সব ধর্মের সম্মিলন চায় চীন: শি জিনপিং | ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতায় চীন কমিউনিস্ট পার্টি

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি সিপিসি সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং দেশের জাতীয় স্বার্থে সকল ধর্মের সম্মিলন চায়। তবে সেই সম্মিলন অবশ্যই হতে হবে সিপিসি ও চীনের সরকারের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে।

সিপিসির প্রধান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্প্রতি বেইজিংয়ে সিপিসির এক সমাবেশে বলেন, ‘চীন সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আমরা সিপিসিতে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলন চাই। তবে এই সম্মিলন হতে হবে পার্টি (সিপিসি) ও দেশের সরকারের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে।’

চীনে ক্রিয়াশীল সব ধর্মের উচিত দেশের সমাজ সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়া- মন্তব্য করে জিনপিং বলেন, ‘একটি সমাজতান্ত্রিক সমাজে ধর্মের রূপ কেমন হওয়া উচিত- তার দিশা দেখাবে চীন।’

এমন এক সময়ে চীনের প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করলেন, যখন দেশটির উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিম ও দখলকৃত ভূখণ্ড তিব্বতের বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ উঠেছে চীনের সরকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

বৌদ্ধ, ক্যাথলিক, প্রটেস্টান্ট, তাও এবং ইসলাম- চীনে সাংবিধানিকভাবে ৫ টি ধর্ম স্বীকৃত। দেশটির সংবিধানে যদিও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে কিন্তু বাস্তবে চীনে ধর্মচর্চার স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে সীমাবদ্ধ।

বেইজিংয়ের ওই সম্মেলনে পার্টিকর্মীদের উদ্দেশে জিনপিং বলেন, ‘চীনে বসবাসরত সব ধর্মের মানুষ যেন মাতৃভূমি, চীনা জাতি, চীনের সংস্কৃতি, সিপিসি ও চীনা বৈশিষ্টসম্মত সমাজতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠে সেই দায়িত্ব অবশ্যই পার্টিকর্মীদের নিতে হবে।’

২০১৮ সালের পার্টি কংগ্রেসে ধর্মের বিষয়ে ‘শ্বেত পত্র’ প্রকাশ করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি। সেখানে বলা হয়, চীনের ক্রিয়াশীল সব ধর্মীয় গোষ্ঠীকে অবশ্যই কমিউনিস্ট পার্টিকে সমর্থন করতে হবে এবং জাতি ও দেশের জনগণের স্বার্থের প্রতি অনুগত হতে হবে।

জিনপিংয়ের উতসাহেই ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতায় চীন কমিউনিস্ট পার্টি

১৯৮২ সালে চীনের হিবে প্রদেশের ক্রমবর্ধনশীল রাজধানী শিজিয়াজুয়াংয়ের ধুলোবালিময় একটি শহর ঝেংডিংয়ে এসে উপস্থিত হলেন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী শি ইয়াওমিং। ঝেংডিংয়ের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের পুরোহিত তিনি। অপরজন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির এক শীর্ষ কর্মকর্তার ছেলে ২৯ বছর বয়সী শি জিনপিং। ওই সময় চীন সরকারের একজন আমলা হিসেবে কাজ করছিলেন জিনপিং। একজন সন্ন্যাসীর সঙ্গে সরকারি এক আমলার যে সখ্য সেদিন গড়ে উঠেছিল, তা আজও তাৎপর্যপূর্ণ।
বৌদ্ধ দর্শনের অন্যতম বিখ্যাত সূতিকাগার ঝেংডিং শহরের লিনজি মন্দির। জিনপিংয়ের সমর্থনে ও সহায়তায় ওই জরাজীর্ণ মন্দিরটির পুনর্নির্মাণ করেন সন্ন্যাসী। সন্ন্যাসী ইয়াওমিংয়ের সঙ্গে নিয়মিতই দেখা করতে যেতেন জিনপিং। এমনকি ঝেংডিং থেকে জিনপিংকে অন্যত্র বদলি করার পরও। ধর্ম ও দলের মধ্যকার সম্পর্ক অধ্যয়নের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদেরও সেখানে পাঠাতেন তিনি। ধর্মীয় জীবনের সঙ্গে জিনপিংয়ের ওই সংস্পর্শ তাকে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন এক অন্য মানুষে পরিণত করে। যিনি মাও সেতুংয়ের পর থেকে অন্যান্য নেতার তুলনায় দৃঢ় হাতে চীনকে পরিচালনা করছেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান কিংবা দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ভূখণ্ড বিস্তারের জন্য সুপরিচিত তিনি। এ ছাড়া চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব তিনি। ধর্মের সঙ্গে সংশ্রবের মাধ্যমে চীনের আধ্যাত্মিক জীবন পুনরুজ্জীবিত করার একটা প্রচেষ্টা তার মধ্যে রয়েছে। সংগঠন হিসেবে যে কমিউনিস্ট পার্টি একসময় ধর্মকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্ট করেছে, জিনপিংয়ের অধীনে সেই কমিউনিস্ট পার্টিই বর্তমানে ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। একইভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মতো শক্তিশালী নেতাও ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। নিজেদের শাসন-শোষণকে বৈধতা দেয়ার জন্য ধর্মবিশ্বাসকে ব্যবহার করছেন এই বিশ্বনেতারা।
ক্রমবর্ধমান সামাজিক সমস্যা ও ক্ষয়িষ্ণু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মুখে ক্ষমতা ধরে রাখতে ধর্মের দিকে ফিরে আসছে চীনের কমিউনিস্ট সরকার। চীনকে বৌদ্ধ ধর্মের মতো একটি বড় ধর্মবিশ্বাসের অভিভাবক করে তুলছে জিনপিং। বিশ্ব দরবারে চীনের অবস্থান নিশ্চিত করতে ধর্মকে একটা অবলম্বন হিসেবে দেখছেন তিনি। প্রকৃতপক্ষে ধর্ম সম্পর্কে জিনপিংয়ের বর্তমান অভিমত- ‘জনগণ যদি ধর্মবিশ্বাসী হয়, জাতির একটা আশা থাকে, আর দেশ পায় শক্তি।’
তবে চীনের কমিউনিস্টরা ধর্মের প্রতি সব সময় শত্রুভাবাপন্ন ছিলেন না। ১৯৪৯ সালের গৃহযুদ্ধে জয়ের আগে কমিউনিস্ট পার্টি চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাসিত হয়েছিলেন। ওই অঞ্চলের তিব্বতীয় বৌদ্ধ ও হুই মুসলিমদের সহযোগিতা তাদের দরকার ছিল এবং তারা তা পেয়েছিলেন। মতাদর্শিকভাবে কমউিনিস্ট পার্টিতে ধর্মের কোনো স্থান নেই। আর তাই গৃহযুদ্ধে জয়লাভের পর মাও সেতুং নিজ থেকে লাখ লাখ মন্দির, চার্চ এবং মসজিদ ধ্বংস করেছিলেন। তবে দলের অন্য কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা এদের হাতে আসে।
জিনপিংয়ের বাবা শি ঝংশান কমিউনিস্ট পার্টির উদার অংশের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ১৯৮০ সালের শুরুতে পার্টির ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ছিলেন তিনি। দু’বছর পর ধর্মীয় নীতির ওপর ‘ডকুমেন্ট ১৯’ হিসেবে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ দলিল ইস্যু করে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি। ১১ হাজার শব্দের ওই প্রতিবেদন ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পার্টির সদস্যদের হুশিয়ার করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জনগণকে দূরে ঠেলে দেবে। এ ছাড়া মন্দির, মসজিদ ও চার্চের পুনর্নির্মাণের আহ্বান এবং ধর্মীয় পেশাজীবীদের পুনবার্সনের ব্যবস্থার কথা বলা হয় ওই প্রতিবেদনে।
সে বছরই জিনপিং সন্ন্যাসী ইয়াওমিংয়ের সঙ্গে ঝেংডিংয়ে এসে উপস্থিত হন। তার সহায়তায় পুনর্নির্মিত হয় জরাজীর্ণ লিনজি মন্দির। জিনপিং সম্ভবত ধর্মকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে দেখেছিলেন। ঝেংডিংয়ের সঙ্গে জিনপিংয়ের বাবা বা পারিবারিক যে সম্পর্ক ছিল তাকেই কাজে লাগিয়েছিলেন তিনি। ১৯৮৩ সালে লিনজি মন্দিরের উদ্বোধন করেন জিনপিং। জরাজীর্ণ একটি প্যাগোডা থেকে লিনজি মন্দির বড় একটি ভবনে রূপান্তরিত হয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস এ প্রকাশিত নিবন্ধ ‘হোয়াট বুদ্ধিস্ট মঙ্ক টট শি জিনপিং’ অবলম্বনে

