স্বর্ণ হলমার্কিং কিভাবে করা হয়? সোনা কেনার সময় এই নিয়ম অবশ্যই মানবেন! তা না হলেই ঠকবেন…

আজকাল ব্যক্তিদের সোনার গহনা কেনার সময় হলমার্ক করা সোনা কেনার প্রতি ঝোঁক ক্রমশ বেড়ে চলেছে। অতীতে, উপলব্ধ সোনার বিশুদ্ধতা নিয়ে বেশ কিছু গুরুতর উদ্বেগ ছিল, যে কারণবশত BIS-শংসায়িত হলমার্ক করা সোনার গহনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

BIS সোনার হলমার্কিং কি?

ভারত সরকার, ভারতে সোনা হলমার্কিং স্কিম পরিচালনা করার জন্য একচ্ছত্র এজেন্সি হিসাবে ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS)কে চিহ্নিত করেছে। BIS সোনা হলমার্কিং স্কিম BIS আইন, নিয়ম এবং প্রবিধানের অধীনে প্রকৃতিতে ঐচ্ছিক। এই স্কিমের অধীনে, BIS সোনার ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স মঞ্জুর করে এবং শংসায়িত গহনা ব্যবসায়ীরা তাদের গহনাগুলিকে BIS-এর অনুমোদিত যেকোন অ্যাসেয়িং এবং হলমার্কিং কেন্দ্র থেকে হলমার্ক করাতে পারে।

একটি BIS হলমার্ক নিশ্চিত বিশুদ্ধতা সম্পন্ন গহনা যদি কেউ কেনেন, বিশেষভাবে সেক্ষেত্রে সোনার সাথে অন্য ধাতুর মিশ্রণের পরিমাণটি জানা যায়। তাই, ব্যক্তিবর্গ এই নিশ্চয়তা পায় যে 22 ক্যারেটের সোনার অলংকারে 22 ক্যারেটই আছে।

কিভাবে হলমার্ক করা সোনার গহনা শনাক্ত করবেন-পরীক্ষা করার 4টি বিষয়

এটি ছাড়া, হলমার্ক করা সোনার ওপর BIS-শংসায়িক গহনা ব্যবসায়ী/গহনা প্রস্তুতকারকদের শনাক্ত করারও প্রতীক থাকে। ভারতে হলমার্ক করা গহনা ব্যবসায়ীদের সম্পূর্ণ তালিকাটি BIS-এর ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। যদি কোন বিনিয়োগকারী অভিযোজ করে এবং হলমার্কিং নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে, সেক্ষেত্রে তারা BIS-এর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।

  1. ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS) লোগোএটি প্রতীকায়িত করে যে হলমার্কিং এবং অ্যাসেয়িংয়ের প্রক্রিয়াটি ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের মানক অনুযায়ী হয়েছে।
  2. ক্যারেট এবং সূক্ষ্মতায় সোনার বিশুদ্ধতাভারতবর্ষে, কেবলমাত্র তিনটি গ্রেডে হলমার্কিং করা হয় যথা 22, 18 এবং 14 ক্যারেট। সেই অনুযায়ী, 22 ক্যারেটের সোনাকে শংসায়িত করা হয় 22k916 হিসাবে। আপনি যে সোনাটি কিনছেন সেখানে সোনার বিশুদ্ধতার স্তর দেখার জন্য এই প্রতীকটি দেখুন।
  3. অ্যাসেইং এবং হলমার্কিং কেন্দ্রের প্রতীকসোনা কেনার সময় ক্রেতাকে BIS দ্বারা অনুমোদিত অ্যাসেয়িং এবং সোনার হলমার্কিং কেন্দ্রের লোগোটিও পরীক্ষা করে নিতে হবে যেখান থেকে গহনা ব্যবসায়ী গহনাটির বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করিয়ে হলমার্ক করিয়েছে।
  4. BIS শংসায়িত গহনা ব্যবসায়ী শনাক্তকারীর প্রতীকএটি ছাড়া, হলমার্ক করা সোনার ওপর BIS-শংসায়িক গহনা ব্যবসায়ী/গহনা প্রস্তুতকারকদের শনাক্ত করারও প্রতীক থাকে। ভারতে হলমার্ক করা গহনা ব্যবসায়ীদের সম্পূর্ণ তালিকাটি BIS-এর ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। যদি কোন বিনিয়োগকারী অভিযোজ করে এবং হলমার্কিং নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে, সেক্ষেত্রে তারা BIS-এর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।

