দেড় লাখ টাকা বাজেটের মধ্যে ৫টি সেরা মোটরসাইকেল

যানজটে ভরা ঢাকা শহরে সহজ ও দ্রুততম উপায়ে যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল একটি অতিপরিচিত বাহন। তবে, উন্মুক্ত অবস্থানে বসতে হয় বলে মোটরসাইকেল আরোহীদের দুর্ঘটনার সম্ভবনা বেশি থাকে। তারপরও এর উপযোগিতা, ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য এবং অন্যান্য গাড়ির তুলনায় কম ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে অনেকে মোটরসাইকেলই বেশি পছন্দ করেন।

আপনি যদি নতুন মোটরসাইকেল কিনতে চান, তাহলে দেড় লাখ টাকার মধ্যে ৫টি সেরা মোটরসাইকেল থেকে বেঁছে নিতে পারেন যেকোনোটি। তবে, মনে রাখবেন দোকানভেদে এসব মোটরসাইকেলের দাম কমবেশি হতে পারে।

সুজুকি জিএসএক্স ১২৫ : নিয়মিত ব্যবহারের জন্য সুজুকি জিএসএক্স ১২৫ একটি অসাধারণ বাইক। এটি একটি উৎকৃষ্টমানের কমিউটার বাইক। যেটি ঢাকা শহরের এবড়োথেবড়ো ও জণাকীর্ণ রাস্তায় চলাচলের উপযোগী করে ডিজাইন করা হয়েছে। বাইকটির অসাধারণ বৈশিষ্ট্য ও সামর্থ সুজুকি নামটি অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

মূল্য: ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে। ডিস্ট্রিবিউটর: র‌্যাংকন মোটরস লিমিটেড সিসি: ১২৪ ইঞ্জিন: এয়ারকুলড, ১-সিলিন্ডার ৪-স্ট্রোক ট্রান্সমিশন: ৫ স্পিড ম্যানুয়াল সাসপেনশন: টেলিস্কোপিক (সামনে), হাইড্রোলিক স্প্রিং ড্যাম্পিং (পেছনে) ব্রেক: একক ডিস্ক (সামনে), ড্রাম ব্রেক (পেছনে) এবিএস: নেই।

হোন্ডা সিবি শাইন এসপি : হোন্ডার পুরনো নন-এসপি মডেলকে আপগ্রেড করে সঙ্গে অতিরিক্ত একটি গিয়ার যোগ করে হোন্ডা সিবি শাইন এসপি মডেলটি বাজারে আনা হয়েছে। বাইকটির ডায়মন্ড ফ্রেমের কারণে চালানোর সময় সঠিক হ্যান্ডলিং ও গতিশীলতা নিশ্চিত করে। বাইকটি ‍বিশেষ করে শহরের যাত্রীদের জন্য তৈরি করা। পাশাপাশি সহজ ও আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা রয়েছে। অন্তঃশহর বা এক শহর থেকে অন্য শহরে ভ্রমণের জন্যেও বাইকটি বেশ উপযোগী।

মূল্য: ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে। ডিস্ট্রিবিউটর: বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড সিসি: ১২৫ ইঞ্জিন: এয়ারকুলড, ৪-স্ট্রোক এসআই ইঞ্জিন ট্রান্সমিশন: ৫ স্পিড ম্যানুয়াল সাসপেনশন: টেলিস্কোপিক (সামনে), ৫-পদক্ষেপ অ্যাডজাস্টেবল হাইড্রোলিক শক শোষক (পেছনে) ব্রেক: একক ডিস্ক (সামনে), ড্রাম ব্রেক (পেছনে) সিবিএস ব্রেকিং সিস্টেম এবিএস: নেই।

হোন্ডা ড্রিম ১১০ : হোন্ডা ড্রিম ১১০ বাইকটিকে অন্যতম সাশ্রয়ী একটি বাইক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাইকপ্রেমিদের জন্য হোন্ডা ড্রিম নিওর আপডেট ভার্সন এটি। বাইকটি চালানো খুবই সহজ ও আরামদায়ক। হোন্ডার দাবি, বাইকটিতে প্রতি লিটার জ্বালানীতে ৭৪ কিলোমিটার চলতে পারে। তবে, দেশের সবচেয়ে জ্বালানী-সাশ্রয়ী বাইকগুলোর মধ্যে একটি হলো হোন্ডা ড্রিম ১১০। বাইকটিতে রয়েছে অ্যাডজাস্টটেবল সাসপেনশন, যা বাইকটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাইকটির অসুবিধা হিসেবে বলা যায় কোনো ডিস্ক-ব্রেক নেই, তবে দামের দিক থেকে বেশ সাশ্রয়ী।

