতে পারে কার্যকরী সমাধান। এর পাতার রস হালকা গরম করে পানিতে মিশিয়ে খেলে  টাইফয়েড ভাল হয়।

(৮) একজিমা:একজিমা থেকে মুক্তি পেতে হাতিশুড় গাছের পাতা থেতলে আক্রান্ত স্থানে দিন।এভাবে কিছুদিন ব্যবহারে একজিমা সেরে যাবে।

(৯)রিউম্যাটিক বাতে: রেড়ির তেলের সঙ্গে পাতার রস মিশিয়ে পাক করে গাঁটে লাগাতে হয়।

(১০) দাঁতের মাড়ি ফোলায়:দাঁতের মাড়ি ফোলা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি হাতিশুরের মূল চিবালে মাড়ি ফোলা কমে যায়।

১১)কাটা ছেঁড়া: কাটা ছেঁড়া স্থানে হাতিশুরের পাতা থেতলে রস দিতে হবে এতে কাটা ছেঁড়া ঘুচে যাবে।

(১২)ব্রন: ব্রন হলে বা এর দাগ হয়ে গেলে হাতিশুঁড় গাছের পাতা ও তার কচি ডাল থেঁতো করে দুপুরে গোসল করতে যাবার ১ঘন্টা আগে ব্রণের ওপর প্রলেপ দিলে ব্রণ সারে এবং নতুন করে আর ব্রণ হয় না।

(১৪)ফ্যারিঞ্জাইটিস রোগে – পাতার রস অল্প গরম জলে মিশিয়ে গার্গল করা।

হাতিশুঁড় গাছের শিকড়ের উপকারিতা,কাটা খুরা গাছের উপকারিতা,হাতিশুর গাছের মূলের উপকারিতা,হাতিশুরা গাছ,হাতি সুরের শিকড়ের উপকারিতা,হাতিসুরা গাছের কাজ কি,হাতির সুর গাছের উপকারিতা কি

 

হাতিশুঁড়

হাতিশুঁড় একপ্রকার একবর্ষজীবী আগাছা জাতীয় উদ্ভিদ। একে হাতিশুঁড়ি, হাতিশুণ্ডি, হস্তীশুণ্ডী, শ্রীহস্তিনী, মহাশুণ্ডী ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Heliotropium indicum, এবং ইংরেজি নাম Indian heliotrope, Indian Turnsole। এটি এশিয়া মহাদেশের উদ্ভিদ।

1. বর্ণনা

হাতিশুঁড় একবর্ষজীবী, দৃঢ়, শাখান্বিত উদ্ভিদ যা ১৫ থেকে ৫০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এর কান্ড রোমযুক্ত, যাতে একান্তর বিন্যস্ত ডিম্বাকার পাতা থাকে। পাতা গাঢ় সবুজ। পত্রপিঠ অমসৃণ, খসখসে। কিনারা ঢেউ খেলানো। উটকো গন্ধও পাওয়া যায়। কাণ্ডের শীর্ষে লম্বা ও বাঁকানো পুষ্পদণ্ড জুড়ে ছোট ছোট সাদা ফুল ফোটে। বাঁকা পুষ্পদন্ড দেখতে হাতির শুঁড়ের মত বলেই এর নাম হাতিশুঁড়। ফুলের রঙ সাধারণত সাদা, তবে হালকা বেগুনিও হতে পারে। আকৃতি অনেকটা মাইক এর মতো। এর পাপড়ি একটি, তাতে ৫টি খাঁজ থাকে; অনেকটা কলমি ফুলের মতো। সারা বছর ফুল ফোটে তবে বর্ষাকালে বেশি ফুটতে দেখা যায়। গর্ভাশয় চারখন্ডিত। ফল ও বীজ ক্ষুদ্র।

এই গাছে নানারকম জৈব উপদান পাওয়া গেছে। যেমন ইনডিসিন, পাইরোলিজিডিন অ্যালকালয়েড্‌স, হেলিওট্রিন ইত্যাদি। শিকড়ে আছে এসট্রাডিওল।

2. অন্যান্য নাম

  • Uladulad কাপাম্পাঙ্গান
  • Elepante সেবুয়ানো
  • Lengua de Sapo স্পেনীয়
  • Indian turnsole ইংরেজি
  • Kambra-kambra সেবুয়ানো
  • Kuting-kutingan তাগালোগ
  • Thel kodukku তামিল
  • Buntot-leon তাগালোগ
  • Pengñga-pengñga ইলোকানো
  • Indian heliotrope ইংরেজি
  • Trompa ng elepante তাগালোগ
  • Bigotitos স্পেনীয়
  • Trompa elefante স্পেনীয়
  • Vòi voi ভিয়েতনামীয়
  • Erysipela plant ইংরেজি
  • Thekkadaതേക്കടমালয়ালম
  • Chelukondi Gida কন্নড়
  • Siriyari सिरियारी/سریاری বা Hathsura हथसुरा/ہتھسرا হিন্দি এবং উর্দু

হাতিশুড় গাছের শিকড়ের উপকারিতা, উলটকমল গাছের উপকারিতা, হাতিশুর গাছের ফুল দিয়ে বশীকরণ, পটকা গাছের উপকারিতা, ঘেটু গাছের উপকারিতা, হাতির সুর গাছ খাওয়ার নিয়ম, গাছের ছবি ও নাম হাতিশুর ফুল,ঔষধি গুনে ভরপুর গাছের নাম হাতিশুঁড়

Leave a Reply

Translate »