সোনার গহনা কেনার সময় বিবেচনা করার কিছু আবশ্যিক বিষয়

  • সোনার ক্যারেটসোনা ক্যারেটে পরিমাপ করা হয়। আপনার কিনতে চাওয় প্রতিটি সোনার গহনা অথবা সোনার কয়েনে এটি কিভাবে দাম ও মজবুতিকে প্রভাবিত করে সেটা জানা আবশ্যক। 24 ক্যারেট সোনা বলতে খাঁটি সোনাকে (99.99 শতাংশ খাঁটি) বোঝায়, অন্যদিকে 22 ক্যারেট সোনা 91.6 শতাংশ বিশুদ্ধ। সোনার অলংকার কখনই 24 ক্যারেট সোনা দিয়ে প্রস্তুত হয় না কারণ সোনার সবথেকে খাঁটি রূপটি অত্যন্ত নমনীয়। ফলত, গহনা প্রস্তুতির জন্য উপযুক্ত নয়। পরবর্তীগুলির সাথে তামা, রূপো, নিকেল বা জিঙ্কের মত অন্য ধাতু মেশানো হয়।
  • সোনার গহনার জন্য মেকিং চার্জযখন সোনার বালা, চেন, নেকলেস ইত্যাদির মত সোনার গহনা কেনা হয় তখন মানুষের সেটির মেকিং চার্জের ওপর নজর রাখা উচিত। সাধারণত সোনার গহনার মেকিং চার্জ প্রতি গ্রাম অনুযায়ী হয়।
  • সোনার গহনা ব্যবসায়ীর সুনামযখন সোনা কেনা হয়, গহনা ব্যবসায়ীর সুনাম দেখে নেওয়াটা ভাল। অপরিচিত লোকের থেকে কিনলে তা সাশ্রয়ী নাও হতে পারে, বিশেষ করে সোনার বিশেষ করে সোনার বিশুদ্ধতার দিক থেকে।

    হলমার্ক করা সোনা কেনার সময় উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি বোঝার পরেই আপনার সোনাটি কেনা উচিত, চলুন একবার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সোনা হলমার্কিংয়ের সংজ্ঞা এবং সোনা হলমার্কং প্রক্রিয়াটি দেখে নিই।

  • স্বর্ণ হলমার্কিং কিভাবে করা হয়?

  • হলমার্কিং কি?

    হলমার্কিং হল সঠিক নির্ধারণ এবং মূল্যবান ধাতু নিবন্ধে বহুমূল্য ধাতু আনুপাতিক বিষয়বস্তুর আধিকারিক রেকর্ডিং। এইভাবে হলমার্ক হল সরকারী বিশুদ্ধতার একটি গ্যারান্টি বা মূল্যবান ধাতু প্রবন্ধে অনেক দেশে ব্যবহৃত সূক্ষ্মতার চিহ্ন।

     

    হলমার্কিং কেন করা হয়? হলমার্কিং ক্রেতাদের সঠিক স্বর্ণ অলংকার চিহ্নিত করতে সাহায্য করে এবং তাদের কে যে স্বর্ণ অলংকার বিক্রি করা হয়েছে তা বাস্তব না জাল চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।