সূত্র: এপি

সব ধর্মের সম্মিলন চায় চীন: শি জিনপিং

বিখ্যাত লেখক ও মণীষীদের নির্বাচিত ৩০০০ টি [বাংলাঃ ১২০০ English 1800 ] বানী বা উক্তি সমূহের বাংলা বই বা ই-বুক বা PDF [ কম্পিউটার + মোবাইল ভার্সন ]

বাণী চিরন্তণী all Quotes 1000 TOP POPULAR DOWNLOADS.pdf

পড়ুন

আরও পড়ুনStephen Hawking Biography

বন্ধুরা, এই পোস্টে আমরা আপনাকে  পোস্টটি সম্পর্কে বলেছি। আশা করি আপনি এই পোস্টটি পছন্দ করবেন।

আপনার এই পোস্টটি কেমন লেগেছে, মন্তব্য করে আমাদের জানান এবং এই পোস্টে কোনও ত্রুটি থাকলেও আমরা অবশ্যই এটি সংশোধন করে আপডেট করব।

 

Biography, Famous Quotes ও উক্তি সমূহ লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো। এই ধরনের লেখার নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি ফলো ।

 

ডেইলি নিউজ টাইমস বিডি ডটকম (Dailynewstimesbd.com)এর ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব ও ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন করুন।

Subscribe to the Daily News Times bd.com YouTube channel and follow the Facebook page.

 

উক্ত আর্টিকেলের উক্তি ও বাণীসমূগ বিভিন্ন ব্লগ, উইকিপিডিয়া এবং .. রচিত গ্রন্থ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন: ভুলে গেছেন ফোনের পাসওয়ার্ড, পিন বা প্যাটার্ন? কীভাবে সেকেন্ডে করবেন আনলক, জানুন

আরও পড়ুনকালিদাস পণ্ডিতের ধাঁধাঁ ১। পর্ব moral stories Kalidas Pondit In Bangla কালিদাস

Read More:  কালিদাস গোপাল ভাঁড় খনার জনপ্রিয় বচন ধাঁধাঁ 1000 | শালি দুলাভাই এর রসের ধাঁধা | Bangla Dhadha সমগ্র কালেকশন

আরো জানুন >> 

এখনই কিনুন >> 

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন >> 

আরো কিনুনঃ

 

তথ্যসূত্র: Wikipedia, Online

Sourc of : Wikipedia, Online Internet

 

 ছবিঃ ইন্টারনেট

দৃষ্টি আকর্ষণ এই সাইটে সাধারণত আমরা নিজস্ব কোনো খবর তৈরী করি না.. আমরা বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবরগুলো সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি.. তাই কোনো খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Reply Cancel reply