মূল্য: ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে। ডিস্ট্রিবিউটর: বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড। সিসি: ১১০। ইঞ্জিন: এয়ারকুলড, ৪-স্ট্রোক বিএস-আইভি। ট্রান্সমিশন: ৪ স্পিড ম্যানুয়াল। সাসপেনশন: টেলিস্কোপিক ফর্ক (সামনে), ৫ ধাপ অ্যাডজাস্টেবল টুইন-স্প্রিং লোডেড (পেছনে)
ব্রেক: ড্রাম ব্রেক (সামনে এবং পেছনে) এবিএস: নেই।

সুজুকি হায়াতে : সুজুকি হায়াতে ১১০ সিসির মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় একটি মোটরসাইকেল এটি। যদিও এটি একটি স্ট্যান্ডার্ড ক্যাটাগরির এন্ট্রি-লেভেল কমিউটার মোটরসাইকেল। বাইকটি টিভিএস মেট্রো প্লাস এবং বাজাজ প্লাটিনার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যাচ্ছে। তবে এর গুণগতমান এবং স্থায়িত্বের কারণে এখনো শীর্ষে রয়েছে। লাইট হ্যান্ডলিং এবং মসৃণ ইঞ্জিনের কারণে বাংলাদেশের ঘিঞ্জি রোড ও ট্রাফিক জ্যামের মধ্যে চালানোর ক্ষেত্রে বেশ আরামদায়ক ও কার্যকর।

মূল্য: ৯৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার টাকার মধ্যে। ডিস্ট্রিবিউটর: র‌্যাংকন মোটরবাইকস লিমিটেড সিসি: ১১০ ইঞ্জিন: এয়ারকুলড, ১-সিলিন্ডার ৪-স্ট্রোক, ২-ভালভ এসওএইচসি ট্রান্সমিশন: ৪ স্পিড ম্যানুয়াল সাসপেনশন: টেলিস্কোপিক, অয়েল ড্যাম্পড কয়েল স্প্রিং (সামনে), সুইং আর্ম টাইপ, অয়েল ড্যাম্পড কয়েল স্প্রিং (পেছনে) ব্রেক: ড্রাম ব্রেক (সামনে এবং পিছনে) এবিএস: নেই।

সুজুকি অ্যাক্সেস ১২৫ : ফুয়েল ইনজেক্ট ইনজিনের কারণে এটি খুবই জ্বালানী-সাশ্রয়ী একটি স্কুটার। বাইকটিতে একটি চমৎকার কম্বি-ব্রেকিং সিস্টেম রয়েছে। যা ভালো ব্রেকিং, সুরক্ষা এবং হ্যান্ডলিংয়ে সহায়তা করে। যারা নতুন করে বাইক চালাচ্ছেন বা নিরাপদে বাইক চালাতে চান তাদের প্রতি লক্ষ্য রেখে এটি তৈরি করা হয়েছে। স্কুটিটি চালানোও খুব সহজ এবং আরামদায়ক।

মূল্য: ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার মধ্যে। ডিস্ট্রিবিউটর: র‌্যাংকন মোটরবাইক লিমিটেড সিসি: ১২৪ ইঞ্জিন: এয়ারকুলড, ১-সিলিন্ডার ৪-স্ট্রোক এসওএইচসি ট্রান্সমিশন: অটো সাসপেনশন: টেলিস্কোপিক, অয়েল ড্যাম্পড কয়েল স্প্রিং (সামনে), সুইং আর্ম টাইপ, অয়েল ড্যাম্পড কয়েল স্প্রিং (পেছনে) ব্রেক: একক ডিস্ক (সামনে), ড্রাম ব্রেক (পেছনে) এবিএস: নেই্।

Leave a Reply Cancel reply