    হলমার্কিং কে করে? ভারতে, এটা ভারতীয় মানক ব্যুরো (BIS) সোনার বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করার জন্য অনুমোদিত। IS 2009: 15820 বিরুদ্ধে অ্যাপেক্স বডি নির্দিষ্ট পরীক্ষা করে এবং হলমার্কিং সেন্টার স্বীকৃতি দেয়। এই সেন্টারগুলি কে, একবার স্বীকৃত পেলে, BIS-প্রত্যয়িত গহনা কে হলমার্ক ছাপ প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয়।

    কোনো জহুরি কি স্বর্ণ পণ্যে একটি হলমার্ক অর্জন করতে পারে? না। শুধু প্রত্যয়িত জহুরি অনুমোদিত কেন্দ্র থেকে এই মার্কিং গ্রহণ করার যোগ্য। সুতরাং, একটি হলমার্ক নামকরা জহুরি ও নির্মাতা কে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।

    হলমার্কিং প্রক্রিয়া কি? স্বর্ণ জহরত কে সাধারণত পরে একটি বিশ্লেষণ করে বা মূল্যবান ধাতুর পরিমাণের বিশুদ্ধতা যাঁচাই করে হলমার্কিং করা হয়।

    তোমাকে ছাড়া আজও প্রতি টা সময় খুব একাকিত্ব লেখক মোহাম্মদ রাসেল  লাগে

    আজ, আধুনিক এক্স-রে ফ্লোরোসেন্স টেকনিক স্বর্ণ তৈরি করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি, একটি কম্পিউটার দ্বারা অ-নাশক দ্রুত এবং স্বয়ংক্রিয় প্রিন্টিঙ্গের আশ্বাস দেয়।
    অশোধিত সোনার জন্য ‘অগ্নি পরীক্ষা’ বা ‘যুগলবন্ধন’ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। যখন নিবন্ধ অমেধ্য থেকে সোনা আলাদা করতে গলিত করা হয়। এটা ধ্বংসাত্মক কিন্তু বেশ কার্যকরী হতে পারে।
    একটি যাঁচাইকরণ নিবন্ধিত করতে যাঁচাই এবং হলমার্কিং সেন্টারে (A&HMC) যেকোনো সময়ে করানো যাবে। এই কেন্দ্রগুলিতে মান যাঁচাই করা হবে এবং BIS এর মানের অনুযায়ী A&HMC হলমার্ক করবে।

    একটি হলমার্ক দেখতে কেমন? প্রতিটি স্বর্ণ আইটেমে হলমার্ক চারটি চিহ্ন দিয়ে গঠিত:

     

    হলমার্কিং এর পরে যদি কোন গুণমান কমে যায় তাহলে কি হবে? BIS গহনার ‘প্রাঙ্গনে’ সময় অসময় স্বর্ণ অলংকারের একটি পর্যাবৃত্ত সুবিবেচনা বহন করে। BIS যদি কোন অমিল খুঁজে বের করে, তাহলে জহুরি লাইসেন্স বাতিল হতে পারে, বা এমনকি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    কিন্তু কিভাবে ক্যারেটের সঙ্গে বিশুদ্ধতা যুক্ত? বিশুদ্ধতা ফিটনেস কোডের নিম্নলিখিত ক্যারাট দ্বারা পাওয়া যেতে পারে। যত উচ্চতর ক্যারাট হবে তত বেশি বিশুদ্ধ স্বর্ণ হবে। স্বর্ণের সবচেয়ে বিশুদ্ধ ফর্ম 24 ক্যারাট হয়। একটি নিম্ন ক্যারাট ইঙ্গিত করে যে বর্তমানে তাতে অন্যান্য ধাতু রয়েছে। যাইহোক, হলমার্ক অলংকার শুধুমাত্র 22 ক্যারাট, 18 ক্যারাট এবং 14 ক্যারাট তিনটি গ্রেডের মধ্যে উপলব্ধ।

     

