স্বামীর নির্যাতনে ডিভোর্সের পথে বেছে নেন ফারিয়া

ভালোবেসে ঘরে বেধেছিলেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। কিন্তু তাদের ভালোবাসার সেই সংসার খুব বেশিদিন টেকেনি। গত বছরের নভেম্বর মাসে ফারিয়া-অপুর বিচ্ছেদ হয়। কিন্তু বিচ্ছেদের নেপথ্যে কী ছিল? কারো পক্ষে তখন জানা সম্ভব হয়নি। তবে বুধবার রাতে এই অভিনেত্রীর এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানা গেল তাদের সংসার ভাঙার নেপথ্যের কারণ। শবনম ফারিয়া স্বামীর কাছে নির্যাতিত হয়ে বিচ্ছেদের পথে হেঁটেছেন। শুধু নির্যাতনই নয়, নির্যাতন করে হাত ভেঙে দিয়েছিলেন তার স্বামী। সমাজের নিয়ম ও কী বলবে সমাজ, স্বজন এই ভেবে সহজে বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে চাইছিলেন না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েছেন দেবীখ্যাত অভিনেত্রী।

শবনম ফারিয়ার ভেরিফাইড ফেসবুক থেকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তার সঙ্গে এমন ঘটনা দুই বছর আগে ঘটলেও মানুষ কী বলবে বা পরিবার কীভাবে মানুষের সামনে মুখ দেখাবে তা ভেবে সে সময় মুখ খোলেননি তিনি। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ইলমার নির্যাতনের কারণে মৃত্যু প্রসঙ্গে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গেই ফারিয়া কণ্ঠে শিল্পী লোপার একটি পোস্ট শেয়ার করে নিজের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা উল্লেখ করেন।

শবনম ফারিয়া লেখেন, মৃত মেয়েটার ছবি দেখার পর বার বার আমি দেড়/দুই বছর পিছনে ফিরে যাচ্ছিলাম। মনে পড়ছে কিভাবে আমি দেবী সিনেমার পুরো প্রোমোশন ভাঙ্গা হাত নিয়ে করেছি, যখন কেউ জানতে চেয়েছি কি হয়েছে, বলেছিলাম সিঁড়ি থেকে পড়ে ব্যাথা পেয়েছি! আমার সাহস ছিল না সবাইকে বলার যে কিভাবে ব্যাথা পেয়েছি!

ফারিয়া বলেন, কারণ আমি জানতাম এই মানুষটার সাথেই থাকতে হবে, নইলে মানুষ কি বলবে! আমার মা সমাজে মুখ দেখাবে কিভাবে! আমার দুই বোন যে স্বপ্ন নিয়ে এত আয়োজনের প্ল্যান করছে তাদের কি জবাব দেব! কাবিনের ৩ মাস না যেতেই এত কিছু! নিশ্চই সমস্যা আমারই! আমি এইটা ভেবে দিনের পর দিন জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে, রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটিয়েছি! বার বার ভেবেছি কিছু হলে সবাই আমাকেই খারাপ বলবে! কিন্তু আমি খুব সৌভাগ্যবান যে আমার মা আমার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে! সাহস দিয়েছে! বুঝিয়েছে মানুষ কি বলে তার চেয়ে নিজের ভাল থাকা আরও অনেক জরুরি! জোর করে বিয়ে টিকিয়ে রাখার চেয়ে বেঁচে থাকা আরও জরুরি!

লোপা হোসাইন ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘সহ্য করতে না পেরে ডিভোর্স দিলে কতনা গালি খেত এলমা মেয়েটা। সহ্য করতে করতে মরে গেল বলেইনা এখন আমরা মায়াকান্না কাঁদছি… এদেশের বাবামায়েরা সমাজে মানইজ্জত বাঁচাতে মেয়েদের এমনভাবে ব্রেইনওয়াশ অথবা ব্ল্যাকমেইল করে যে ডিভোর্স দিয়ে লাইফের রিস্টার্ট বাটন চাপার চেয়ে পাওয়ার অফ বাটন চেপে দেয়াই বেশী সহজ মনে হয়। আর তার আগেই যদি স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মেরে ফেলে, তাহলে তো কথাই নেই… এইসব ঘটনা দেখলে নিজের অজান্তেই নিজের অতীতে ফিরে যাই…’

কী লিখেছেন বাংলাদেশের তারকা? কেন বিচ্ছেদ এসেছিল তাঁর জীবনে? তার আগে এক নজর তাঁর বিবাহিত জীবনে। কাজের সূত্রেই শবনমের আলাপ হারুনুর রশিদ অপুর সঙ্গে। ২০১৮-য় আংটি বদল। তার পরে বিয়ে। ভালবেসে সাত পাক ঘোরার আয়ু মাত্র এক বছর ৯ মাস। ২০২০-তে পাকাপাকি বিচ্ছেদের সময় অভিনেত্রী বলেছিলেন, দাম্পত্যে বনিবনা ছিল না। তাই পারস্পরিক সম্মতিতে বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন।

স্বামীর নির্যাতনে ডিভোর্সের পথে বেছে নেন ফারিয়া,Sabnam Faria: স্বামী মেরে হাত ভেঙে দিয়েছিল,

শবনম ফারিয়া,
শবনম ফারিয়া, ফারিয়া শাহরিন, হারুন উর রশীদ অপু, ফ্যামিলি ক্রাইসিস ,ফারিয়া নামের অর্থ কি ,মাহিয়া মাহি অর্চিতা স্পর্শিয়া

Leave a Reply

Translate »