    আপনার স্বর্ণের ক্যারেট নির্ধারণ করতে, নীচের কোডগুলি দেখুন। প্রতিটি কোড একটি নির্দিষ্ট ক্যারেট বর্ণনা করে।
    22K916 অনুরূপ 22 ক্যারেট
    18K750 অনুরূপ 18 ক্যারেট
    14K585 অনুরূপ 14 ক্যারেট

     

    উপসংহার

    একজন ক্রেতা হিসেবে আপনার সুরক্ষার আপনারই হাতে থাকে। যখনই আপনি স্বর্ণ কিনছেন, তখন আপনি সঠিক হলমার্কিং নিশ্চিত করার জন্য BIS দ্বারা 4 চিহ্ন পরীক্ষা করার বিবর্ধক কাচ দিয়ে চেক করার জন্য অনুরোধ করতে পারেন। এই টিপস এর মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে স্বর্ণ অলংকার আপনি কিনছেন তা বিশুদ্ধ।

    ভারতের মধ্যবিত্ত সমাজে সোনা এবং সোনার গহনা অত্যন্তু গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় । যেকোনও উৎসব, অনুষ্ঠানবাড়ি উদযাপনে খাঁটি সোনার গয়নার বিকল্প নেই আজও। কিন্তু শুধু পরলেই তো হবে না, সোনা আদৌ খাঁটি কিনা তাও চিনতে হবে? ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে খাঁটি সোনার নাম করে বিক্রি হয় ভুয়ো কিংবা নকল সোনা। অনেকসময় সোনার পরিবর্তে হাতে আসে ইমিটেশনও। এইসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেই জেনে নেওয়া যাক খাঁটি সোনা চেনার তিনটি উপায়।

    • সোনা কেনার সময় এই নিয়ম অবশ্যই মানবেন! তা না হলেই ঠকবেন…

    বিআইএস এর ছাপ ( BIS Mark)

    সোনা খাঁটি কিনা তা চেনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল, সেই সোনার গায়ে ভারতীয় স্ট্যান্ডার্ড ব্যুরো ( Bureau of Indian Standards) বা BIS এর ছাপ আছে কিনা সেদিকে নজর রাখা। বস্তুত, BIS যে কোনওরকম খাঁটি সোনা অথবা সোনা দিয়ে তৈরি গয়না’কে নিজেদের হলমার্ক দিয়ে থাকে। সোনার গায়ে BIS এর হলমার্ক চেনার উপায় হল, BIS এর প্রতীকচিহ্ন আছে কিনা, তা খুঁজে দেখা। BIS স্বীকৃতি দিয়েছে, এমন সোনার গায়ে সবসময় BIS এর প্রতীক থাকবেই। সেই প্রতীক চিহ্নিত করতে পারলে বোঝা যাবে সোনা খাঁটি।

    ক্যারেটের পরিমাণ ও সোনার মসৃণতা

    সোনা খাঁটি কিনা তা বোঝার উপায় হল, সেই সোনার ক্যারটের পরিমাণ যাচাই করে দেখা৷ সাধারণত ক্যারেটের হিসাবে দেখলে সোনার মধ্যে সবচেয়ে খাঁটি হল ২৪ ক্যারেটের সোনা। যদিও ২৪ ক্যারেটের একদম খাঁটি সোনা অত্যন্ত নরম প্রকৃতির। এই সোনাকে কোনওভাবেই গয়নায় পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। অতএব ২৪ ক্যারেট সোনার গয়নার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন জিঙ্ক (Zinc) ও অন্য ধাতুর সহায়তা। ক্যারেটের পরিমাণ ছাড়াও, সোনার দেহের মসৃণতার উপরও সোনা খাঁটি কিনা তা নির্ভর করে। যেমন ২৪ ক্যারেট সোনা ২৪/২৪ ভাগ মসৃণ হওয়ার কথা। কিন্তু অনেকসময়ই মসৃণতার ক্ষেত্রে কিছুটা খাদ থেকে যায়।

    হলমার্কের নম্বর ( Hallmarking Number)

    খাঁটি সোনা চেনার অন্যতম উপায় হল সোনার গায়ে থাকা হলমার্কের নম্বর যাচাই করে সেই সোনা’কে চেনা। BIS এবং BIS অনুমোদিত ল্যাবরেটরি ছাড়া সোনার গায়ে হলমার্ক বসাতে পারে না কেউই। তাই একমাত্র BIS অনুমোদিত হলার্ক দেখেই তবে সোনা কেনা উচিত।

    উক্ত নিয়মগুলির প্রতিটিই BIS এর দ্বারা তৈরি। ভারতে সোনার জনপ্রিয়তার সঙ্গেই সোনাতে খাদ বসানোর পদ্ধতিও জনপ্রিয়। এই খাদের হাত থেকে যাতে খরিদ্দারদের সতর্ক করা যায়, তাই জন্যেই এই পদ্ধতিগুলির প্রয়োজন।

    উল্লেখ্য কলকাতায় আজ সোনার দামে সামান্য বদল এসেছে। গতকালের থেকে আজকের হিসাবে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে কমেছে ৫০ টাকা। ২২ ক্যারবট সোনার দামের ক্ষেত্রেও একইরকম বদল এসেছে।

  • হলমার্ক দেখে সোনা কেনেন, কিন্তু তা কি খাঁটি? জেনে নিন আসল তথ্য

  • সোনার গয়না কেনার সময় হলমার্ক দেখে নেওয়া জরুরি। সোনা খাঁটি কি না, তা নিশ্চিত করে এই চিহ্ন। কিন্তু কী করে বুঝবেন, তাতেও গলদ আছে কি না? দেখে নেওয়া যাক তার নিয়ম-কানুন।

    সোনার শুদ্ধতা সম্পর্কে শংসাপত্র দেয় বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র ও হলমার্কিং সেন্টার (এএইচসি) এবং ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিআইএস)। ২০২০ সাল থেকে সোনায় হলকার্ক থাকা আবশ্যিক করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    সোনায় হলমার্ক বসানোর জন্য হলমার্কিং সেন্টারগুলির কর্মপদ্ধতির উপর বেশ কিছু শর্তাবলী আরোপ করেছে বিআইএস। কিন্তু এই প্রক্রিয়া আরও নিখুঁত হওয়া প্রয়োজন, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিলের ভারতীয় শাখার ম্যানেজিং ডিরেক্টর পি আর সোমসুন্দরমের মতে, ‘হলমার্ক হল বিশ্বাসের প্রতীক। হলকার্কিং সেন্টারগুলি অত্যন্ত ভালো মানের পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করছে কি না, তা যাচাই করা দরকার।’

    তবে হলমার্কের সত্যতা আপনি নিজেও যাচাই করতে পারেন। হলমার্কিং পদ্ধতির প্রাথমিক ৪টি চিহ্ন হল বিআইএস প্রদত্ত ত্রিভুজাকৃতি চিহ্ন, ক্যারাট সম্পর্কীয় তথ্য (22K915), যা সোনার শুদ্ধতা নিশ্চিত করে, গয়না সংস্থার মার্কা এবং এএইচসি-এর চিহ্ন।

    গয়না সংস্থার বিআইএস লাইসেন্স

    সব সময় বিআইএস নথিভুক্ত গয়না বিপণি থেকেই সোনার গয়না কেনা উচিত। সারা ভারতে প্রায় ৩০ হাজার বিআইএস নথিভুক্ত সোনার গয়না বিপণন সংস্থা রয়েছে। এই তালিকা বিআইএস ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। আপনি গয়না বিপণন সংস্থার বিআইএস লাইসেন্স দেখতেও চাইতে পারেন। বিপণিতে এই লাইসেন্স সকলের দেখার জন্য রাখা বাধ্যতামূলক। মনে রাখবেন, লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা ও দোকানের ঠিকানায় যেন তফাৎ না থাকে।

    গয়নার বিলে উল্লেখ

    আপনার বিলটি খুঁটিয়ে দেখুন। নিয়ম অনুযায়ী, বিলে হলমার্ক বাবদ চার্জ আলাদা উল্লেখ করার কথা বিপণন সংস্থার। প্রতি গয়নায় ৩৫ টাকা হিসেবে হলমার্কিং চার্জ ধার্য করেছে এএইচসি।

    বিআইএস নথিভুক্ত সংস্থা অন্য কোনও বিআইএস নথিভুক্ত সংস্থার তৈরি গয়নাও বিক্রি করতে পারে। গয়নার রসিদে হলমার্কিং চার্জ, হলমার্কযুক্ত গয়না কেনা ও বিক্রির যাবতীয় তথ্য রসিদে উল্লেখ করতে হবে বিপণন সংস্থাকে। সোনার গয়না বিক্রি ও কেনার জন্য ৫ বছর সময়কাল ধার্য করেছে বিআইএস।

    এএইচসি-এর বিশদ তথ্য

    এএইচসি-এর খুঁটিনাটি তথ্য পাওয়া যায় বিআইএস তালিকায়। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত বিআইএস স্বীকৃত মোট ৮৭৭টি এএইচসি রয়েছে দেশজুড়ে। ওই তালিকা থেকেই এএইচসি-এর চিহ্ন যাচাই করে নেওয়া যায়। যে সমস্ত এএইচসি০-এর লাইসেন্স বাতিল বা সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাদের নামও রয়েছে বিআইএস তালিকায়।

    নিজেও পরীক্ষা করাতে পারেন সোনা

    বিআইএস তালিকাভুক্ত যে কোনও এএইচসি থেকে আপনি নিজেও সোনার গয়না পরীক্ষা করাতে পারেন। সাধারণ ক্রেতাদের কেনা গয়না পরীক্ষা করতে নির্দিষ্ট অর্থ চার্জ করে এএইচসি। পরীক্ষা করার পরে গয়না সম্পর্কে একটি রিপোর্ট দেয় এএইচসি। রিপোর্টে সোনার মান খারাপ বের হলে গ্রাহকের ফি ফেরত দেয় এএইচসি। ওই রিপোর্ট গয়না বিক্রেতা সংস্থার কাছে দাখিল করতে পারেন গ্রাহক, যার জন্য তাঁকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য বিক্রেতা।

  • সদ্য অক্ষয় তৃতীয়া মিটল। অনেক বাঙালিই সোনা কেনেন ওই দিন। গরানহাটা, বউবাজারের সোনার দোকানগুলিতে ভিড় উপচে পড়ে। তবে এই এক দিন নয়, সোনা কেনার চল বাঙালির প্রায় সারা বছরই। কিছুটা টাকা হাতে মজুত হলেই অলঙ্কার কেনেন অনেকেই। এ কেবল খরচ নয়, বরং সোনাকে লগ্নি হিসাবে ধরাতেই সায় বিশেষজ্ঞদের। বিপদে-আপদে টাকার চেযেও বেশি কাজে আসে সোনা।

    কিন্তু সোনা তো কিনবেন, কিন্তু জানেন কি কেমন ভাবে বুঝতে হয় সোনা কতটা খাঁটি, আঠারো না বাইশ কত ক্যারাটের সোনা কিনব। পার্থক্যই বা কি এই দু’রকম ক্যারাটের? এত দুর্মূল্য সম্পদ কেনার সময় জেনে রাখা উচিত সাতসতেরো নিয়ম।

    কত ক্যারাটে কত খাদ

    সাধারণত ২৪ ক্যারাট সোনাই হলো খাঁটি। ২৪ ক্যারাট সোনা মানে ৯৯.৯ শতাংশ খাঁটি সোনা। কিন্তু দোকানে সাধারণত ২২ ক্যারাট সোনা দিয়েই অলঙ্কার তৈরি হয়। আপনি সে দিকটা খতিয়ে দেখে নেবেন, যাতে ২২ ক্যারাটের সোনা দেওয়া হয়। ২২ ক্যারেট সোনা মানে ৯১.৬ শতাংশ খাঁটি সোনা। ২১ ক্যারাটে থাকে ৮৭ শতাংশ, ১৮ ক্যারেটে থাকে ৭৫ শতাংশ। তবে আমাদের দেশে ২২ এবং ২১ ক্যারেট সোনা দিয়েই বেশি গয়না তৈরি করা হয়।

    আরও পড়ুন: লু বইছে এখনই, এই গরমে সুস্থ থাকতে খান এই সব শরবত

    যাচাই কী ভাবে

    স্পেকট্রোমিটার নামের মেশিনে মাপার পর সোনায় খাদ থাকলে সহজেই ধরা পড়ে যাবে। মেশিনই বলে দেবে কত ক্যারাটের সোনা আপনাকে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং স্পেকট্রোমিটার মেশিনে মেপে আপনার সোনার খাদ যাচাই করে তবেই কিনুন।

    সোনা কেনার পাঁচ টিপস

    সোনা কতটা খাঁটি: সোনার গয়না কতটা খাঁটি তা ঠিক করে ‘ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস’ (বিআইএস)। প্রত্যেক গয়নায় একটি নম্বর হলমার্ক করা থাকে, বিআইএস স্ট্যাম্প, সোনার ক্যারাট, হলমার্কের সাল, স্বর্ণকারের পরিচয় ও স্থান— এই তথ্য থাকতেই হবে। কেনার আগে অবশ্যই দেখে নিতে হবে এই ব্যাপারগুলি।

    তৈরির উপর কত ছাড়: বেশি পরিমাণে গয়না বিক্রির জন্য অনেক সময়ে প্রায় প্রত্যেক দোকানেই ‘মেকিং চার্জ’-এর উপর বাড়তি ছাড় দেওয়ার কথা বলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। কেনার আগে অবশ্যই জেনে নিন ছাড় সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য। কোথাও কোনও গুপ্ত খাতে বেশি টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে কি না তা যাচাই করুন।

    দামের রকমফের: একই গয়নার দাম বিভিন্ন দোকানে এক এক রকমের হয়। তার কারণ হতে পারে সোনার মান বা মেকিং চার্জ। ফলে কেনার আগে খানিক মার্কেট সার্ভে অবশ্যই করে নেওয়া উচিত।

    আরও পড়ুন: খাঁটি সোনা চেনার সহজ উপায়-খাঁটি সোনা চিনবেন যেভাবে | বাজারে কতো প্রকারের সোনা পাওয়া যায়? | Gold News

    সোনায় বিনিয়োগ: সোনা কেনা মানেই যে ‘ভাল লগ্নি’ তা কিন্তু সব সময় নয়। কী কেনা উচিত, কী নয়, তার উপরেই নির্ভর করে ভবিষ্যতে সেই সোনা কতটা লাভজনক হবে। তাই লগ্নির উদ্দেশ্যে সোনা কিনতে চাইলে, অবশ্যই সে সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে কিনুন।

    মণিমুক্তাখচিত: সোনার গয়নায় দামি পাথরের কাজ থাকলে, তা দেখতে ভাল লাগে ঠিকই কিন্তু তার দামও বেড়ে যায় কয়েক গুণ। অথচ, পরবর্তী কালে সেই গয়নার দাম মনের মতো পাওয়া যায় না। ফলে, সোনার গয়নায় পাথর না থাকাই শ্রেয়। বরং গয়না কেনার সময় সোনার জোর দিন বেশি করে।

  • Sources:

    http://www.bis.org.in/cert/hm_faq.asp

    http://www.bis.org.in/cert/about_Hm.asp

    https://en.wikipedia.org/wiki/Hallmark#Methods_of_assay

    India’s gold market: evolution and innovation – World Gold Council Report.

Leave a Reply Cancel reply